এই সুন্নিপিডিয়া ওয়েবসাইট পরিচালনা ও উন্নয়নে আল্লাহর ওয়াস্তে দান করুন
বিকাশ নম্বর ০১৯৬০০৮৮২৩৪

ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) * কারবালার ইতিহাস * পিস টিভি * মিলাদ * মাযহাব * ইলমে গায়েব * প্রশ্ন করুন

বই ডাউনলোড

আইএসআইএলের উত্থানের ইতিহাস

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search

কয়েক বছর আগের একটি দৃশ্য হয়তো অনেকেরই মনে আছে। ওই দৃশ্যে দেখা যায় তত্কালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ সৌদি বাদশাহ আয়োজিত এক ভোজসভায় তলোয়ার নিয়ে বাদশাহর সঙ্গে নাচছেন। সেই তরবারি ছিল একটি বিশেষ অবস্থার প্রতীক ও আভাস।

আজ মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম জনগণ মুসলিম নামধারী একদল সন্ত্রাসীর হাতেই নিহত হচ্ছে! মৃত্যুর ব্যবসায়ীদের প্রেতাত্মারা সেখানে নিরপরাধ মানুষের মাথা দিয়ে ফুটবল খেলছে। হত্যা ও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে মুসলিম মেয়েরা কথিত জিহাদিদের হাতে!

এ অবস্থায় প্রকৃত ইসলাম ও ধর্মান্ধদের সন্ত্রাসী ইসলামের পার্থক্য তুলে ধরা জরুরি হয়ে পড়েছে। পাশ্চাত্য প্রকৃত ইসলামি জাগরণকে সন্ত্রাসী ইসলামের মাধ্যমে প্রতিহত করতে চায়, যাতে নিরাপদ থাকে বিশ্বব্যাপী তাদের লুণ্ঠন ও দখলদার ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসী তত্পরতা। আর ইসলাম সম্পর্কে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিতে পারলে পাশ্চাত্যে অমুসলিমদের ইসলাম গ্রহণের হিড়িকও কমে আসবে বলে ইসলামের শত্রুরা আশা করছে।

তথাকথিত মুসলিম সন্ত্রাস নিয়ে পাশ্চাত্য, বিশেষ করে হলিউড নানা ছায়াছবিও নির্মাণ করছে। তবে সম্প্রতি পাশ্চাত্যের গোপন ও প্রকাশ্য-মদতপুষ্ট সন্ত্রাসী দল আইএসআইএলের উত্থান কোনো চলচ্চিত্র নয়; বরং বাস্তব ঘটনা।

সন্ত্রাসী দল আল-কায়দার নতুন সংস্করণ ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড লিভান্ট, সংক্ষেপে আইএসআইএল একটি ওয়াহাবি-সালাফি জঙ্গি সংগঠন। গ্রুপটির নাম থেকেই বোঝা যায় উগ্র বা কথিত সালাফি ইসলামের ভিত্তিতে ইরাক ও আশশাম তথা বৃহত্তর বা প্রাচীন সিরিয়ায় (লেবানন ও ফিলিস্তিনসহ) একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা গ্রুপটির উদ্দেশ্য।

অনেকেই মনে করেন, আফগানিস্তানে সাবেক সোভিয়েত দখলদারিত্ব ও প্রভাব মোকাবিলার জন্য আমেরিকাই বিন লাদেনকে দিয়ে গঠন করিয়েছিল আল-কায়দা এবং আরো পরে তালেবান।

