এই সুন্নিপিডিয়া ওয়েবসাইট পরিচালনা ও উন্নয়নে আল্লাহর ওয়াস্তে দান করুন
বিকাশ নম্বর ০১৯৬০০৮৮২৩৪

ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) * কারবালার ইতিহাস * পিস টিভি * মিলাদ * মাযহাব * ইলমে গায়েব * প্রশ্ন করুন

বই ডাউনলোড

আকাশের দুয়ার বন্ধ হয়ে গেল

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
মুহাম্মাদ (সঃ) এর মুজিজা সমূহ 2




  • আকাশের দুয়ার বন্ধ হয়ে গেল

























হযরত ইব্ন আব্বাস (রা) রেওয়ায়েত করেন, হযরত ঈসা (আ)-এর পর এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর পূর্ব পর্যন্ত সময়টায় আকাশে কোন প্রহরা ছিল না। শয়তানেরা আকাশের বিভিন্ন ঘাঁটিতে গিয়ে বসে থাকত। (এবং অদৃশ্য জগতের খবরাখবর সংগ্রহ করত। এজন্যই এ সময়টায় জ্যোতিষীদের গণনাকার্য ব্যাপকতা লাভ করে এবং মানুষ এদের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে)। যখন আল্লাহ্ তা’আলা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে প্রেরণ করেন, তখন আকাশের প্রহরার জন্য পাহারা বসানো হয়। (এবং জ্যোতিষীদের কাজ- কারবার বন্ধ হয়ে যায়,আগুনো গোলা নিক্ষেপের ফলে) শয়তানরা নিহত হতে থাকে।

হযরত ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে আরও বর্ণিত আছে- শয়তানরা আকাশের দিকে আরোহণ করত, ওহীর বিষয়বস্তু শ্রবণ করত এবং দুনিয়ায় এসে এর সাথে আরও কিছু কল্পনা মিশিয়ে মানুষের কাছে বর্ণনা করত। তাদের এ কাজ আবহমানকাল থেকে চলে আসছিল।

অতঃপর আল্লাহ্ তা’আলা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে প্রেরণ করলেন। তখন থেকে আকাশের ঘাঁটিসমূহে ওদের বসা বন্ধ করে দেয়া হয়। শয়তানরা এ ব্যাপারটা ওদের সরদার ইবলিসের কাছে বর্ণনা করে। ইবলিস বলল, পৃথিবীতে নিশ্চয় কোন বড় ঘটনা ঘটেছে। খবরাখবর নেওযার জন্য চারদিকে তার অনুচর শয়তানদের প্রেরণ করল। তারা এসে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে কুরআন তিলাওয়াতরত অবস্থায় দেখতে পেল। ওরা বলল, ‘আল্লাহর কসম ! এটাই হলো আসল ঘটনা।’

ইব্ন আব্বাস (রা) আরও রেওয়ায়েত করেন, শয়তাদের অগ্নিগোলক নিক্ষেপ করে (আকাশের ঘাঁটিসমূহে যেতে চাইলে) হত্যা করা হয়। যখনই কোন তারকা মানুষের দৃষ্টিপথ থেকে উধাও হয়ে যায়, বুঝতে হবে তারকাটি কোন শয়তানের নাগাল পেয়ে গেছে এবং তাকে আঘাত হেনেছে। তারকা শয়তানের মুখ,বুক ও হাত জ্বালিয়ে দেয়। (বায়হাকী ও ইমাম আহমদ)

এ প্রসঙ্গে কুরআনে করীমে ইরশাদ হয়েছেঃ

(জিনরা নিজেদের মাঝে বলাবলি করছিল-) আমরা আসমানে গুপ্ত তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে দেখলাম কঠোর প্রহরা ও উল্কাপিন্ড দ্বারা তা (সুরক্ষিত) পরিপূর্ণ। আগে আমরা ভবিষ্যত শোনার জন্য আকাশের বিভিন্ন ঘাঁটিতে গিয়ে বসতাম। কিন্তু এখন কেউ সংবাদ জানার জন্য আকাশে যেতে চাইলে নিক্ষিপ্ত জ্বলন্ত উল্কার সম্মুখীন হয়ে হয়।

— সূরা জিনঃ ৮-৯

ইব্ন সা’দ ইয়াকুব ইব্ন উতবা ইব্ন মুগারী থেকে রেওয়ায়েত করেন, তারকা নিক্ষেপের ঘটনাবলি দেখে আরবের মাঝে বনী ছাক্বীফ সর্বপ্রথম ভীত হয়। তারা আমর ইব্ন উমাইয়ার কাছে গিয়ে বলল, আপনি নতুন প্রকাশিত ব্যাপারটি লক্ষ করেছেন কি ? আমর বললঃ দেখেছি, তোমরা লক্ষ করে দেখ, নিক্ষিপ্ত তারকাগুলো যদি বড় বড় হয়, যার দ্বারা দিক, পথ ও শীত-গ্রীষ্ম জানা যার তবে তার দ্বারা মহাপ্রলয় বা মানুষের ধ্বংসের আলামত বোঝবে। (অর্থাৎ নক্ষত্র নিক্ষিপ্ত হলে) আর যদি সেরকম না হয়ে অজনা-অচেনা কোন তারকা হয় তবে এটা আল্লাহর বিশেষ কোন ইচ্ছার অধীনে তো হয়েছে বুঝতে হবে। আর তা হলো একজন নবীর আবির্ভাব। যিনি এ আরবে আবির্ভূত হবেন এবং তাঁর কারণেই এসব হচ্ছে। (খাসায়েসুল কোবরা)

তথ্যসূত্র

  • রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর জীবনে আল্লাহর কুদরত ও রুহানিয়াত (লেখকঃ মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল গফুর হামিদী, প্রকাশকঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ)