এই সুন্নিপিডিয়া ওয়েবসাইট পরিচালনা ও উন্নয়নে আল্লাহর ওয়াস্তে দান করুন
বিকাশ নম্বর ০১৯৬০০৮৮২৩৪

ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) * কারবালার ইতিহাস * পিস টিভি * মিলাদ * মাযহাব * ইলমে গায়েব * প্রশ্ন করুন

বই ডাউনলোড

আব্দু‌ল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ)

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search

প্রখ্যাত সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) নবী করিম (সা.) এর চাচাতো ভাই। নবী করিম (সা.) এর প্রিয়জন, বাল্যবন্ধু আপন চাচা হজরত আব্বাস (রা.) এর সন্তান। তার মাতা লুবাবা বিনতে হারিস। তার বোন উম্মুল মোমেনিন হজরত মায়মুনা (রা.)। হিজরতের তিন বছর আগেই তিনি জন্মলাভ করেন। নবী করিম (সা.) যখন ওফাতবরণ করেণ তখন তিনি তের বছরের বালক। তার জন্মের পর নবী করিম (সা.) স্বীয় জবানের থু-থু তার মুখে মেখে দেন এবং তার জন্য দোয়া করেণ যে,

আল্লাহুম্মা ফাক্কিহহু ফিদ্দিন ওয়া আল্লিম হুত তাবিল।

অর্থাৎ 'হে আল্লাহ তাকে দিনের প্রজ্ঞা দান করো এবং তাকে তাফসিরের জ্ঞান দাও।'

তার এলমি প্রজ্ঞার কারণে সবাই তার দারস্থ হতে বাধ্য হতেন। ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর ফারুক (রা.) তার এলেম ও প্রজ্ঞার কারণে তাকে যথেষ্ট সম্মানদান করতেন এবং ইবনে আব্বাসকে সর্বদা তার সঙ্গে রাখতেন। এমনিভাবে তার বংশমর্যদা, গাম্ভীর্যতা, দূরদর্শী চিন্তাচেতনা, কাব্য রচনা ও আরবি ভাষার পা-িত্যে কেউ তার সমকক্ষ ছিলেন না। হজরত মাসরুক (রা.) বলেন,

আমি যখন আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসকে হাদিস বর্ণনা করতে দেখতাম তখন মনে হতো, তিনি মানুষের মধ্যে অধিক শুদ্ধভাষী লোক এবং তিনি সবচেয়ে বড় আলেম।

উম্মতের সর্বসম্মতিক্রমে তিনি পবিত্র কোরআনের তাফসিরকারকদের মধ্যে সবার সেরা ও প্রধান মুফাসসির হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। তিনি ফেরেশতাদের নেতা হজরত জিবরাঈল (আ.) কে দু'বার দেখেছেন। তার ব্যবহারিক জীবন ও দায়দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন একক দৃষ্টান্তহীন ব্যক্তিত্ব। তিনি আল্লাহর ভয়ে এত বেশি বেশি কান্নাকাটি করতেন যে, সর্বদা তার গাল সাদা অশ্রুতে ভিজে থাকত।

মক্কায় হজরত আবদুল্লাহ ইবনে জোবায়ের (রা.) এর শাসনকালে তিনি মুহাম্মদ বিন আল হানাফিয়াকে সঙ্গে করে সপরিবারে তায়েফে গমন করেন। সেখানে বেশ কিছুদিন কাটানোর পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার জীবনসায়াহ্নে দৃষ্টিশক্তিও লোপ পেয়েছিল। তিনি সরাসরি নবী করিম (সা.) এর ২ হাজার ৬৬০টি হাদিস বর্ণনা করেছেন। যার ফলে তিনি অধিক হাদিস বর্ণনাকারীদের মধ্যে অন্যতম রাবি। তিনি ৬৮ হিজরি সালে একাত্তর বছর বয়সে বিশ্বনবীর খুনে রাঙা শহর তায়েফে ওফাতবরণ করেন। তার সুহৃদ ও সহসঙ্গী বন্ধু মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়া (রা.) তার জানাজার ইমামতি করেন। তার জানাজার প্রাক্কালে এক বিস্ময়কর ঘটনা হলো, একটি জীবন্ত ধবধবে সাদা পাখি এসে তার বক্ষে কফিনের ভেতরে প্রবেশ করে, যা আর কেউ পরে দেখতে ও বের করতে পারেনি। এ অবস্থায় তাকে তায়েফে দাফন করা হয়।

