এই সুন্নিপিডিয়া ওয়েবসাইট পরিচালনা ও উন্নয়নে আল্লাহর ওয়াস্তে দান করুন
বিকাশ নম্বর ০১৯৬০০৮৮২৩৪

ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) * কারবালার ইতিহাস * পিস টিভি * মিলাদ * মাযহাব * ইলমে গায়েব * প্রশ্ন করুন

বই ডাউনলোড

আল্লাহ্‌

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
Allahu akbar.gif
আল্লাহ্‌
  • আল্লাহ্‌

ইহা সৃষ্টিকর্তার ইসম যাত বা সত্তা-বাচক নাম । এতভিন্ন আল্লাহর কতগুলি আস্‌মা সিফাৎ বা গুণবাচক নাম আছে । যথা, রাহমান, রাহিম, মালিক, খালিক ইত্যাদি । উহাদিগকে আল-আসমাউল হুসনা বলা হয় । আল্লাহ্‌ শব্দটি ব্যক্তি নাম, ইহার কোণ দ্বিবচন বা বহুবচন নাই । আল্লাহ কুরআনে নিজের সম্পর্কে পুরুষবাচক ক্রিয়া, বিশেষণ ও সর্বনাম ব্যবহার করিয়াছেন । এই নাম দ্বারা একমাত্র সেই অদ্বিতীয়, অনন্ত, সর্ব-শক্তিমান সৃষ্টিকর্তাকেই বুঝায় । অধিকাংশ আলিমের মতে এই শব্দটি কোন বিশেষ ধাতু হইতে উৎপন্ন নহে, আরবি ভাষায় ইহার হুবহু অর্থজ্ঞাপক কোন প্রতিশব্দ নাই । অন্য কোন ভাষায় আল্লাহ্‌ নামের অনুবাদ হয় না । সুতরাং "খোদা" বা "God" বা "ঈশ্বর" ইত্যাদি কোনটাই আল্লাহ্‌র সম্যক পরিচয় বহন করে না । অন্যপকে আল্লাহ্‌ নামের সহিত দ্বিত্ববাদ বা অংশীবাদের কোন সংস্রব নাই । কুরআনের নির্দেশ-

আল্লাহ্‌র কতগুলি সুন্দর নাম আছে, সেইগুলি দ্বারা তাহাকে সম্বোধন করো

— সূরা ৭ , আয়াত ১৮০

বলুনঃ আল্লাহ বলে আহবান কর কিংবা রহমান বলে, যে নামেই আহবান কর না কেন, সব সুন্দর নাম তাঁরই।

— সূরা ঈশরা , আয়াত ১১০

ইহাতে বুঝা যায়, কোন মুসলিমের পক্ষে আল্লাহ্‌ এবং তাহার আল-আসমাউল হুসনা ছাড়া অন্য কোন নামে তাহাকে ডাকা আল্লাহ্‌র অভিপ্রেত নহে ।[1]

আল্লাহ্‌ তা’আলার পরিচয়

রছূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি অছাল্লাম বলেন - আল্লাহ তাআ’লা দাউদের কাছে অহী পাঠালেন, তুমি তোমার পরিচয় গ্রহণ কর আর আমার পরিচয় গ্রহণ কর। দাউদ বলল- হে আমার রব! আমি কি ভাবে আমার পরিচয় গ্রহণ করব, আর কিভাবে তোমার পরিচয় গ্রহণ করব। আল্লাহ তাআ’লা তাকে বললেন- তোমার দুর্বলতা, তোমার অক্ষমতা ও তোমার বিলীন বা লুপ্ত হওয়াকে মনে করে তোমাকে চেন। আর আমার শক্তি, আমার ক্ষমতা ও আমার স্থায়ীত্বের পরিচয় গ্রহণ করে আমাকে চেন। [2]

আল্লাহ তাআ’লা হযরত আদম আলাইহিছ ছালাম হতে রছূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহ অছাল্লাম পর্যন্ত এক লাখ চব্বিশ হাজার নবী ও রছূলগণকে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন

— মেশকাত, হাদীছ নং - ৫৪৯১

তাঁদের উম্মতের কাছে আল্লাহর পরিচয় দান ও তার আনুগত্য স্বীকারের জন্যে নবী-রছুলগণকে দায়িত্ব দিয়েছেন। প্রত্যেক নবী রছূল তাদের নিকট পাঠানো কিতাব ও ছহিফা অনুযায়ী আল্লাহ তাআ’লার পরিচয় দান করেছেন এবং তার আনুগত্য স্বীকার করে ইবাদাত বন্দেগীর দ্বারা আল্লাহর নৈকট্য, প্রেম ও সন্তুষ্টির নিয়ম বিধান প্রচার করেছেন। সব শেষে নবী ও রছূল হযরত মুহাম্মাদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি অছাল্লাম এর উপর কোরআন মাজীদ নাজিল করেছেন। এ কোরআন মাজীদে আল্লাহ তাআ’লা তার পরিচয় দান করেছেন।

