এই সুন্নিপিডিয়া ওয়েবসাইট পরিচালনা ও উন্নয়নে আল্লাহর ওয়াস্তে দান করুন
বিকাশ নম্বর ০১৯৬০০৮৮২৩৪

ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) * কারবালার ইতিহাস * পিস টিভি * মিলাদ * মাযহাব * ইলমে গায়েব * প্রশ্ন করুন

বই ডাউনলোড

ঈদ কি শুধু দুটিই ?

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search

ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা সম্পর্কে হাদিসে পাকে বলা হয়েছেঃ

সাহাবী আনাস বিন মালিক রাঃ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলে কারীম সা. যখন মদীনায় আসলেন তখন দেখলেন বছরের দুটি দিনে মদীনাবাসীরা আনন্দ-ফুর্তি করছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন এ দিন দুটো কি? তারা বলল যে আমরা ইসলামপূর্ব মুর্খতার যুগে এ দুদিন আনন্দ-ফুর্তি করতাম। রাসূলুল্লাহ সা. বললেনঃ 'আল্লাহ তাআলা এ দু’দিনের পরিবর্তে এর চেয়ে উত্তম দুটো দিন তোমাদের দিয়েছেন। তা হল ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতর'।

— আবু দাউদ

এখানে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা কে দুটি ঈদের দিন হিসেবে বলা হয়েছে কিন্তু এই দুইটি দিন ছাড়া অন্য কোন ঈদের দিন নাই তা এখানে উল্লেখ নাই । পবিত্র কুর’আন ও আরও অসংখ্য হাদীসে আরও অনেক দিনকে ঈদ এর দিন হিসেবে উল্লেখ হয়েছে।

পবিত্র কুর’আন থেকে

قَالَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا أَنزِلْ عَلَيْنَا مَآئِدَةً مِّنَ السَّمَاء تَكُونُ لَنَا عِيداً لِّأَوَّلِنَا وَآخِرِنَا وَآيَةً مِّنكَ وَارْزُقْنَا وَأَنتَ خَيْرُ الرَّازِقِينَ

অর্থঃ ঈসা ইবন মারিয়ম বললেন- হে আল্লাহ! আমাদের জন্য আসমান থেকে খাদ্য ভর্তি খাঞ্চা নাযিল করুন। এ দিন আমাদের জন্য ঈদ হবে। আমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সবার জন্যও তা হবে ঈদের দিন। আপনার পক্ষ থেকে এটি হবে একটি কুদরতি নিদর্শন।

— সূরা মায়িদাহ ১১৪

উক্ত আয়াতে প্রমাণিত হল যে, আল্লাহ পাকের কোন নিয়ামত লাভের দিনকেও ঈদের দিন হিসেবে উদযাপন করা যায়। নিঃসন্দেহে হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে প্রেরিত দুনিয়াবাসীর জন্য সবচেয়ে বড় নিয়ামত; কারন তিনি সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য রহমত । আল্লাহ তায়ালা বলেন,

আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছি ।

— সূরা আম্বিয়া, আয়াত ১০৭

সুতরাং এই দিনটি অবশ্যই আনন্দ তথা ঈদের দিন । এছাড়াও লাইলাতুল বারাত ও লাইলাতুল কদরকেও ঈদের দিন হিসেবে বলা হয়েছে। হযরত আব্দুল কাদীর জিলানী (রঃ) বলেন-

ফেরেশতাদের জন্য লাইলাতুল বারাত ও লাইলাতুল ক্বদর দুটি ঈদের দিন।

— গুনিয়াতুত তালেবীন (উর্দু) পৃঃ ৩৬৫

হাদীস গ্রন্থসমূহে

১. জুম্মার দিন

হযরত আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বর্ণনা করেন- রাসূলুল্লাহ (দঃ) ইরশাদ করেন, নিশ্চয় এ দিন (জুমুআর দিন) আল্লাহ তা’আলা মুসলমানদের জন্য ঈদের দিন হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি জুমুয়া পড়তে আসবে সে যেন গোসল করে ও সুগন্ধি থাকলে উহা লাগায় এবং তোমাদের উপর মিসওয়াক করা আবশ্যক।

— ইবন মাজাহ পৃঃ ৭৮

অনেক হাদীসে এই দিনটিকে ইদুল ফিতর ও ইদুল আযহা থেকেও শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
—ইবন মাজাহ পৃঃ ৭৭ ও মিশকাত শরীফ পৃঃ ১২০
২. আরাফার দিন (৯ই জিলহজ্ব)
অনেক রেওয়াতে ৯ই জিলহজ্ব অর্থাৎ আরাফার দিনটিকেও ঈদের দিন হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
—মিশকাত শারীফ পৃঃ ১২১ ও তিরমিযী শারীফ পৃঃ ১৩৪
৩. প্রতি মাসে ৪/৫ দিন

হুজুর পাক (সঃ) ইরশাদ করেন, মু'মিন মুসলমানদের প্রতি মাসে চারটি অথবা পাঁচটি ঈদ রয়েছে। অর্থাৎ প্রতিমাসে চারটি অথবা পাঁচটি সোমবার হয়ে থাকে।

— কিফায়া শরহে হিদায়া ২য় খন্ড - বাবু ছালাতিল ঈদাইন; হাশিয়ায়ে লখনবী আলাল হিদায়া

৪. রোযাদারের জন্য দুটি ঈদ

হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, রোযাদারের জন্য দুটি ঈদ বা খুশি। একটি হলো তার প্রতিদিন ইফতারের সময়। আর অন্যটি হলো মহান আল্লাহ পাকের সাক্ষাতের সময়!

— বুখারী শরীফ - কিতাবুস সাওম; মুসলিম শরীফ; মিশকাত শরীফ, রোজা অধ্যায়

সুতরাং কোরআন ও হাদীস থেকে দেখা যাচ্ছে, শরীয়ত সমর্থিত যেকোন আনন্দের দিনই ঈদের দিন । আর ঈদ-ই-মিলাদুন্নাবী বলতে বুঝায় নবী কারীম (দঃ) এর পৃথিবীতে আগমন উপলক্ষে ঈদ বা আনন্দের দিন।