এই সুন্নিপিডিয়া ওয়েবসাইট পরিচালনা ও উন্নয়নে আল্লাহর ওয়াস্তে দান করুন
বিকাশ নম্বর ০১৯৬০০৮৮২৩৪

ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) * কারবালার ইতিহাস * পিস টিভি * মিলাদ * মাযহাব * ইলমে গায়েব * প্রশ্ন করুন

বই ডাউনলোড

আহ্‌কাম

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
শরীয়ত


  • শরীয়তের আহ্‌কাম

ইসলামী শরীয়াতের বিধান মতে মানুষের কাজগুলো দু'ভাগে বিভক্তঃ

১) মাসরু (শরিয়াত সম্মত)
২) গাইর মাশরু (শরিয়াত পরিপন্থী)

শরীয়াত সম্মত কার্যাবলী ৬ ভাগে বিভক্ত । যথাঃ ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাত, মুস্তাহাব, মুস্তাহ্‌সান, মুবাহ্‌

ফরজ

ফরজ অর্থ অবশ্য পালনীয় । আল্লাহ, তায়ালার অলঙ্ঘনীয় আদেশ । যা দলিলে কাত্‌ঈ (অকাট্য দলীল দ্বারা প্রামানিত) । আল্লাহ তা'আলা সকল মুসলমানের প্রতি তা অপরিহার্য কর্তব্য বলে ঘোষণা করেছেন । যার অস্বীকারকারী কাফির বলে গণ্য হবে । এর তরককারীর জন্য কঠিন শাস্তির বিধান রয়েছে । শরীয়াতের পরিভাষায় এ জাতীয় ব্যক্তিকে 'ফাসিক' বলা হয় । দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, রামাযান মাসের রোযা, বাৎসরিক উদ্বৃত্ত নিসাব পরিমাণ অর্থ সম্পদের যাকাত দান, সামর্থ হলে জীবনে একবার হজ্জ আদায় করা ফরজ । ফরজ দুই প্রকারঃ

ফরজে আইন

ফরজে আইন যা প্রত্যেকের উপর ফওজ । এ শ্রেণীর ফরজ কাজ এককভাবে অথবা সমষ্টিগতভাবে আদায় করতে হয়ে । যেমন নামায, রোযা ইত্যাদি ।

ফরজে কিফায়া

ফরজে কিফায়া যা সমাজের সকলের প্রতি এ কাজ ফরজ । তবে সমাজের কিছু লোক তা আদায় করলে সকলের পক্ষ থেকে তা আদায় হয়ে যাবে । কিন্তু কেউ যদি আদায় না করে, তবে সমাজের সকলেই গুনাহগার হবে । যেমন- জিহাদ, জানাযার নামাজ ।

ওয়াজিব

ওয়াজিবও ফরজের মত অবশ্য পালনীয় । তবে গুরুত্বের দিক থেকে ফরজের পরে ওয়াজিবের স্থান । বিনা কারনে তা পরিত্যাগ করলে ফাসিক হবে এবং কঠিন শাস্তিযোগ্য অপরাধী বলে বিবেচিত হবে । ওজরবশতঃ ছুটিয়া গেলে পরে ক্বাযা করিতে হইবে । শরীয়াতের ওয়াজিব বিধানকে গুরুত্বহীন মনে করা সরাসরি গোমরাহি । তবে কোনরূপ তাবীলের আশ্রয় নিয়ে অথবা সন্দেহ মূলে ওয়াজিবকে ইনকার (অস্বীকার) করলে কাফির হবে না । যেমন বিতরের তিন রাক'আত নামায । নামাজের প্রত্যেক রাক'আতে সূরা ফাতিহা পড়া ।

সুন্নাত

যে কাজ রাসুলুল্লাহ (সঃ) বা তাহার আসহাবগণ করিয়াছেন তাহাকে 'সুন্নাত' বলে । হাদিস শরিফে বর্নিত আছে

তোমাদের প্রতি অবশ্যকর্তব্য আমার সুন্নাত এবং হেদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতের অনুসরণ করা

সুন্নাত দুই প্রকারঃ

১) সুন্নাতে মুওয়াক্কাদাহ্‌

যে সকল কাজ রাসূল (সঃ) ও তাঁর আসহাবগণ সর্বদা আমল করিয়াছেন এবং বিনা ওজরে কোণ সময় ছাড়েন নাই উহাকে সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ্‌ বলে; যেমন আযান, ইক্কামত, খতনা, নিকাহ্‌ ইত্যাদি । সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ্‌ আমলের দিক দিয়া ওয়াজিবেরই মত; অর্থাৎ যদি কেউ বিনা ওজরে সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ্‌ ত্যাগ করে অথবা তরক করার অভ্যাস করে তবে সে কঠিন গোনাহগার হইবে এবং হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর খাছ শাফায়াৎ থেকে বঞ্চিত হইবে । কিন্তু ওয়াজিব তরকের গোনাহ হইতে কম গোনাহ হইবে এবং কখনও ওজর বশতঃ ছুটিয়া গেলে ক্বাযা করিতে হইবে না ।

২) সুন্নাতে গাইরে-মুওয়াক্কাদাহ্‌

যে সকল কাজ রাসূল (সঃ) এবং তাহার আসহাবগণ(রাঃ) করিয়াছেন তবে ওজর ছাড়াও কোন কোণ সময় তরক করিয়াছেন তাহাকে সুন্নাতে গাইরে-মুওয়াক্কাদাহ্‌ বলে । ইহাকে সুন্নাতে যায়েদা বা সুন্নাতে আদীয়াও বলে । ইহা পালন করিলে সওয়াব আছে কিন্তু না করিলে গোনাহ নাই ।

মুস্তাহাব

যে কাজ রাসূল (সঃ) বা তাঁর আসহাবগণ করিয়াছেন কিন্তু হামেশা বা অধিকাংশ সময় করেন নাই, অন্যকে আমল উৎসাহ করিতে উৎসাহ দিয়াছেন কিন্তু তাক্বিদ করেন নাই তাহাকে মুস্তাহাব বলে । মুস্তাহাবকে নফল বা মন্দুবও বলা হয় ।

মুস্তাহ্‌সান

যে সব কাজ উলামায়ে মুতাকাদ্দিমীন ও মুতাআখ্‌খিরীন (পূর্ববর্তী ও পরবর্তী শরীয়াত বিশেষজ্ঞগণ) পবিত্র কুরআন, হাদীস ও সুন্নাতের আলোকে ভাল বলে গ্রহণ করেছেন । মুস্তাহ্‌সান পালনে সওয়াব আছে, তবে ছেড়ে দিলে কোন গুনাহ নেই

মুবাহ্‌

যে কাজ করাতে কোন সাওয়াব নেই আর না করাতে কোন গুনাহ নেই শরীয়াতের পরিভাষায় সেসব কাজকে মুবাহ্‌ বলা হয় । ইচ্ছা করলে তা করতে পারে, আবার ইচ্ছা করলে তা নাও করতে পারে । মোবাহ্‌ কাজ যথাঃ মাছ মাংস খাওয়া, পানাহার করা, কৃষিকর্ম করা, ব্যবসায় বাণিজ্য করা, দেশ ভ্রমণ করা, আল্লাহ্‌র সৃষ্টি দর্শন করা । মোবাহ্‌ কাজের সঙ্গে যদি ভাল নিয়ত ওভাল ফল সংযুক্ত করা হয়, তবে তাহা সওয়াবের কাজ হইয়া যায় আর যদি মন্দ ফল সংযুক্ত হয় তাহলে তবে তাহা গোনাহের কাজ হইয়া যায় । যথা- যদি কেহ এলেম হাসিল করিবার জন্য, ইসলামের খেদমত করিবার জন্য, জেহাদ ও তবলীগ করিবার জন্য পুষ্টিকর খাদ্য খাইয়া, ব্যায়াম করিয়া শরীর মোটাতাজা ও স্বাস্থ্য ভাল করে, তবে সে ছওয়াব পাইবে । আর যদি কেহ পরস্ত্রী দর্শন করিবার জন্য ভ্রমণ করে বা নাজায়েজ খেলায় যোগদান করে, তবে তাহাতে গোনাহ্‌ হইবে ।