তালেবান ও আল-কায়দাকে দ্বিমুখী বা ত্রিমুখী কাজে ব্যবহার করেছে সিআইএ। প্রথমত ইসলামের নাম ভাঙিয়ে একশ্রেণীর যুবককে শত্রুর বিরুদ্ধে ব্যবহার করা, দ্বিতীয়ত প্রথম উদ্দেশ্য হাসিলের পর তথা সরলমনা ধর্মান্ধ যুবকদের ব্যবহার করার পর ইসলামের নামে ধর্মান্ধতার বিস্তার ও জঙ্গিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে ইসলাম সম্পর্কে আতঙ্ক ও খারাপ ধারণা ছড়িয়ে দেয়া এবং তৃতীয়ত এদের সন্ত্রাসী তত্পরতায় ব্যবহার করে সেই একই সন্ত্রাস দমনের নামে দেশে দেশে হস্তক্ষেপ করতে সক্ষম হয় আমেরিকা।

যা হোক, ২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন হামলার সময় সর্বপ্রথম গঠিত হয়েছিল আইএসআইএল গ্রুপ। তখন গ্রুপটির নাম ছিল ইসলামিক স্টেট অব ইরাক। ২০০৬ সালের ১৫ অক্টোবর বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার পর আইএসআইর আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশের কথা ঘোষণা করা হয় এবং আবু ওমর আল-বাগদাদি গ্রুপটির নেতা বলে জানানো হয়।

২০১০ সালের ১৯ এপ্রিল আবু ওমর নিহত হলে আবু বকর আল-বাগদাদি এই জঙ্গি গ্রুপটির নতুন প্রধান হন এবং মধ্যপ্রাচ্যে গ্রুপটির বিস্তার শুরু হয়। ‘নয়া বিন লাদেন’ নামে খ্যাত বাগদাদিকে ধরিয়ে দেয়ার জন্য মার্কিন সরকার ১০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। বাগদাদি ২০০৫ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ইরাকের উম্মে কাসর শহরে একটি মার্কিন কারাগারে বন্দি ছিলেন। ২০০৩ সালের আগেও তিনি আল-কায়দার সদস্য ছিলেন বলে মনে করা হয়। তাকেসহ হাজার হাজার চরমপন্থী বন্দিকে মুক্তি দেয়া হয় উম্মে কাসর শহরের ‘বুকা’ কারাগার থেকে। বাগদাদির আসল নাম ছিল আবু দায়া। ২০০৫ সালে তাকে হত্যা ও অপহরণসহ নানা ধরনের সন্ত্রাসী তত্পরতার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ইরাকি নাগরিকদের অপহরণের পর আবু দায়া তাদের বিরুদ্ধে এক গাদা অভিযোগের ফিরিস্তি শুনিয়ে প্রকাশ্যে ফাঁসি দিতেন।

বাগদাদি ২০১১ সালে বাগদাদের একটি মসজিদ বিস্ফোরক দিয়ে উড়িয়ে দেন। এছাড়া তিনি ইরাকের সুন্নিদের প্রতিনিধি বা নেতা হিসেবে খ্যাত খালেদ আল ফাহদাওয়িকেও হত্যার জন্য অভিযুক্ত হন।

ইরাকের কয়েকটি আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলতে দক্ষ বাগদাদি এখন ছায়ামূর্তির মতো গোপনে বিচরণ করেন এবং তার কর্মী ও ভক্তরাও খুব কমই তাকে দেখতে পেয়েছেন। তিনি প্রায় সব সময়ই তার মুখ ঢেকে রাখেন যাতে কেউ তাকে চিনতে না পারেন। আল-কায়দার অন্য যে কোনো নেতার চেয়ে আবু বকর বাগদাদি অনেক বেশি উগ্র চিন্তাধারায় বিশ্বাসী বলে জানা গেছে।

সিরিয়ায় কট্টর ইসরাইলবিরোধী আসাদ সরকারকে উত্খাতের লক্ষ্যে পাশ্চাত্য, ইসরাইল এবং তাদের আঞ্চলিক সেবাদাস সরকারগুলোর মদতপুষ্ট সন্ত্রাসী ও বিদ্রোহীদের মাধ্যমে যুদ্ধ শুরু হলে আইএসআইও বিদ্রোহীদের পক্ষে যোগ দিয়ে এ যুদ্ধে অংশ নেয়। গ্রুপটি পরে তার নাম পরিবর্তন করে বর্তমান নাম ধারণ করে।

