নূরানী চেহারা

From Sunnipedia
Revision as of 04:03, 6 February 2016 by Khasmujaddedia1 (Talk | contribs)

(diff) ← Older revision | Latest revision (diff) | Newer revision → (diff)
Jump to: navigation, search

হুজুর আকরম সাল্লাল্লাহু আলাইয়ে ওয়া সালামের নূরানী চেহারা মোবারক জামালে এলাহির দর্পন ও অসীম নূরের বহিঃপ্রকাশের আধার।

বুখারী ও মুসলিম শরিফে হযরত বারা ইবন আযিব (রাঃ) থেকে বর্নিত হয়েছে, রসুলুল্লাহ (সঃ) মানবকুলের মধ্যে সর্বাধিক সুন্দর ও কমনীয়।

হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদিছে এসেছে, রসুলুল্লাহ (সঃ) এর চেয়ে সুন্দর কোন কিছুই আমার দৃষ্টিগোচর হয় নি।

–হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) তাঁর বক্তব্যে ‘কোন কিছুই দিখিনি’ কথাটি উল্লেখ করেছেন। তিনি কিন্তু কোনো মানুষকে দেখিনি অথবা কোন পুরুষকে দেখিনি—এরূপ বলেননি। তাঁর বর্ননার মধ্যে অধিক ব্যাপকতা রয়েছে। নবী করীম (সঃ) এর আঙ্গিক সৌন্দর্যের আধিক্য বোঝানোই তাঁর উদ্দেশ্য। মোটকথা, মহানবী (সঃ) এর সৌন্দর্য ও কমনীয়তা সমস্ত কিছুর উপর অগ্রগণ্য ছিলো। এমর্মে তিনি আরও বলেছেন, নবী করীম (সঃ) এর নূরানী চেহারাখানা এতো উজ্জ্বল যে, সূর্যের উজ্জ্বলতাও তাঁর কাছে হার মেনেছে। যেমন কবি বলেন, রাতের পর এমন কোন দিবসের অভ্যুদয় ঘটেনি যা মহানবী (সঃ) এর নূরানী চেহারার চেয়ে উজ্জ্বল।–মোটকথা তাঁর নূরানী চেহারার জ্যোতির্ময়তার তুলনায় অন্য সবকিছুর উজ্জ্বলতা নেহায়েতই নগণ্য।

সহীহ বুখারী শরীফের হাদিছে উল্লেখ আছে, হযরত বারা ইবন আযিব (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো, হুজুরে আকরম (সঃ) এর নূরের আভাকে স্বচ্ছতা ও উজ্জ্বলতার দিক দিয়ে কি তরবারির সাথে তুলনা করা যেতে পারে? তিনি বললেন, না । বরং তাঁর চেহারার উজ্জ্বলতা ছিলো চন্দ্রের ন্যায় । তরবারির সাথে তুলনা যথাযথ হতে পারে না। কেননা তরবারিতে গোলাকৃতে অনুবস্থিত। তাই তিনি চেহারা মুবারককে চন্দ্রের সাথে তুলনা করেছেন । চন্দ্রের মধ্যে চাকচিক্য আছে । তদুপরি গোলাকৃতিও বিদ্যমান।

ছহীহ মুসলিম শরীফের বর্ননায় রয়েছে, তিনি (বারা ইব্‌ন আজিব) উত্তরে বললেন, না । বরং হুজুরের চেহারা মোবারক চন্দ্র ও সূর্যের ন্যায় ছিলো । অর্থাৎ গোলাকার । যদিও চন্দ্রের তুলনায় সূর্যের মধ্যে কিরণ ও চাকচিক্য অধিক, তথাপিও চন্দ্রের মধ্যে যে লাবণ্য বিদ্যমান সূর্যের মধ্যে তা নেই । আর লাবণ্য এমন এক সৌন্দর্য যা দেখলে অবর্ননীয় পুলকানুভূতি লাভ করা যায় এবং অন্তর আকৃষ্ট হয়—যার অনুভূতিলাভ কেবল সুস্থ সৌন্দর্যবোধ-বিশিষ্ট ব্যক্তির পক্ষেই সম্ভব । সীরাত বিশেষজ্ঞগণ উজ্জ্বলতা ও লাবণ্য শব্দ দুটির মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করে থাকেন । ছাবাহাত হজরত ইউসুফ (আঃ) এর গুন ছিল আর ‘মালাহাত’ গুনটি হুজুর আকরাম (সঃ) এর শানে প্রযোজ্য হয়ে থাকে । এ মর্মে স্বয়ং হুজুর (সঃ) এরশাদ করেছেন

