আল–ফিকহুল আকবর

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
আল–ফিকহুল আকবর বই ডাউনলোড করুন

সাহাবায়ে কিরাম ও খুলাফায়ে রাশেদার সোনালী যুগের অবসানে মুসলিম সমাজে দেখা দেয় নানাবিধ ফিতনা-ফ্যাসাদ । বিভিন্ন ফিরকার অনুসারীগণ মুসলিম সমাজে কুরআন ও সুন্নাহর প্রকৃত শিক্ষা বিবর্জিত নিজ ফিরকার মতাদর্শ প্রচার করতে থাকে । ফলে মুসলিম উম্মাহর জীবনে নেমে আসে আক্বীদাগত চরম দুর্দিন । বাতিল মতবাদ ও ভ্রান্ত আক্বিদায় নিমজ্জিত হয়ে পড়ে মুসলিম উম্মাহ । মুসলমানদের এই ঘোর দুর্দিনে তাঁদেরকে অমানিশার অন্ধকার হতে আলোর পথের সন্ধান দিতে এগিয়ে আসেন কালজয়ী মহাপুরুষ ইমাম আযম আবূ হানিফা (রহঃ) । তিনি রচনা করেন আল-ফিকহুল আকবর, আল-ফিকহুল আবসাত, আল-আলিম ওয়াল মুতায়াল্লিম ইত্যাদি গ্রন্থ । এসব গ্রন্থে রয়েছে ইসলামী আক্বীদা ও ধর্মীয় ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ।

ইমাম আযম আবূ হানিফা (রহঃ) প্রণীত গ্রন্থাবলীর মধ্যে ‘আল-ফিকহুল আকবর’ এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে । এই গ্রন্থে তিনি ইসলামের দশটি মৌলিক আক্বিদার কথা উল্লেখ করেছেন, যাতে বিভিন্ন ভ্রান্ত মতাদর্শী ফিরকার মতবাদসমূহ যুক্তি-প্রমাণসহ খণ্ডন করে তিনি ইসলামের মূল আক্বীদা, ধর্মীয় আচরণ প্রতিষ্ঠা করার প্রয়াস পেয়েছেন । তিনি গ্রন্থটিতে এ বিষয়ে যুক্তি-প্রমাণসহ জোরালো বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন ।

এই গ্রন্থটির কয়েকটি রেওয়াত আছে । তার মধ্যে ২ টি প্রসিদ্ধ ।

১) হাম্মাদ ইবনে আবি হানিফা (রহঃ)
২) আবু মুতী আল বলখী

শেষোক্ত টি আল ফিকাহুল আবসাত নামে পরিচিত । ফিকাহুল আকবরের অসংখ্য কপি পৃথিবীতে বড় বড় মিউজিয়ামে ও কুতুব খানায় পাণ্ডুলিপি আকারে আছে । তাছাড়া বিভিন্ন স্থান থেকে বহুবার ছাপা হয়েছে ।এর আছে বহু তরজমা ও শরাহ । ১২৮৯ হিজরি তে দিল্লী থেকে এর উর্দু তরজমা এবং ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে লাহোর থেকে এর পাঞ্জাবি তরজমা প্রকাশিত হয়। জার্মান পণ্ডিত ভন এস যে হেল ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দে এর অনুবাদ জার্মান ভাষায় প্রকাশ করেন । ১৭ টির অধিক শরাহ ও অসংখ্য পাদটীকা সম্বলিত কপি প্রকাশিত হয়েছে । যেমনঃ

ব্যাখ্যাকার সময় সীমা প্রকাশ ও সংরক্ষণ
আলী ইবনে মুহাম্মদ আল বজদাভি ওফাতঃ ৪৮২/১০৮৯ সম্পাদিত লর্ড স্টেন লি লন্ডন
কামাল উদ্দিন মুহাম্মাদ ইবনে মাহমুদ ইবনে আহমদ আল বাবারতি ওফাতঃ ৭৮৬/১৩৮৪ ইস্তাম্বুল ও কায়রোর প্রসিদ্ধ কুতুব খানা সমুহে পাণ্ডু লিপি সংরক্ষিত
ইলিয়াস ইবনে ইব্রাহিম আস সিনুবি ওফাতঃ ৮৯১/১৪৮৬ তাশখন্দ ও ইস্তাম্বুলের কুতুব খানায় সংরক্ষিত
আবুল মুন তাহা আহমদ মুহাম্মদ আল মুগনিসুয়ী ওফাতঃ ৯৩৯/১৫৩২ বার্লিন , লন্ডন , ক্যামব্রিজ , দামিশক , কায়রো , ইস্তাম্বুল প্রভৃতি লাইব্রেরী তে সংরক্ষিত
মোল্লা আলী আল কারী আল হারাভি ওফাতঃ ১০১৪/১৬০৫ তাশখন্দে ১৩১২ কায়রো তে ১৩২৩ হিজরি কানপুরে ১৩২৭ হিজরি এবং কায়রো তে ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত । পৃথিবীর বড় বড় গ্রন্থাগারে পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত ।
আলাউদ্দিন আলী আল বুখারি , তিনি উলুগ বেক কে উৎসর্গ করেন শাসন কাল ৮৫০/ ১৪৪৭ – ৮৫৩ /১৪৪৯ বাকি পুর ও রামপুরে সংরক্ষিত
মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ খতিব জাদা ৯২০/১৫১৪ তে লিখিত ইস্তাম্বুল
মুহাম্মদ ইবনে বাহাউদ্দিন ইবনে লুতফুল্লাহ আল বায়রামি ৯৫৬/১৫৪৯ কায়রো, ইস্তাম্বুল
আলী ইবনে মুরাদ আল উমরী আল মোসেলী ১১৪৭/১৭৩৪ লন্ডন, ইস্তাম্বুল
আবুল ফাতাহ উসমান আশ শাফেয়ী এশিয়াটিক মিউজিয়াম , বত রুম বুরগ
মইনুদ্দিন আবুল হাসান আতা উল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আল কারশাতি ১৮৯০ ইং কাজান
আব্দুল কাদের সালহাতি ১২৯৮ হিজরি হায়দারাবাদ
আন নামী হিয়ী আল ফাহিমি রামপুর
ইব্রাহিম ইবনে হাসান আল ইশকুদ রাভি ১২৬০/১৮৫৪ ইস্তাম্বুল
ইব্রাহিম ইবনে হুসসাম আল জারমিয়ানি ১০১৬/১৬০৭ ইনি কবিতায় অনুবাদ করেন । ১০৯৯ / ১৬৮৮ তে মীর অহিদি তা তুর্কী ভাষায় তরজমা করেন । এবং পরে তা ইস্তাম্বুলে প্রকাশিত হয়।
আবু তাইয়েব হামদান ইবনে হামজা ইস্তাম্বুল ও প্যারিস
[1]

তথ্যসূত্র

  1. আল–ফিকহুল আকবর - ভূমিকা (ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ)