এই সুন্নিপিডিয়া ওয়েবসাইট পরিচালনা ও উন্নয়নে আল্লাহর ওয়াস্তে দান করুন
বিকাশ নম্বর ০১৯৬০০৮৮২৩৪

ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) * কারবালার ইতিহাস * পিস টিভি * মিলাদ * মাযহাব * ইলমে গায়েব * প্রশ্ন করুন

বই ডাউনলোড

ইজতিহাদের সূচনা

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
ইজতিহাদ
  • ইজতিহাদের সূচনা

আল্লাহ্‌ পাক রাসূলুল্লাহ (সঃ) এর উপর পূর্নাংগ দীন নাযিল করেছেন । রাসূলে করীম (সঃ) তাঁর তেইশ বছরের যিন্দিগীতে তা বাস্তবরূপ দান করে কিয়ামত অবধি পৃথিবীর সকল মানুষের জন্য একমাত্র জীবন বিধান হিসাবে রেখে গিয়েছেন । রাসূলে করীম (সঃ) এর ইন্তিকালের পর তারই সাহচর্যে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সাহাবা-ই-কিরাম বিশেষ করে খুলাফা-ই-রাশেদিনও শরীয়াতের এ পবিত্র আমানত পূর্নাঙ্গভাবে সংরক্ষণ করেন ও জীবনে সর্বক্ষেত্রে তা বাস্তবায়ন করেন এবং পরবর্তী উম্মাতের কাছে তা যথাযথভাবে পুঁছিয়ে যান । রাসূলুল্লাহ (সঃ) এর সুহবতের বরকতে তারা ছিলেন ইসলামের পূর্ন অনুসারী । তাঁদের মর্যাদা ছিল অনেক উর্ধে । তাই পরবর্তী উম্মতের জন্য তারা ছিলেন আদর্শ । সঠিক পথের সন্ধান পাওয়ার জন্য তারা ছিলেন তারকারাজির মত । তাবীঈগণ সাহাবায়ে কিরাম থেকে এ পবিত্র আমানত গ্রহণ করে তাঁদের পরবর্তী লোকদের কাছে তা যথাযথভাবে পৌঁছিয়ে যান । পরবর্তীকালে যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে এমন সব ঘটনা ও সমস্যা উদ্ভব হতে থাকে যা পূর্বে ছিল না । এ ধরনের নিত্যনতুন সমস্যা কিয়ামত পর্যন্ত প্রকাশ পাওয়াই স্বাভাবিক । এ সকল ঘটনা ও সমস্যার সমাধান দেওয়া অবশ্য কর্তব্য হয়ে পরে আলিমগণের উপর । কিন্তু অনেক খতরে যাহেরী-নুসূসে এসব সমস্যার সমাধানের ব্যাপারে সুস্পষ্ট বর্ননা পাওয়া যায়নি । তাই এমন তরীকা ও পদ্ধতি উদ্ভাবন করার প্রয়োজনীয়ত দেখা দেয়, যার মাধ্যমে এগুলোর সমাধান করা সম্ভবপর হয় । এ প্রেক্ষিতে উলামায়ে উম্মাত ইজতিহাদের মাধ্যমে উসুল ও নীতিমালা প্রণয়ন করেন ।[1]

সহীহ্‌ হাদিস দ্বারাও উক্ত পদক্ষেপের সমর্থন পাওয়া যায়,

রাসুলুল্লাহ (সঃ) যখন হযরত মু’আয (রাঃ) কে কাযী হিসাবে ইয়ামনে পাঠান, তখন মু’আয (রাঃ) কে লক্ষ্য করে নবী করিম (সঃ) বললেনঃ ‘হে মু’আয ! তুমি কিসের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান দেবে ? হযরত মু’আয (রাঃ) বললেন, কিতাবুল্লাহর মাধ্যমে । নবী করীম (সঃ) বললেন, ‘যদি কিতাবুল্লাহর মধ্যে সমাধান খুঁজে না পাও । তাঁর উত্তরে মু’আয (রাঃ) বললেন, সুন্নাহর মাধ্যমে । এরপর তিনি বললেন, যদি এতেও না পাও । তাঁর উত্তরে মু’আয (রাঃ) বললেন, আমি এমন সব ব্যাপারে ইজতিহাদ করবো । এ উত্তরে রাসুলুল্লাহ (সঃ) খুশি হয়ে বললেন, সকল প্রশংসা একমাত্র ঐ আল্লাহ্‌র যিনি তাঁর রাসূলের দূতকে এমন বিষয়ের তাওফিক দান করেছেন যার উপর তাঁর রাসূল সন্তুষ্ট আছেন ।

— তিরমিযি শরীফ, ১ম খন্ড, পৃঃ ২৪৭

উক্ত হাদিসে হযরত মু’আয (রাঃ) এর উক্তি اجتهد فيه برائ আমি এ সকল ব্যাপারে ইজতিহাদ করব- এর উপর রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর সন্তুষ্টি প্রকাশ করাই ইজতিহাদের বৈধতা বরং প্রয়োজনীয়তা প্রমাণিত হয় ।

ফুকাহায়ে মুতাকাদ্দিমুন কুরআন ও হাদীস গবেষণা করে মাসআলা ইস্তিম্বাতের নীতিমালা প্রণয়ন করেন এবং দ্বীনী আহ্‌কামের মূল উৎস সলীল চতুষ্টয় থেকে ফুরুঈ আহ্‌কাম ইস্তিম্বাত করেন । যে সকল মাসআলায় ফুকাহায়ে কিরাম ঐক্যমত্য পোষণ করেছেন, সেগুলো অকাট্য সিদ্ধান্ত হিসাবে গৃহীত হয়েছে । আর যে সকল মাসআলায় তারা ইখতিলাফ করেছেন তা উম্মতের জন্য রহমত হিসাবে পরিগণিত হয়েছে ।[2]

যেহেতু মাসআলা ইস্তিম্বাতের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন করে এর মাধ্যমে সহীহ্‌ মাসআলা বের করাই মুজতাহিদগণের উদ্দেশ্য; তাই মাসআলা ইস্তিম্বাত করার বেলায় তাঁদের কারো যদি ভুলও হয়ে থাকে তবু তিনি নেকীর অধিকারী হবেন । আর যিনি সহীহ্‌ভাবে মাসআলা ইসতিম্বাত করতে সক্ষম হন তিনি দ্বিগুণ নেকীর অধিকারী হবেন । ইখতিলাফী মাসআলার বেলায় প্রকৃতপক্ষে সহীহ্‌ হুকুম একটিই হয়ে থাকে । তবে তা কোনটি, সে ব্যাপারে আল্লাহই অধিক জানেন । উল্লেখ্য যে, উসুল ও আকাঈদ সংক্রান্ত মাসআলা মাসাইলের ব্যাপারে ফুকাহায়ে কিরামের মধ্যে কোন ইখতিলাফ বা মতানৈক্য হয়নি । অবশ্য শাখা-প্রশাখা মাসাইলে তাঁদের মধ্যে ইখতিলাফ হয়েছে । [3]

যে সকল মনীষী ইজতিহাদ করেছেন তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন শ্রেণীর ফকীহ্‌ রয়েছেন । কতক এমন আছেন যারা কুরআন-হাদীস হতে সরাসরি উসুল ও নীতিমালা বের করেন এবং তাঁর মাধ্যমে মাসাইল ইসতিম্বাত করেন । আবার কতক এমন আছেন যারা সরাসরি কুরআন-হাদীস থেকে নীতিমালা প্রণয়ন করতে সক্ষম নন । তবে অন্যের নীতিমালা অনুসরণ করে মাসাইল ইস্তিম্বাত করতে পারেন । আবার কিছুসংখ্যক এমন আছেন, যে ব্যাপারে ইমাম থেকে কোন অভিমত বর্নিত নেই যে ব্যাপারে তারা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন ।

উল্লেখ্য যে, যারা নীতিমালা প্রণয়ন করতে পারেন তাঁদের মধ্যে কিছুসংখ্যক মুজতাহিদের ইজতিহাদী মাসাইল বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক প্রসার লাভ করে । যেমন ইমাম আবূ হানীফা (রহঃ), ইমাম মালিক (রহঃ), ইমাম সুফিয়ান সাওরী (রহঃ), ইমাম ইবন আবূ লাইলা (রহঃ), ইমাম আওযাঈ (রহঃ), ইমাম শাফিঈ (রহঃ), ইমাম আহমদ ইবন হাম্বল (রহঃ), ইমাম দাউদ ইবন আলী ইস্ফাহানী (রহঃ) প্রমুখ । কিন্তু তাঁদের মধ্যে চার ইমাম যথা ইমাম আবূ হানিফা (রহঃ), ইমাম শাফিঈ (রহঃ), ইমাম মালিক (রহঃ) ও ইমাম আহমদ ইবন হাম্বল (রহঃ) এর ইজতিহাদী মতামত পরবর্তীদের জন্য অনুসরনীয় মাযহাব হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে । এ চার মাযহাবের মধ্যে ইমাম আযম আবূ হানীফা (রহঃ) এর মাযহাব সবচেয়ে অধিক প্রসার লাভ করেছে । কেননা তাঁর কর্মতৎপরতা সবচেয়ে বেশি ছিল । তিনি ছিলেন মুজতাহিদগণের শিরোমণি । তাঁর সম্পর্কে ইমাম শাফিঈ (রহঃ) বলেছিলেন - ফিক্‌হ শাস্ত্রে সকল মানুষ ইমাম আবূ হানীফা (রহঃ) এর পরিজনতুল্য । মুজতাহিদগণের যোগ্যতার এ পার্থক্যের কারণ তাঁদের মধ্যে শ্রেণীবিন্যাস করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়, যাতে মুফতিগণ প্রত্যেক মুজতাহিদের ইজতিহাদী স্তর উপলব্ধি করে ফাতওয়া প্রদানে সমর্থ হন । [4] [5]

তথ্যসূত্র

  1. উমদাতু রিয়াযাহ্‌, মুকাদ্দাতাতু শারহিল বিকাইয়া, পৃঃ ৬
  2. উমদাতু-রিয়ায়াহ্‌, মুকাদ্দিতাতু শারহিল বিকায়া, পৃষ্ঠা ৬
  3. নূরুল আনওয়ার, পৃষ্ঠা ২৪৭
  4. কাওয়াইদুল ফিক্‌হ, সাইয়িদ মুফতী মুহাম্মদ আমীমুল ইহসান (রহঃ), পৃষ্ঠা ৪৬৫
  5. ফাতাওয়া ওয়া মাসাঈল (ইফাবা)