মাকতাবা ইবনে আব্বাস (রা.) ও তার মাজার শরীফ

লাইব্রেরিকে আরবিতে মাকতাবা বলে। তায়েফের প্রাণকেন্দ্রে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসের নামে একটি বিশাল লাইব্রেরি রয়েছে। পাশেই তায়েফের বিশাল আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) মসজিদ অবস্থিত। মসজিদ ও লাইব্রেরির মাঝখানেই সংরক্ষিত দেয়ালের বেষ্টনীর কবরস্থানে শায়িত আছেন বনি হাসেম গোত্রের উজ্জ্বল নক্ষত্র, দ্বীনি এলেমের প্রখ্যাত দিকপাল, শীর্ষ মুফাসসিরে কোরআন, রাসূলুল্লাহ (সা.) এর বিশিষ্ট সাহাবি, ইসলামী উম্মাহর এক অন্যতম মহামনীষী হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)। যার মাজারের পাশে দাঁড়ালে শরীরের পশম শিউরে ওঠে আবার আত্মাও মুগ্ধ হয়ে যায়। ইবনে আব্বাসের নামে এ লাইব্রেরিটি ১২৯১ হিজরি সনে তুর্কি গভর্নর মুহাম্মদ রশিদ পাশা প্রতিষ্ঠা করেন। তিনিও একজন প্রাজ্ঞ আলেম ও শিক্ষা অনুরাগী ছিলেন। লাইব্রেরিটি প্রতিষ্ঠার এক বছরের মাথায় এর কিতাবের সংখ্যা ১০ হাজারের ওপর ছাড়িয়ে যায় এবং জনপ্রিয়তা লাভ করে। মক্কার হারাম লাইব্রেরির সাবেক সেক্রেটারি আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান ১৩৪৬ হিজরি সনে এক ঐতিহাসিক ঘোষণার মাধ্যমে গভর্নর তুর্কির প্রতিষ্ঠিত ইবনে আব্বাস লাইব্রেরিটিকে মক্কার হারামের লাইব্রেরির বর্ধিত অংশ হিসেবে সংযুক্ত করে নেন। অতঃপর ১৩৮১ হিজরি সালে বাদশাহ ফাহাদের শাসন আমলে শেখ হাসান আরব ওই লাইব্রেরিটিকে যুগান্তকারী পরিবর্তন ও সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যান, যার ধারাবাহিকতা এখনও অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে ওই লাইব্রেরিতে অনেক দুর্লভ তাফসির গ্রন্থ, হাদিস ও ফেকাহের কিতাব রয়েছে, যেগুলোর সচরাচর নাম আমাদের উপমহাদেশে খুব কমই শোনা যায়। এছাড়াও ওই লাইব্রেরিতে সহিহ বোখারি শরিফের বিভিন্ন সংস্করণের ত্রিশটি দুর্লভ খ- মজুদ রয়েছে। হজরত ইবনে আব্বাসের নামে প্রতিষ্ঠিত এই বিশাল মসজিদ ও লাইব্রেরি বর্তমান তায়েফবাসীর দ্বীন ও ঈমানের মারকাজ তথা প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। যেখানে প্রতিদিন দেশ-বিদেশের অনেক দর্শক ও পর্যটক জিয়ারত করে থাকেন। ২০ মে প্রবন্ধকার ওই লাইব্রেরি পরিদর্শনের পর দর্শক খাতায় স্বাক্ষর করতে পেরে এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) এর বিশিষ্ট সাহাবি উম্মতে মুহাম্মদির সেরা আলেম ও প্রধান মুফাসসির হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) এর মাজার শরীফ জিয়ারত করতে পারায় মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে অশেষ শুকরিয়া জ্ঞাপন করেন।

তথ্যসূত্র