‘আনা মালিহ ওয়া আঁখি আছবাহ্‌’
—অর্থাৎ আমি লাবণ্যময় আর আমার ভাই ইউসুফ (আঃ) উজ্জ্বল ।

‘নবী করীম (সঃ) এর চেহারা মুবারক গোল ছিল’ একথার অর্থ এই নয় যে, চেহারা বৃত্তের ন্যায় ছিলো । কেননা বৃত্তাকার গোল হওয়াটা রূপ ও সৌন্দর্যের পরিপন্থী । বরং চেহারা মুবারক গোল ছিলো মানে এমন এক ধরনের গোল ছিল যা দেখতে লম্বা নয় । এ ধরনের চেহারা রূপ, লাবণ্য, পৌরুষ ও মহত্ত্বের নিদর্শন । কথিত আছে যে, তাঁর চেহারা মুবারক ছিলো ‘মুকালছাম’ । ‘মুতহাম’ নয় । ‘মুকালছাম’ গোলগাল চেহারাকে বলা হয় । কাযী আয়া (রঃ) কর্তৃক রচিত কিতাবুসশ্‌শিফা গ্রন্থে ‘মুকালছাম’ এর বর্ননা দেয়া হয়েছে । যার চেহারায় চিবুক ছোট হয়ে থাকে তাকে মুকালছাম বলে । আর চিবুক ছোট হওয়া মানে চেহারা গোলগাল হওয়া । কেননা চিবুক লম্বা হওয়ার কাড়নেরই চেহার লম্বাটে হয় । আর ‘মুতহাম’ বলা হয় মাংসল চেহারাকে যা দৃশ্যতঃ স্ফীত বলে মনে হয় ।

অভিধানে ‘মুকালছাম’ শব্দটি বৃত্তাকার ও সমন্বিত অর্থেও এসেছে । আবার অভিধানে উক্ত শব্দটির অর্থ ‘দুর্বল’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে । তবে এ দুটি শব্দই সৌন্দর্যের পরিপন্থী । নবী করীম (সঃ) এর চেহারা মুবারকের এক বর্ননায় এসেছে, তিনি মুলায়েম মৃত্তিকাখন্ড সদৃশ ছিলেন । ‘সহল’ নরম ও সমতল ভূমিকে বলা হয় । কোন কোন বর্ননায় পাওয়া যায় ‘সাইলুল হাদীত’ ‘প্রবাহিত গণ্ড’ । ‘সাইলান’ ‘প্রবাহিত হওয়া’ শব্দ যার উৎপত্তি । মাওয়াহেবে লাদুন্নিয়া কিতাবে হযরত ইবন আছির (রাঃ) এর বর্ননায় পাওয়া যায় اساله درخد ين যার অর্থ গণ্ডদেশ এমন লম্বা ছিল যা উঁচু নয় । বেরিয়ে পড়ে এমন নয় ।

শায়েখ ইবন হাজার আছকালানী (রঃ) বলেন, উপরোক্ত বর্ননা অনুসারে প্রত্যেকের এ অনুসন্ধিৎসা হওয়া স্বাভাবিক যে, নবী করীম (সঃ) এর চেহার মুবারক তরবারির মতো ছিলো কিনা ? ব্যাপারটি চিন্তা ভাবনার দাবী রাখে ।

কোনো কোনো হাদিছে নবী করিম (সঃ) এর চেহারা মুবারকের উপমা স্বরূপ ‘এক ফালি চাঁদ’ বা ‘অর্ধচন্দ্র’ ইত্যাদির বর্ননা এসেছে । বিভিন্ন কবিতায় এরকম উপমা উপস্থাপন করা হয়েছে । হযরত কা’ব ইবন মালিক (রাঃ) যিনি সাহাবাগনের মধ্যে অন্যতম বিখ্যাত কবি ছিলেন—তার কবিতায়ও এ ধরনের উপমা দৃষ্টিগোচর হয় । কাজেই এর প্রয়োগ ও যথার্থতার ব্যাপারে একটি সামঞ্জস্যশীল সমাধানে পৌঁছানো উচিৎ । সুতরাং সমাধানস্বরূপ কেউ কেউ এরকম বলেছেন যে, উপরোক্ত উপমাসমূহ দ্বারা হুজুর পাক (সঃ) কখনো কারো প্রতি পূর্ন অভিমুখী হয়েছেন বা কারও প্রতি আংশিকভাবে মুখ ফিরিয়েছেন—সকল অবস্থাগুলিকেই বুঝানো হয়েছে । এজাতীয় সমাধানের পক্ষে সহায়ক দলীল স্বরূপ তিবরানী শরীফে প্রাপ্ত হজরত যুবায়ের ইবন মুত’ইম (রাঃ) এর হাদিছখানি গ্রহণ করেছেন । তিনি বলেন, একদা রসুলুল্লাহ (সঃ) আমাদের দিকে এমনভাবে মুখ ফিরিয়ে তাকালেন, মনে হল যেন একখানা অর্ধচন্দ্র বা একফালি চাঁদ , — এজাতীয় যে উপমাগুলি উপস্থাপন করা হয়েছে, তা হুজুর পাক (সঃ) এর ললাট মুবারকের উপমা । অর্থাৎ তাঁর ললাটখানি ছিল যেমন একফালি চাঁদ ।

ছহীহ বুখারী শরীফে হযরত কা’ব ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিত আছে, রসুলুল্লাহ (সঃ) এর ললাট মুবারকে যখন ভাঁজ পড়তো তখন চেহারা মুবারক চন্দ্রের ফালির মতো ঝকমক করতো ।

‘সাররাহ’ নামক আরবী অভিধানে ‘দু ফাতহাযোগে’ শব্দটির অর্থ লিখা হয়েছে ‘ললাটে ভাঁজ পড়া’ ।

তাঁর বহুবচন হচ্ছে ‘আসরার’ আর মুনতাহাল জমু হচ্ছে ‘আসারীর’ । হাদীস শরীফে শব্দটি পাওয়া যায়, তাঁর নূরানি কপাল মুবারকের ভাঁজগুলি চমকাতে থাকত । হুজুর পাক (সঃ) এর চেহারা মুবারককে একফালি চাঁদের সাথে উপমা দেয়ার ব্যাপারটিকে কেউ কেউ এভাবে সমাধান দিয়েছেন যে, এক ফালি চাঁদে যেরূপ কলঙ্ক খুঁজে পাওয়া যায় না, তেমনি হুজুর পাক (সঃ) এর চেহার মুবারক ছিল কলঙ্কহীন । এধরনের সমাধান অবশ্য দুর্বল তাতে সন্দেহ নেই । কেননা, কোনকিছুর সৌন্দর্যকে যখন চন্দ্রের সাথে তুলনা করা হয়, তখন চন্দ্রের কলঙ্ককে বাদ দিয়ে শুধু তাঁর জ্যোতির্ময়তাকেই বুঝানো হয়ে থাকে ।


সাইয়্যেদুনা হজরত আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) বর্ননা করেছেন, রসুলুল্লাহ (সঃ) এর চেহারা মুবারক ছিল আলোকোজ্জ্বল বৃত্তাকার চন্দ্রের ন্যায় ।