সিরিয়ায় ২০১১ সালে গঠিত আন নুসরা ফ্রন্টও আইএসআইএলের একটি শাখা হিসেবে দেশটির সরকারি সেনাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে থাকে। ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে আবু বকর আল-বাগদাদি এক অডিও বার্তায় জানিয়ে দেন যে ‘জিবহাতুন নুসরা’ বা ‘আন নুসরা ফ্রন্ট’ আইএসআইর অর্থ ও সহায়তা নিয়েই গঠিত হয়েছে এবং এই দুই গ্রুপ একত্র হয়ে আইএসআইএল নাম ধারণ করেছে।

কিন্তু এই দুই গ্রুপের মধ্যে শুরু হয় ক্ষমতা নিয়ে অন্তর্দ্বন্দ্ব। দুই গ্রুপের সদস্যরা পরস্পরের সঙ্গে যুদ্ধ করতে থাকলে উভয় গ্রুপের কাছে শ্রদ্ধেয় আল-কায়দার নেতা (আইমান আল জাওয়াহেরি) সিরিয়ার জন্য আন নুসরা ফ্রন্টকেই নিজের প্রতিনিধি বলে ঘোষণা করেন এবং আন নুসরার নেতার আনুগত্য করতে বাগদাদিকে নির্দেশ দেন।

আইএসআইএলের যোদ্ধারা গত ১০ জুন ইরাকের নেইনাভা প্রদেশের প্রধান শহর মসুলের বেশিরভাগ এলাকা দখল করে নেয়। শহরটি জনসংখ্যার দিক থেকে ইরাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। এছাড়া তারা দখল করে ফাল্লুজা ও সাদ্দামের জন্মভূমির শহর তিকরিত। তিকরিত সালাহউদ্দিন প্রদেশের প্রধান শহর।

সর্বশেষ খবর অনুযায়ী সরকারি ও গণবাহিনীর হামলার মুখে এসব অঞ্চলের বহু স্থান থেকে বিতাড়িত হয়েছে আইএসআইএলের সেনারা। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকিসহ অনেক কর্মকর্তা বলেছেন, ইরাকের একদল সেনা কর্মকর্তাকে ঘুষ দেয়ায় এক ষড়যন্ত্রমূলক সমঝোতার আওতায় এই প্রদেশের ৫০ হাজারেরও বেশি সরকারি সেনা কোনো ধরনের বাধা না দিয়েই সন্ত্রাসীদের কাছে শহরটির প্রধান সরকারি ভবন, অস্ত্রাগার, ব্যাংক ও কারাগারগুলোর নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেয়।

২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে আইএসআইএল সিরিয়ার রাক্কা শহরে অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে আসাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী কথিত ফ্রি-সিরিয়ান আর্মির সেনাদের বিতাড়িত করে। সেখানে জঙ্গি এই গ্রুপ একটি স্থায়ী ঘাঁটিও গড়ে তোলে। রাক্কার জনগণের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয় নানা ধরনের কঠোর ও চরমপন্থার শাসন। ফলে সেখানে প্রায়ই প্রকাশ্যে ঘটেছে হত্যাযজ্ঞ ও নানা ধরনের কঠোর শাস্তি, যার শিকার হয়েছে নিরপরাধ বেসামরিক সিরীয় জনগণ। ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে সিরিয়ার বিদ্রোহীদের সমর্থক সিরীয় মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থা বা এসওএইচআর বলেছে, আইএসআইএল হচ্ছে উত্তর সিরিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী গ্রুপ।