উল্লেখ্য যে নফল, মুস্তাহাব, মুস্তাহ্‌সান মান্দুব, তাতাওউ' সবই ঐচ্ছিক ইবাদত । এসব সুযোগে যত ইচ্ছা আদায় করা যায়, যত বেশি করবে, ততই সওয়াব লাভ করবে ।

হালাল

শরীয়াতের দৃষ্টিতে যে সকল বস্তু ব্যবহার করা বৈধ তাঁকে হালাল বলা হয় ।

গাইরে মাশরু

গাইরে-মাশরু - শরীয়াত পরিপন্থী কাজ গুলো দুইভাগে বিভক্তঃ

১) মাকরুহ

মাকরুহ (অপছন্দনীয় কাজ) দুই প্রকারেরঃ

১) মাকরুহ্‌ তাহ্‌রীমীঃ হারামের নিকটবর্তী এবং ওয়াজিবের বিপরীত । মাকরুহ্‌ তাহ্‌রীমী অস্বীকার করিলে কাফের হইবে না, ফাসেক হইবে । যদি কেহ বিনা ওজরে মাকরুহ্‌ কাজ করে তবে সে ফাসেক হইবে এবং আযাবের উপযুক্ত হইবে ।
২) মাকরুহ্‌ তানযীহীঃ যে সকল আল্লাহ্‌ তা'আলার কাছে অপছন্দনীয় এবং বর্জন করাতে সওয়াব লাভ করা যায় ।

২) হারাম

হারাম ফরযের বিপরীত । যদি কেহ হারাম কাজ অস্বীকার করে অর্থাৎ যদি কেহ হারাম কাজকে হালাল এবং জায়েজ মনে করে, তবে সে কাফের হইবে । আর যদি বিনা ওজরে হারাম কাজ করে কিন্তু অস্বীকার না করে অর্থাৎ হারামকে হালাল মনে না করে, তবে সে কাফির হইবে না, ফাসেক হইবে, শাস্তির উপযুক্ত হইবে । হারাম কাজ; যথাঃ শূকর, শরাব, ঘুষ, যিনা, চুরি, ডাকাতি, আমানতে খেয়ানত, মিথ্যা বলা, অঙ্গীকার ভঙ্গ করা, অন্যায় অত্যাচার করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া, স্বামীর অবাধ্য হওয়া, স্ত্রী-পুত্রের বা মা-বাপের, ভাই বোনের হক আদায় না করা, এলমে দ্বীন শিক্ষা না করা, নামায না পড়া, যাকাত না দেওয়া, হজ্জ না করা ইত্যাদি ।

শরীয়াতের ও তরীক্কতের যত হুকুম আহ্‌কাম আছে, সব চারিটি দলিলের দ্বারা প্রমাণিত হইয়াছে । যথাঃ কোরআন, হাদিস, ইজমা ও ক্বিয়াস । এই চারিটি দলিলের বাহিরে কোন দলিল নাই । সুন্নতের দুই অর্থ । এক অর্থ উপরে বর্নিত হইয়াছে । দ্বিতীয় অর্থ হযরতের যে কোন তরীকা (নীতি) তাহা ফরয হউক বা ওয়াজিব বা সুন্নাত হউক । এই অর্থেই বলা হইয়াছে । হযরত (দঃ) বলিয়াছেনঃ শাদী-বিবাহ (দ্বারা সংসারের যাবতীয় বাধা-বিঘ্নের ভিতর দিয়া ধর্ম-জীবন যাপন) করা আমার একটি সুন্নাত । এই সুন্নাত যে অমান্য করিবে সে আমার উম্মাতভুক্ত নহে ।