এই সুন্নিপিডিয়া ওয়েবসাইট পরিচালনা ও উন্নয়নে আল্লাহর ওয়াস্তে দান করুন
বিকাশ নম্বর ০১৯৬০০৮৮২৩৪

ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) * কারবালার ইতিহাস * পিস টিভি * মিলাদ * মাযহাব * ইলমে গায়েব * প্রশ্ন করুন

বই ডাউনলোড

আহলে বায়তের বিশেষত্ব

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search

অসংখ্য ও অগণিত যা গুণে শেষ করা যাবে না। তবে কতিপয় বিশেষত্ব ফকিহে মিল্লাত মুফতি জালালুদ্দীন আহমদ আমজাদী তাঁর রচিত কিতাব ‘‘খুতবাতে মুহররম’’-এর মধ্যে উলে­খ করেছেন। সেগুলো নিম্নরূপ-


আহলে বায়তের জন্য যাকাত ও ফরজ সদকা হালাল নয়, যদিও তাঁরা নেসাবের মালিক না হন। মুসলিম শরীফে আবদুল মোত্তালিব ইবনে রবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেন-

যাকাতের মাল হল মানুষের গুনাহের ময়লা-কছলা। আর অবশ্যই এটা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়া সাল্লামও আলে মুহাম্মদ তথা বনু হাশেম রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুম-এর জন্য জায়েয নয়।

— মিশকাত, পৃষ্ঠা-১৬১

আল্লাহ্‌ তা‘আলা তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়া সাল্লাম)কে বলেন-

হে হাবীব! আপনি তাদের (ধনীদের) মাল থেকে যাকাত নিন সে যাকাত দ্বারা তাদেরকে পাপমুক্ত করুন এবং তাদেরকে পাক-পবিত্র করুন।

— পারা-১১,রুকু-২

হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হাসান ইবনে আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু যাকাতের একটি খেজুর নিলেন এবং মুখে রাখলেন, তখন নবীজী সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়া সাল্লাম বললেন, ছি! ছি! যেন তিনি (হযরত হাসান) এটা নিক্ষেপ করেন। এরপর তিনি (নবীজী) বললেন, কী তোমার জানা নেই ? যে আমরা যাকাত খাইনা।

— বুখারী, মুসলিম, মিশকাত-১৬১পৃষ্ঠা

হযরত আবু রাফে’ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নিশ্চয় রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়া সাল্লাম বনু, মাখযুমের একজন পুরুষকে যাকাতের মাল উশুল করার জন্য নিয়োগ করে প্রেরণ করলেন, তিনি (পুরুষটি) আবু রাফে’ (তথা রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়া সাল্লাম-এর আযাদকৃত গোলাম) কে বললেন, আপনি আমার সাথে চলুন, যেন আপনিও যাকাত হতে মেহনতের অংশ হিসেবে কিছু পেয়ে যান। তখন হযরত আবু রাফে’ বললেন, ‘না’। যতক্ষণ পর্যন্ত আমি হুজুরের খেদমতের মধ্যে হাজির হয়ে তাঁর থেকে জেনেনেব না। (এরপর আবু রাফে’ হুযূরের খেদমতে হাজির হয়ে সে লোকের সাথে যাকাতের মাল উশুলের জন্য এজাযত তালাশ করলে হুজুর ঘোষণা দিলেন, অবশ্যই যাকাত আমাদের জন্য হালাল নয়। আর কওম তথা বনু হাশেমের আযাদকৃত গোলাম তাঁদের নিজেদের হুকুমে। (অর্থাৎ আমরা বনু হাশেম ও আমাদের আযাদকৃত গোলামের জন্য যাকাত হালাল নয়।) ।

— মিশকাত, পৃষ্ঠা -১৬১

এ জন্য হানাফি ফিকহের কিতাবে এসেছে যে, বনু হাশেম এমনকি বনু হাশেমের আযাদকৃত গোলামের জন্য যাকাত জায়েয নয়। আর বনু হাশেম দ্বারা উদ্দেশ্য হল-হযরত আলী, হযরত জা’ফর, হযরত আকিল, হযরত আব্বাস ও হযরত হারেস বিন আবদুল মোত্তালিব রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুম-এর আওলাদ।


আহলে বায়ত বংশ ও আভিজাত্যের ক্ষেত্রে সকল মানুষের সেরা ও সর্বোচ্চ। [1]