আইএসআইএল-কে আমেরিকা ও ইসরাইল ছাড়াও অর্থ, অস্ত্র, রসদ ও গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা দিচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি সরকার। মসুলে এই জঙ্গি দলটির অভিযানের পর ইরাকি কর্মকর্তারা সৌদি ও তুর্কি গোয়েন্দা সংস্থাকে এবং ইরাকের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট তারিক আল হাশিমিকে এই অভিযানের নেপথ্য পরিচালক বলে অভিযোগ করেছে। হাশিমি আইএসআইএলের উত্থানকে ইরাকি জনগণের স্বপ্নের বিপ্লব বলে দাবি করেছেন।

ইরাকের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে এক মহাষড়যন্ত্রের আওতায় অস্থিতিশীল করার জন্যই সন্ত্রাসীরা ইরাকে প্রকাশ্য যুদ্ধ শুরু করেছে। একদল বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, ইরাকে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত ও সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিপুল ভোটে পুনরায় জয়ী হওয়া নুরি আল-মালিকির রাজনৈতিক জোটকে ক্ষমতাচ্যুত করার এক মহাষড়যন্ত্র করছে দেশি-বিদেশি কয়েকটি চক্র। আর এসব চক্রের মদতদাতারা হলো ইসরাইলি, মার্কিন, তুর্কি, কাতারি ও সৌদি সরকার। তারা ইরাকে সিসির মতো কোনো ব্যক্তিকে ক্ষমতায় বসাতে চান। এই সরকারগুলো ইরাকের আগে সিরিয়ায়ও বিনা অপরাধে বেসামরিক সাধারণ মুসলমানদের কাফির বলে হত্যা করতে অভ্যস্ত ওয়াহাবি-সালাফি মতবাদে বিশ্বাসী আইএসআইএল ও আল-কায়দাসহ বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী দলকে অস্ত্র, অর্থ, প্রশিক্ষণ ও গোয়েন্দা সহযোগিতাসহ সব ধরনের সহায়তা দিয়ে এসেছে।

আইএসআইএলের কিছু বৈশিষ্ট্য :

  • তাদের বেশিরভাগই হচ্ছে বহিরাগত অর্থাত্ বিদেশি এবং তাদের খুব কমসংখ্যকই ইরাকের অধিবাসী। এদের প্রতি রয়েছে সৌদি দরবারি ওয়াহাবি মুফতিদের সমর্থন। ওয়াহাবিদের মতে, তারা নিজেরা ও হাম্বলি মাজহাবের অনুসারী ছাড়া হানাফি ও অন্য মাজহাবগুলোর সব ইমাম ও তাদের অনুসারীরা সবাই কাফির এবং এদের হত্যা করা বৈধ। অর্থাত্ সুন্নি ও শিয়া সবাই কাফির এবং এদের হত্যা করা বৈধ। আইএসআইএলের সন্ত্রাসীদের প্রত্যেককেই প্রতি মাসে ১ হাজার থেকে দেড় হাজার ডলার বেতন দেয়া হয়। এত বিপুল পরিমাণ অর্থ সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত ও আরব আমিরাত জোগান দিয়ে যাচ্ছে।
  • এসব সন্ত্রাসী যেসব অঞ্চল দখল করেছে, সেখানেই নৃশংস ও জঘন্য হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। নারী, শিশু, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা কাউকে এরা রেহাই দেয়নি। শুধু তা-ই নয়, এর আগে সিরিয়ায় দেখা গেছে, এসব সন্ত্রাসী মানুষ হত্যা করে নিহতদের বুক ও পেট চিরে হৃিপণ্ড, কলিজা ইত্যাদি বের করে এনে চিবিয়ে খেয়েছে এবং এসব দৃশ্যের সচিত্র ভিডিও ফুটেজও এরা প্রকাশ করেছে ইন্টারনেটে।
  • আইএসআইএলের সেনারা এরই মধ্যে তাদের দখল করা অঞ্চলে হাজার হাজার বন্দি সেনাকে নির্মমভাবে হত্যা করে সেসবের ছবি ইন্টারনেটে পোস্ট করেছে। তাদের সেনারা নানা অঞ্চলে ইরাকি নারীদের ধর্ষণ করেছে বলেও খবর এসেছে। আইএসআইএলের আধ্যাত্মিক উত্সাহদাতা ওয়াহাবি মুফতিদের ফতোয়া অনুযায়ী বিজিত অঞ্চলের নারীদের স্ত্রীর মতো ব্যবহার করা হালাল বা বৈধ।
  • এরই মধ্যে মসুলে জোর করে নারীদের বিয়ের অথবা ধর্ষণের ঘটনার পর চার নারী আত্মহত্যা করেছে বলে খবর দিয়েছে জাতিসংঘ।
  • ইরাকে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা বিদেশি মদতপুষ্ট সন্ত্রাসী দল আইএসআইএল মসুলে ১২ সুন্নি আলেমকে হত্যা করেছে। দলটির প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানানোয় এই ১২ সুন্নি আলেমকে তারা নৃশংসভাবে হত্যা করেছে বলে গত শনিবার আল-ইরাকিয়া টিভি খবর দিয়েছে।
  • অন্য এক ঘটনায় আইএসআইএলের সন্ত্রাসীরা মসুলের কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমামকে হত্যার পর তার লাশ টুকরো টুকরো করে। তাদের দৃষ্টিতে ওই ইমামের অপরাধ ছিল— তিনি তাদের দলে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। স্থানীয় আলেমরা এই নৃশংস ঘটনা ঘটার কথা জানিয়েছেন।
  • আইএসআইএলের সন্ত্রাসীরা ইসলামসহ নানা ধর্মের অনুসারীদের পবিত্র স্থানগুলোকে ধ্বংস করছে এবং লুটপাট ও নির্বিচার গণহত্যায় লিপ্ত হচ্ছে। অথচ পবিত্র ধর্ম ইসলাম যুদ্ধকবলিত অঞ্চলে বেসামরিক পুরুষ, নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের হত্যা তো দূরের কথা, সেখানকার গাছপালা, ফসল, ক্ষেত-খামার, পশু, পানি ও পরিবেশের ক্ষতি করাকেও নিষিদ্ধ করেছে। এমনকি ইসলামি নীতি অনুযায়ী যুদ্ধবন্দি বা আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিকেও হত্যা করা নিষিদ্ধ। আন্তর্জাতিক আইন ও রীতি ছাড়াও জাহেলি যুগেও আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিকে হত্যা করা কাপুরুষোচিত কাজ বলে বিবেচিত হতো।
  • ইসলাম যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত কাফির বা অবিশ্বাসী ব্যক্তির লাশকে বিকৃত করাও নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু আইএসআইএলের সন্ত্রাসীরা যুদ্ধে নিহত সেনাদের লাশ বিকৃত করা, গাড়ি-চাপা দেয়া ও পদদলিত করা ছাড়াও নিহতদের মাথাকে ফুটবল বানিয়ে ক্রীড়া-কৌতুক করার মতো পৈশাচিক উল্লাসে মেতে উঠেছে।
  • পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, কেউ যদি একজন নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করে তাহলে সে যেন গোটা মানবজাতিকে হত্যা করল।
  • আইএসআইএলের সন্ত্রাসীদের অনেকেই আরব দেশগুলোতে হত্যাকাণ্ড ও ডাকাতির মতো সন্ত্রাসী তত্পরতায় জড়িত হওয়ায় তাদের মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মতো কঠোর শাস্তি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিদেশে গিয়ে কথিত জিহাদের নামে সন্ত্রাসী তত্পরতা চালানোর শর্তে এদের মুক্তি দেয়া হয়েছে।
  • এসব তাকফিরি সন্ত্রাসী, যারা নিজেদের জিহাদি বা মুজাহিদ বলে দাবি করে, তারা ফিলিস্তিন দখলদার ইহুদিবাদী ইসরাইলের দিকে ভুলেও একটি গুলি ছোড়েনি। একজন ইসরাইলি সেনাকেও হত্যা করেনি। অথচ এসব সৌদি কাতারি তুর্কি মার্কিন ইঙ্গ ফরাসি জার্মান সমর্থনপুষ্ট তাকফিরি (সালাফি) ওয়াহাবি সন্ত্রাসী যেমনিভাবে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ইরাকে (ওয়াহাবি নয় এমন) লাখ লাখ নিরীহ মুসলমানকে হত্যা করছে, ঠিক একইভাবে তারা সিরিয়ায়ও যারা ওয়াহাবি মতাবলম্বী নয়, তাদের মধ্য থেকে গত তিন বছরে হাজার হাজার মুসলমান ও অন্য ধর্মাবলম্বীকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে!
  • এসব বিদ্রোহী ও তাকফিরি ওয়াহাবি (সালাফি) সন্ত্রাসী গ্রুপ ও সংগঠন যেমন সৌদি কাতারি তুর্কি শাসকগোষ্ঠী সমর্থিত ও সাহায্যপ্রাপ্ত ঠিক তেমনি তারা সাম্রাজ্যবাদী বিধর্মী পাশ্চাত্যেরও সমর্থন ও সাহায্যপ্রাপ্ত!
  • এরা সবাই অত্যন্ত নিষ্ঠুর, হিংস্র ও পাশবিক চরিত্রের বরং পশুর চেয়েও অধম। কারণ এদের অনেকেই বন্দিদের হত্যা করে তাদের দেহ চিরে-ফেঁড়ে হৃিপণ্ড কলিজা ইত্যাদি চিবিয়ে খেয়েছে, যা আমরা আগেও উল্লেখ করেছি।
  • এদের প্রতি আপামর ইরাকি ও সিরীয় জনগণের কোনো সমর্থন নেই।
  • এদের নিজেদের মধ্যেও কোনো ঐক্য নেই আর এ কারণে এরা প্রায়ই পরস্পর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। আর খোদা না করুক, এরা কোথাও ক্ষমতাসীন হলে এই সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর মধ্যে আরও সর্বাত্মক, ব্যাপক ও মারাত্মক স্থায়ী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও গৃহযুদ্ধ চলতেই থাকবে। এরা সিরিয়ায় সাহাবিদের মাজার ধ্বংস করেছে। ইরাকেও নবীবংশের দুই ইমাম তথা বিশ্বনবী (সা.) আহলে বাইতের সদস্য হজরত ইমাম হাসান আসকারী (আ.) ও ইমাম আলী নাকী (আ.)-এর মাজারের গম্বুজ ধ্বংস করেছিল। এরা বিশ্বনবীর নাতি ও কারবালা বিপ্লবের মহানায়ক হযরত ইমাম হুসাইন (আ.)-এর মাজার ধ্বংসের প্রতিজ্ঞা করেছে। এরাই সিরিয়ায় হজরত ইমাম হুসাইন (আ.)-এর বোনের মাজারে হামলা করেছে, তিন-চার বছরের মুসলিম শিশুকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করেছে, দুই কুর্দির গায়ে পেট্রল ঢেলে আগে থেকে জ্বালানো আগুনে পুড়িয়ে মেরেছে ও তার ভিডিও প্রচার করেছে, গর্ভবতী মুসলিম নারীর পেট চিরে শিশু বের করে উভয়কে হত্যা করেছে, বন্দি শিশুকে দিয়ে যুবক বন্দিকে হত্যা করে তার ভিডিও প্রচার করেছে, কিশোরদের ধরে এনে হত্যা করেছে এবং বহু বেসামরিক লোককে নৃশংসভাবে হত্যা করে তাকফিরি-ওয়াহাবি ইসলামের কথিত বীরত্বের ভিডিও প্রচার করেছে। এসবই ইরাক ও সিরিয়ায় যুদ্ধরত সন্ত্রাসীদের পাশবিকতার আরো কিছু প্রমাণ।

তথ্যসূত্র