‘দায়রায়ে কামার’ বলা হয় পুর্নিমার চন্দ্রকে । ফার্সি ভাষায় যাকে বলা হয় খিরমন শাহ্‌ । (আল্লামা শায়েখ আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী (রঃ) বলেন, আমার চন্দ্রের জ্যোৎস্নাকে এবং তাঁর আলোকময় বৃত্তকে দেহের সাথে তুলনা করার মাধ্যমে হুজুর পাক (সঃ) এর চেহারার ঐ আভার প্রতিই প্রকাশ্যভাবে ইঙ্গিত করা হয়েছে যা নূরের আকৃতিতে চন্দ্রের বৃত্তের ন্যায় চেহারা মুবারককে বেষ্টন করে নিয়েছে । উপমা প্রদান করাটা হচ্ছে হুজুর পাক (সঃ) এর নূরের ধারার পূর্ন কিরণ, তাঁর মহত্ত্বের ভাবগাম্ভীর্যতা এবং শান শওকত প্রকাশের একটা পদ্ধতি মাত্র । চেষ্টা করে ও লক্ষ্য করে দেখতে হবে, উক্ত উপমার প্রতি আত্মিক দৃষ্টি প্রদান করার পর কি অবস্থা উদ্ভাসিত হয় । আর দৃষ্টিপাতকারীর দৃষ্টিতে তাঁর সৌন্দর্য ও শান শকট কিভাবে প্রতিভাত হয় । কেননা এ আত্মিক দৃষ্টি নয়নযুগলকে পরিতৃপ্ত করে আর অন্তরকে মহানবী (সঃ) এর প্রেমভালবাসা ও আজমতের নূর দ্বারা কানায় কানায় ভরপুর করে দেয় ।

হযরত কা’ব ইবনে মালিক (রাঃ) এর হাদিছেও ‘চন্দ্রের বৃত্ত’ এই উপমা এসেছে সেগুলি দ্বারা সাধারণতঃ পূর্নিমার চন্দ্র বুঝানো হয়েছে এবং এটাই প্রসিদ্ধ । যেমন

ইমাম বায়হাকী (রঃ) হজরত আবু ইছহাক থেকে বর্ননা করেছেন, একদা এক হামাদানি মহিলা আমাকে বললেন, আমি রসুলুল্লাহ (সঃ) এর সঙ্গে হজ্জ করেছি । তা শুনে আমি তাকে বললাম, তাহলে তার চেহার মুবারকের বর্ননা দাও দেখি । তখন মহিলাটি বললেন, চেহারা মুবারক পূর্নিমার শশীর ন্যায় সুন্দর । আমি এরূপ সৌন্দর্য পূর্বেও দেখিনি । পরেও দেখিনি ।

অনুশীলনকারী সন্ধানী সর্বদাই তাঁর ললাটে নূরের জ্যোতির্ময় ধারাকে আত্মিক দর্শনের মাধ্যমে অবলোকন করে শুক্লপক্ষের রজনীর ন্যায় প্রাপ্ত হতেন । এমন আত্মিক দর্শন থেকে কখনও অমনোযোগী হতেন না, কখনো বিচ্ছিন্ন হতেন না। কেননা ‘দিদার’ হচ্ছে নগদলভ্য ।


হজরত ইবনে হালা (রাঃ) বর্নিত হাদিসে আছে, দর্শনকারীর দৃষ্টিতে হুজুর পাক (সঃ) ছিলেন একজন মহিমান্বিত ব্যক্তিত্ব । তাঁর চেহার মুবারক পুর্নিমার শশীর ন্যায় ঝকমক করতো ।