(১) হে রছূল বলে দাও! আল্লাহ একক (অবিভাজ্য) (২) আল্লাহ কারো মুখাপেক্ষী নন (৩) তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কারো থেকে জন্মও নেননি। (৪) তার সমতুল্য কেউ নেই।

— ছূরা এখলাছ

(২৫৫) আল্লাহ! আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নেই। তিনি জীবিত, সব কিছুর রক্ষণাবেক্ষণকারী। না তাকে তন্দ্রা স্পর্শ করে আর না নিদ্রা। আছমান জমীনে যা কিছু আছে সকলি তাঁর। এমন কে আছে যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর কাছে সুপারিশ করবে? তাদের সামনে - পিছনে যা কিছু আছে তিনি তার সবই জানেন। তিনি যাকে যেটুকু জ্ঞান দান করেন, তাছাড়া তাঁর জ্ঞানের কোন কিছুই কেউ আয়ত্ব করতে পারে না। তাঁর কুরছি আছমান জমীনকে ঘিরে রেখেছে। আর এগুলি হিফাজাত করা তাঁর পক্ষে কঠিন কিছু নয়। তিনি সব কিছুর উর্দ্ধে এবং সব থেকে মহান।

— ছূরা বাকারাহ

(২) (হে রছুল) তোমাকে কষ্ট দেয়ার জন্যে তোমার কাছে কোরআন নাযিল করিনি (৩) একমাত্র তাদের উপদেশের জন্য, যারা ভয় করে, (৪) এ কোরআন তাঁর নিকট থেকে নাযিল হয়েছে, যিনি জমীন এবং তার উপরের আছমান সমূহ সৃষ্টি করেছেন (৫) তিনি পরম দয়াময় আরশে সমাসীন (৬) আছমান সকলের মধ্যে, জমীনে ও এ দু’য়ের মধ্যবর্তী স্থানে এবং মাটির নীচে যা কিছু আছে এসব তাঁরই (৭) যদি তুমি উচ্চস্বরে কথা বলো তা তিনি জানেন, আর তিনি গোপন এবং অতি সু² গোপন বিষয়কেও জানেন (৮) আল্লাহ! তিনি ব্যতীত কোন আল্লাহ নেই, সুন্দর সুন্দর সকল নাম একমাত্র তাঁরই।

— ছূরা ত্ব-হা

ِ(২৮৪) আছমান সমূহে যা কিছু আছে এবং যা কিছু জমীনে আছে এ সবই আল্লাহর। যদি তোমরা মনের কথা প্রকাশ কর, আল্লাহ তোমাদের এ সকলের হিসাব নেবেন। এরপর যাকে ইচ্ছা তাকে মাফ করবেন, যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেবেন।

— ছূরা বাকারাহ্

(২৬) বল,হে আল্লাহ! তুমি সকল শক্তির অধিকারী, তুমি যাকে ইচ্ছা রাজ্য দান কর এবং যার কাছ থেকে ইচ্ছা রাজ্য কেড়ে নাও। যাকে ইচ্ছা ইজ্জত দান কর, আর যাকে ইচ্ছা বেইজ্জতি কর। তোমারই হাতে আছে যাবতীয় কল্যাণ। নিশ্চয় সকল বিষয়ে তুমি ক্ষমতাবান। (২৭) তুমি রাতকে দিনের মধ্যে আর দিনকে রাতের ভিতর প্রবেশ করাও, তুমি জীবিতকে মৃত আর মৃতকে জীবিত করো আর তুমি যাকে ইচ্ছা বেহিসাব রিজিক দান কর।

— ছূরা আল-ইমরান

ِ(২২) তিনি আল্লাহ! তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। তিনি দৃশ্য-অদৃশ্য সবই জানেন। তিনি পরম দয়ালু, অসীম দাতা (২৩) তিনি আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, তিনি একমাত্র মালিক, পবিত্রকারী, শাস্তিদাতা, নিরাপত্তা দাতা, আশ্রয়দাতা, বলবান, অসীম ক্ষমতাবান ও অতি মহান। তারা তাঁর সাথে যা শরীক করে আল্লাহ তা থেকে পবিত্র (২৪) তিনি আল্লাহ! সৃষ্টিকারী, উদ্ভাবনকারী, রূপদানকারী, উত্তম নাম সকল তাঁরই। আছমান সমূহে ও জমীনের মধ্যে যা কিছু আছে সকলেই তার তাছবীহ করে। তিনি পরাক্রান্ত ও মহাজ্ঞানী।

— ছূরা হাশর

উপরের আয়াত গুলিতে এবং কোরআন মাজীদের আরও অনেক আয়াতে আল্লাহ তাআ’লা তাঁর পরিচয় দান করেছেন।[3]

তথ্যসূত্র

  1. সংক্ষিপ্ত ইসলামী বিশ্বকোষ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ)
  2. তাফছীরে মাজহারী ১ম - ১৩৩ পৃঃ
  3. আদ্‌ দ্বীন (লেখকঃ মুহাম্মাদ মাহ্‌বুবুর রহমান)