আল্লাহর রাসূল (সাঃ)কে মেরে ফেলতে উদ্যত আবূ জেহেল

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
মুহাম্মাদ (সঃ) এর মুজিজা সমূহ 2









  • আল্লাহর রাসূল (সাঃ)কে মেরে ফেলতে উদ্যত আবূ জেহেল




















একবার কুরায়শ নেতৃস্থানীয় উতবা, শায়বা, আবূ সুফিয়ান, নাজব, আবুল বাখতারী, আসওয়াদ, জমাআ, ওয়ালিদ, আবূ জেহেল প্রমুখ সন্ধ্যার পর কাবার পাশে জমায়েত হয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে ডেকে পাঠাল। তাঁকে ইসলামের কাজ ত্যাগ করার জন্য খুব বুঝাল। লোভ-লালসা দেখাল। ধন-সম্পদ ও সুন্দরী নারীর লোভ দেখাল এবং শেষ পর্যন্ত গোটা আরবের বাদশাহী প্রদানের আশ্বাস দিল। রাসূলুল্লাহ্ (সা) সবকিছুই যখন অবলীলায় প্রত্যাখান করলেন তখন ওরা বলল, তাহলে তোমাকে নবী বলে মেনে নিতে পারি যদি কোন ফেরেশতা এনে দেখাও। তারা সর্বক্ষণ তোমার সাথে থেকে তোমার হয়ে সাক্ষ্য দেবে। অথবা আল্লাহকে এনে দেখাও। অথবা আকাশ ভেঙে টুকরো টুকরো করে আমাদের মাথার উপর ফেলে দাও। এসব যদি করতে না পার তবে আমরা তোমর কথা বিশ্বাস করব না। বরং আল্লাহর কসম, যে বিরোধে তুমি জড়িয়ে পড়েছ, তাতে হয় তুমি আমাদের ধ্বংস করবে, না হয় আমরা তোমকে ধ্বংস না করে ছাড়ব না।

তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) ইরশাদ করলেন, দেখো! তোমরা সেসব কথা বললে, এসব করে দেখাবার জন্য আমি প্রেরিত হইনি। আমাকে যে দীনসহ তোমাদের কাছে পাঠান হয়েছে, তার দাওয়াত আমি তোমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। তোমরা যদি তা গ্রহণ করো তবে তা হবে তোমাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতের সৌভাগ্যের উপায়। আর যদি তা তোমরা প্রত্যাখ্যান করো তবে ততক্ষণ আমি ধৈর্য ধারণ করে থাকব যতক্ষণ না আমার ও তোমাদের মাঝে আল্লাহ্ একটা ফয়সালা করে দেন।

এরপরও কুরায়শ নেতৃবৃন্দ এরকম আরও কথার অবতারণা করতে চাইল। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের কাছ থেকে নিরাশ হয়ে উঠে চলে গেলেন। কুরায়শ নেতারা সমবেত হয়ে তাঁকে ডেকে পাঠানোতে তিনি এদের সুমতির ব্যাপারে আশান্বিত হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি এদের ব্যাপারে নিরাশ হলেন।

রাসূলুল্লাহ্ (সা) চলে গেলে আবূ জেহেল উত্তেজিত হয়ে সকলকে বলল, হে কুরায়শ সরদাররা! মুহাম্মদ তোমাদের সকল দাবিই প্রত্যাখ্যান করেছে। সে তার নীতিতে অটল। আমাদের ধর্মের নিন্দা করেছে। পূর্ব-পুরুষদের সমালোচনা করছে, আমাদের জ্ঞানীদের মূর্খ বলছে, দেব-দেবীর মন্দ বলছে। আমি আল্লাহর নামে কসম করছি, আগামীকাল ভোরে মুহাম্মদ যখন সিজদায় যাবে, পাথর মেরে ওর মাথা আমি গুঁড়িয়ে দেব। এরপর তোমরা হয় আমাকে রক্ষা করবে অথবা ওর বংশের প্রতিশোধ গ্রহণকারীদের হাতে একাকী ছেড়ে দেবে, সে পরোয়া আমি করি না।

সকালে বলল, শোনো ! তুমি যদি এরুপই করো তবে আল্লাহর কসম, তোমাকে আমরা কিছুতেই ওদের হাতে একা ছেড়ে দেব না। যা বলেছ তা নির্ভয়ে করো।

পরদিন ভোরে আবূ জেহেল তার প্রতিজ্ঞামত বড় একটা পাথর যেমনটি সে উঠাতে পারে হাতে নিয়ে অপেক্ষায় রইল। রাসূলুল্লাহ্ (সা) যথারীতি ভোরে বের হয়ে এলেন। এবং বরাবরের মত বায়তুল মুকাদ্দাস ও কাবা শরীফের সামনে নিয়ে রুকনে ইয়ামনী ও হাজরে আসওয়াদের মাঝ বরাবর সালাত আদায়ের জন্য দাঁড়ালেন। ইতিমধ্যে কুরায়শরাও কথামত তাদের আড্ডায় জমায়েত হয়েছে।

রাসূলুল্লাহ্ (সা) যেই সিজদায় গেলেন, আবূ জেহেল পাথর নিয়ে তাঁর দিকে ছুটে গেল। কাছে গিয়ে হঠাৎ করে থমকে দাঁড়াল। তারপরই কাঁপতে কাঁপতে বিপর্যস্ত অবস্থায় ফিরে এলো। ততক্ষণে পাথরটা তার হাত থেকে খসে পড়েছে। ভয়ে চেহারা বিবর্ণ। এ অবস্থায় দেখে কুরায়শ নেতারা ছুটে এলো। আবূ জেহেলের বেহাল অবস্থা দেখে বলল, ব্যাপার কি, আবুল হাকাম ? আবূ জেহেল বলল, প্রতিজ্ঞামত পাথর নিয়ে মুহাম্মদের কাছে গিয়োছিলাম, কিন্তু যেই আমি তাঁর কাছাকাছি হলাম, একটি প্রকান্ড ভয়স্করদর্শন উট প্রতিরোধ করে দাঁড়াল। আল্লাহর কসম ! এর ন্যায় উঁচু গর্দান আর বিরাট আকারের ভয়ঙ্কর দাঁতবিশিষ্ট কোন উট জীবনে দেখিনি। সে দাঁত-মুখ খিঁচে আমার দিকে এমন ভাব করল যে, মনে হলো আমাকে খেয়েই ফেলবে।

পরবর্তী সময়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেনঃ তিনি ছিলেন স্বয়ং জিবাঈল (আঃ)। সে যদি আর একটু এগিয়ে যেত তবে তাকে তিনি অবশ্যই পাকড়াও করতেন।

তথ্যসূত্র

  • ইব্ন ইসহাক
  • রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর জীবনে আল্লাহর কুদরত ও রুহানিয়াত (লেখকঃ মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল গফুর হামিদী, প্রকাশকঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ)