এই সুন্নিপিডিয়া ওয়েবসাইট পরিচালনা ও উন্নয়নে আল্লাহর ওয়াস্তে দান করুন
বিকাশ নম্বর ০১৯৬০০৮৮২৩৪

ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) * কারবালার ইতিহাস * পিস টিভি * মিলাদ * মাযহাব * ইলমে গায়েব * প্রশ্ন করুন

বই ডাউনলোড

ইসলাম

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search

ইসলাম শব্দটি سلم ধাতু থেকে উৎপন্ন । سلم অর্থ শান্তি, সন্ধি স্থাপন । السلام শব্দটি باب افعال এর ক্রিয়ামূল । এর আভিধানিক অর্থ আত্মসমর্পন করা, অনুগত হওয়া ও শরীয়াতের হুকুম-আহ্‌কাম মেনে চলা ।
শারীয়াতের পরিভাষায় ইসলামের সংজ্ঞা কি ? এ প্রসঙ্গে হাদিসে জিবরীলে ইঙ্গিত করা হয়েছে । রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন,

ইসলাম হলো, আল্লাহ্‌ ছাড়া কোন ইলাহ্‌ নেই এবং মুহাম্মাদ (সঃ) আল্লাহ্‌র রাসূল বলে সাক্ষ্য দেওয়া, সালাত আদায় করা, যাকাত প্রদান করা, রামাযানের সাওম পালন করা এবং যাতায়াতের সামর্থ্য থাকলে বায়তুল্লাহ্‌ শরীফের হজ্জ আদায় করা ।

— বুখারী

এর বাহ্যিক আমলগুলো তখনই গ্রহণযোগ্য হবে যখন তা ঈমানী বিশ্বাসের সাথে সম্পৃক্ত হবে । কুরআন ও হাদিসের দ্বারা এও প্রমাণিত হয় যে, ঈমান পরিপূর্ন হবে তখন, যখন তাঁর সাথে বাহ্যিক আমলও থাকবে । এই প্রেক্ষিতে ঈমান ও ইসলাম অভিন্ন ।
এ অর্থেই আল-কুরআনে ইরশাদ হয়েছেঃ

সেথায় যেসব মু’মিন ছিল আমি তাঁদেরকে উদ্ধার করেছিলাম । এবং সেথায় একটি পরিবার ব্যতীত কোন মুসলমান আমি পাইনি ।

— ৫১:৩৫-৩৬

উক্ত আয়াতে যাদেরকে মু’মিন বলা হয়েছ, তাদেরকেও মুসলিমও বলা হয়েছে । এতে একথা প্রতীয়মান হয় যে, ঈমান ও ইসলাম এক ও অভিন্ন । অবশ্য কোন কোন ক্ষেত্রে ‘ইসলাম’ তাঁর আভিধানিক অর্থে শুধু বাহ্যিক আমল এবং ‘ঈমান’ শুধু অন্তরের বিশ্বাস এর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে । তখন ঈমান ও ইসলামের মধ্যে ভিন্নতা প্রকাশ পায় । এ অর্থে কারো ইসলাম (ঈমানহীন আমল) আল্লাহ্‌র কাছে গ্রহণযোগ্য নয় । আল-কুরআনে ইরশাদ হয়েছেঃ

আরব মরুবাসীগণ বলে, আমরা ঈমান এনেছি, বলো, তোমরা ঈমান আন নি । বরং তোমরা বলো, আমরা মুসলমান হয়েছি । কারণ ঈমান এখনো তোমাদের অন্তরে প্রবেশ করে নি ।

— ৪৯:১৪

ইছলাম-ই একমাত্র দ্বীন

হযরত মুহাম্মাদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি অছাল্লামের আগে আল্লাহ তাআ’লা অন্যান্য রছূলগণের নিকট কিতাব ও ছহিফা নাযিল করেন। রছূলগণের ইন্তেকালের পর তাঁর অনুসারীগণ নিজেদের খেয়াল খুশিমত উক্ত কিতাব ও ছহিফার মধ্যে নিজেদের কথাবার্তা ও মতবাদ ঢুকিয়ে দিয়ে কিতাবকে বিকৃত করার ফলে পরবর্তী অনুসারীগণ উক্ত বিকৃত কিতাবের অনুসরণ করে আল্লাহর মনোনীত দ্বীন হতে বহু দূরে সরে যায়। সব শেষে আল্লাহ রব্বুল আলামীন হযরত মুহাম্মাদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি অছাল্লামের উপর কোরআন নাজিল করেছেন এবং এ কুরআনকে সকল প্রকার পরিবর্তন - পরিবর্ধন ও বিকৃতি থেকে হেফাজাত করেছেন। উল্লিখিত আয়াতে বনি ইছরাইলদের পরস্পর বিদ্বেষ ও মতভেদের কারনে তাদের দ্বীন বিকৃতি করার কথা বলে হযরত মুহাম্মাদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি অছাল্লামকে দ্বীনের এক বিশেষ শরীয়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন যা অন্য সকল বিকৃত দ্বীন ও শরীয়াত হতে সম্পূর্ণভাবে আলাদা। আল্লাহ তাআ’লা রছূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি অছাল্লাম কে একমাত্র এ শরীয়াতের অনুসরণ করতে হুকুম করেছেন। রছূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি অছাল্লামের উপর নাযিলকৃত ইছলাম-ই একমাত্র আল্লাহর মনোনীত দ্বীন। এ ব্যাপারে কোরআন মাজীদে আল্লাহ তাআ’লা এরশাদ করেছেন -

(১৯) নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দ্বীন-ই একমাত্র ইসলাম।

— ছুরা আল ইমরান

আল্লাহ তাআ’লা আরও এরশাদ করেছেন -

(৩) ..... আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামত পূর্ণ করে দিলাম আর ইছলামকে তোমাদের জন্যে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম।

— ছুরা মায়েদাহ

উপরের দু’আয়াতে আল্লাহ তাআ’লা ইছলামকে তার একমাত্র মনোনীত দ্বীন বলে উল্লেখ করেছেন।