হযরত আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু হতে বর্ণিত, অবশ্যই তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট আসলেন যেন তিনি (তাঁর নসব কিংবা হাসবের ক্ষেত্রে সমালোচনার) কিছু শুনলেন। তখন নবীজী সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়া সাল্লাম মিম্বরের উপর দাঁড়িয়ে বললেন, আমি কে? অতঃপর তিনি (আব্বাস) উত্তর দিলেন, আপনি আল­াহর রাসূল। তখন তিনি (হুজুর) বললেন, আমি মুহাম্মদ ইবনে আবদুল­াহ্ ইবনে আবদুল মোত্তালিব। নিশ্চয় আল্লাহ্‌ সমস্ত সৃষ্টিকে পয়দা করলেন, আমাকে তাঁদের সর্ব সেরার মধ্যে করলেন। তারপর তাদেরকে দু’দলে করলেন। আমাকে তাদের উত্তমদের দলে করলেন। অতঃপর তাদেরকে বিভিন্ন গোত্রে করলেন। আমাকে তাদের সেরা গোত্রে করলেন। তারপর তাদের বিভিন্ন ঘরে করলেন। আমাকে তাদের সর্ব সেরা ঘরে করলেন। সুতরাং আমি ব্যক্তিগতভাবে তাদের সকলের মধ্যে সর্বোত্তম । আর ঘরের দিক দিয়ে তাদের মধ্যে (আমার ঘর) সর্ব সেরা ঘর।

— মিশকাত, পৃষ্ঠা-৫১৩


কিয়ামতের দিন সকল আত্মীয়ের সম্পর্ক ও বংশের সম্পর্কবিচ্ছেদ হয়ে যাবে। তবে নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা’আলাআলায়হি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে আত্মীয়ের সম্পর্ক ও বংশের সম্পর্ক বিচ্ছেদ হবে না। সহীহ রেওয়াতের মধ্যে এসেছে যে, হযরত ওমর ফারুক রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুকে প্রস্তাব দিলেন যে, তিনি (আলী) যেন নিজের কন্যাকে (উম্মে কুলসুমকে) তাঁর (ওমরের রাদ্বি.) কাছে বিয়ে দেন। তখন তিনি (আলী) স্বীয় মেয়ের কম বয়সের ওজর পেশ করলেন। আর বললেন, আমি তাকে আমার ভাই জাফরের ছেলেকে বিয়ে দিতে চাই। তখন হযরত ওমর বারবার অনুরোধ জানালেন। আর মিম্বরের উপর আরোহণ করে নবীজীর হাদীস উলে­খ করলেন-

প্রত্যেক সম্পর্ক,নসবের সম্পর্ক ও বৈবাহিক সম্পর্ক কিয়ামতের দিন বিচ্ছেদ হয়ে যাবে, তবে আমার সাথে সম্পর্ক, আমার বংশের সম্পর্ক ও আমার সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক বিচ্ছেদ হবে না।

— আশশারফুল মুয়ায়্য়দ-পৃৃষ্ঠা-২২

ফলে হযরত আলী স্বীয় কন্যা উম্মে কুলসুমকে হযরত ওমরের সাথে বিয়ে দেন।


‘আশরাফ’ শব্দটি শুধু আহলে বায়তের জন্য সাহাবা কেরামের যমানায় ব্যবহৃত হত। তারপর এ লকবটি হাসানী ও হোসাইনী সাদাতের জন্য খাস হয়ে গেল। আর এ পরিভাষা অর্থাৎ ‘সৈয়্যদ’ শব্দটি শুধুমাত্র হাসানী ও হোসাইনী সাদাতের জন্য ব্যবহৃত হওয়াটা অনেক দেশের মধ্যে ব্যাপক হয়ে গেল। সুতরাং তারা যেন নিম্নে উদ্ধৃত এ হাদীস হতে উপদেশ গ্রহণ করে যারা নিজেদের নসব ভুল বলে। হাদীসটি নিম্নরূপ-

যে ব্যক্তি স্বীয় পিতা ব্যতীত অপর কারও প্রতি নিজকে নিসবত করে তার উপর আল্লাহ্‌, ফেরেশতাকুল ও সকল মানুষের লানত। (কিয়ামতের দিন)আল্লাহ্‌ তার কোন ফরজও কবুল করবেন না এবং কোন নফলও কবুল করবেন না।।

— ফতোয়ায়ে রেজভিয়া, ৫ম খন্ড, ৬৬৭পৃষ্ঠা


আহলে বায়তের কেউ আমল না করলেও তাঁদেরকে তা’জীম করা কর্তব্য। হিন্দুস্থানের মুফতিয়ে আজম আল­ামা মোস্তাফা রেজা খান রাহমাতুল­াহি আলায়হি বলেছেন-

সৈয়্যদ থেকে যতক্ষন পর্যন্ত কুফর প্রকাশ না পায় তাঁকে তা’জীম ও সম্মান করা মানুষের উপর ওয়াজিব।