দু’জাহানের সৌন্দর্য হুজুর পাক (সঃ) কে সূর্যের সাথে উপমা না দিয়ে চন্দ্রের সাথে উপমা দেয়ার কারন সম্পর্কে সীরাত বিশেষজ্ঞগণ অভিমত প্রদান করেছেন । তারা বলেন, চন্দ্র তাঁর জ্যোৎস্নার মাধ্যমে চোখকে শীতল করে । হৃদয়কে পুলকানুভুতি প্রদান করে । মন আনে প্রেমভালবাসা এবং অনুভবে আনে পরম আস্বাদ । জ্যোৎস্নার প্রতি দৃষ্টিপাত করে সম্ভব । কিন্তু সূর্যের আলোর দিকে তাকানো সম্ভব নয় । এতে চোখ ঝলসে যায় । অন্তরে বিস্বাদ সৃষ্টি হয় । অবশ্য হুজুর পাক (সঃ) এর ব্যক্তিত্ব মহান গুণাবলীর প্রকাশস্থল । শান শওকত ও অবিসংবাদী কর্তৃত্বের দিক দিয়ে তিনি সূর্যের মতো । পৃথিবীপ্লাবী আলোর ছটায় সূর্য যেমন জগতকে বেষ্টন করে নেয় । তিনিও তেমনি তাঁর নূরের কিরণের মাধ্যমে সারা জাহানকে বেষ্টন করে নিয়েছেন । মহানবী (সঃ) এর ব্যক্তিসত্ত্বার হকিকতের (প্রকৃত তত্ত্বের) রহস্য অবহিত হতে মানুষ অক্ষম । এ দিক দিয়েও তিনি সূর্যের মতো । দূরবর্তী বা নিকটবর্তী যে কেউ হোক না কেনো, তাঁর মর্যাদা ও পূর্নতার শেষপ্রান্ত সম্পর্কে অবহিত হতে বা অনুধাবন করতে সকলেই অক্ষম ও সামর্থহীন—এদিক দিয়েও তাকে সূর্যের সাথে তুলনা করা যেতে পারে । যেমন কবির ভাষায় বলা হয়েছে, ‘মোহাম্মদ (সঃ) এর যথাযথ মর্যাদা নিরুপন করতে সৃষ্টিজগত অক্ষম ।’ দূরের ও নিকটের কেউই তাঁর প্রকৃত পরিচিতি লাভ করতে পারে না । তিনি এক সূর্যতুল্য মহান সত্ত্বা, যা দূর থেকে ক্ষুদ্রাকৃতিতে মানুষের দৃষ্টিতে প্রতিভাত হয় । কিন্তু সোজাসুজি কেউ যদি তাঁর প্রতি দৃষ্টিনিক্ষেপ করে তাহলে দৃষ্টি অবসন্ন হয়ে যাবে । ফলকথা তিনি হচ্ছেন এমন এক উজ্জ্বল রবি, যার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করতে সৃষ্টিকুল অক্ষম ।

এক বিশেষ দৃষ্টিকোণ থেকে এসেছে সূর্যের উপমা । তবে অবলোকন ও অনুভূতির দিক দিয়ে চন্দ্রের উপমাই শোভনীয় ।

মাওয়াহিবে লাদুন্নিয়ায় নেহায়া কিতাব থেকে সঙ্কলিত হয়েছে, হুজুর পাক (সঃ) যখন আনন্দিত হতেন, তখন তাঁর চেহারা মুবারক আয়না সদৃশ হয়ে যেতো । এমনকি দেয়াল দরোজার নক্‌শা এবং মানুষের চেহারার প্রতিবিম্ব তাতে ঝলমল করতে থাকতো ।


হজরত জাবের ইবন সামুরাহ (রাঃ) বলেন, একদা এক চাঁদনী রাতে আমি হুজুর পাক (সঃ) কে দেখলাম তখন তাঁর শরীর মুবারকের উপর দু’খানি লাল কাপড় ছিল । আমি কখনো তাঁর দেহ মুবারকের প্রতি তাকাই আবার কখনো চাঁদের জ্যোৎস্নার প্রতি তাকাই । আল্লাহ্‌র কসম চাঁদের উজ্জ্বলতা অপেক্ষা রসূলে পাক (সঃ) কেই আমার কাছে বেশী সুন্দর মনে হলো ।

বর্ননাকারী সাহাবী ‘আমার কাছে’ শব্দটিতে নবী করীম (সঃ) এর রূপলাবণ্যের দ্বারা তিনি যে পরম আস্বাদ উপভোগ করছিলেন তাঁর ইঙ্গিত খুঁজে পাওয়া যায় । এটি তাঁর আনন্দ উপভোগের বহিঃপ্রকাশ বটে । তবে প্রকৃত অবস্থাও এর ব্যতিক্রম নয় । রসূল (সঃ) এর রূপ লাবণ্য সর্বোপরি—এতে কোন সন্দেহ নেই ।

হুজুর আকরাম (সঃ) এর উন্নত মানের গুণাবলী কবিত্বের দৃষ্টিকোণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা কাব্যিক ধারনা ও স্বভাবের অন্তর্গত । নতুবা তাঁর চারিত্রিক সৌন্দর্যাবলী এবং আঙ্গিক গুণাবলীর তুলনা তো হতেই পারে না ।

তথ্যসূত্র