কেননা তাঁকে ক্ষমা করা হবে এবং আল্লাহ্‌ তাঁর গুনাহ্ মাফ করে দেবেন-যদিও মৃত্যুরপূর্বে তিনি তাওবা করেন। কেননা আল্লাহ্‌ তা’আলা তাদের শানে বলেছেন-

انم يريد الله ليذهب عنكم الر جس اهل البيت ويتطهرا


নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেন-

হযরত ফাতেমা রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা নিজের পুত পবিত্রতা রক্ষা করেছেন। ফলে আল্লাহ্‌ তাঁকে এবং তাঁর আওলাদকে জাহান্নামের জন্য হারাম করে দিয়েছেন।

— আশশরাফুল মুয়ায়্য়দ, পৃষ্ঠা-৪৫


আহলে বায়ত যদিও হযরত ফাতেমা রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহার আওলাদ কিন্তু তাঁদেরকে আওলাদে রাসূল (সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়া সাল্লাম) বলা হয়। যেমন ইমাম তবরানী বর্ণনা করেছেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেন-

আল্লাহ্‌ আয্যা ও জাল্লাহ প্রত্যেক নবীর আওলাদ তাঁর পৃষ্ঠে করেছেন এবংনিশ্চয় আল্লাহ্‌ তা’আলা আমার আওলাদ হযরত আলী ইবনে আবু তালেবের পৃষ্ঠে করেছেন।

— আশশারাফু মুয়ায়্য়দ, পৃষ্ঠা-৪৮

আহলে বায়ত দুনিয়াবাসীর জন্য নিরাপত্তার মাধ্যম। যেমন নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেন-

আকাশের তারকাসমূহ আকাশের অধীবাসীদের জন্য নিরাপত্তার মাধ্যম। আর আমার আহলে বায়ত দুনিয়াবাসীর জন্য নিরাপত্তার উসিলা। এবং অপর রেওয়ায়তে আছে আমার উম্মতের নিরাপত্তার মাধ্যম।

— আশশারফুল মুয়ায়য়দ, পৃষ্ঠা-৪৬

আহলে বায়ত সর্বপ্রথম বেহেশতে প্রবেশ করবেন। যেমন ইমাম ছালভী হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হতে রেওয়ায়েত করেছেন যে, নিশ্চয় তিনি (আলী) বলেন,

আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট মানুষের হিংসার অভিযোগ করলাম। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়া সাল্লাম বললেন- তুমি কী একথায় খুশী হবে যে, নিশ্চয় নিশ্চয় তুমি চারজনের চতুর্থজন হবে। যেহেতু অবশ্যই আমি প্রথমে জান্নাতে প্রবেশ করব। এরপর তুমি, এরপর হাসানাইন করীমাইন। আর আমার পুতঃপবিত্র সহধর্মিনীগণ আমার ডানে ও বামে থাকবেন। আর আমার আওলাদগণ আমার সহধর্মিণীদের পেছনে থাকবেন।

— বরকাতে আলে রাসূল

যে ব্যক্তি আহলে বায়তে রাসূল রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুম-এর প্রতি অনুগ্রহ প্রদর্শন করে নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়া সাল্লাম কিয়ামতের দিন তাকে এ অনুগ্রহের বিনিময় দান করবেন। যেমন নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেন-

যে ব্যক্তি উসিলা চায় এবং চায় যে তার কোন খেদমত আমার নিকট কবুল হোক যার বদৌলতে আমি তার জন্য কিয়ামত দিবসে সুপারিশ করব। তাহলে তার জন্য আবশ্যক আমার আহলে বায়তের খেদমত করা এবং তাদেরকে খুশি করা।

আল­ামা ছবান বলেন,

আহলে বায়তকে ভালোবাসা আখেরাতে চেহারা উজ্বল ও নূরানী হওয়া এবং দুনিয়াতে হায়াত বৃদ্ধি হওয়ার উসিলা।

যেমন صواعق محرقة নামক কিতাবে আছে, নিশ্চয় নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেন-

যে ব্যক্তি তার হায়াত দীর্ঘ হওয়া চায় এবং তার আশা আল্লাহ্‌ কবুল করা চায় তার জন্য আবশ্যক আমার আহলে বায়তকে ভালোবাসা এবং তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করা। আর আমার পর যে তাঁদের প্রতি সদ্ব্যবহার করবে না তারহায়াত কমে যাবে এবং সে কিয়ামত দিবসে আমার কাছে চেহরা মলিন অবস্থায় আসবে।

— ছওয়ায়েকে মুহরেকা, পৃষ্ঠা ১০৭

তথ্যসূত্র

  1. খুতবাতে মুহররম পৃষ্ঠা -২৪৩
  • মাসিক তরজুমান, মহররম, ১৪৩৫ হিজরী