ঐতিহাসিক ১০ই মুহররম

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
কারবালার ইতিহাস












  • ঐতিহাসিক ১০ই মুহররম



















দশ তারিখের রাত্রি হল, হযরত ইমাম হুসাইন (রাঃ) তাঁর সফর সঙ্গীদের সবাইকে একত্রিত করলেন এবং বললেন, আমার প্রিয় সাথীরা! আমি তোমাদের সকলের প্রতি আন্তরিকভাবে সন্তুষ্ট । আমি সানন্দে তোমাদেরকে অনুমতি দিচ্ছি যে, আজ রাতে তোমরা যে যেদিকে পার চলে যাও। এইসব ইয়াযীদী বাহিনীর লোকেরা আমার রক্ত পিপাসু। এরা একমাত্র আমার রক্তেই পরিতৃপ্ত হবে। তোমরা চলে যাও, তোমাদের জান বেঁচে যাবে। কিন্তু তাঁর সাথীদের মধ্যে একজনও যেতে রাজী হলেন না । বরং বললেন, এ নাজুক সময়ে আপনাকে শত্রুদের হাতে সোপর্দ করে কিভাবে চলে যেতে পারি! এ রকম পরিস্থিতিতে যদি আপনাকে ফেলে আমরা চলে যাই, কাল ক্বিয়ামতের মাঠে আমরা আল্লাহর রসূল (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে কিভাবে মুখ দেখাব? আল্লাহ্‌র রসূল (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলবেন, তোমরা নিজেদের জানকে আমার প্রিয় দৌহিত্র হুসাইন এর জান থেকে প্রিয় মনে করেছ এবং তোমরা আমার দৌহিত্রকে শত্রুদের অস্ত্রের মুখে সোপর্দ করে চলে গেছ । না!না!! কিছুতেই আমরা আপনাকে ফেলে চলে যেতে পারি না। আমরা আপনার সাথেই থাকবো এবং আমরা আমাদের জানকে পতঙ্গের মতো উৎসর্গ করবো।

যখন কেউই যেতে রাজি হলেন না, তখন হযরত ইমাম হুসাইন (রাঃ) বললেন, তাহলে শুন! যদি তোমরা হুসাইনের সাথে থাকার জন্য দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হও, তাহলে তোমরা ধৈর্য এবং আত্ম-বিশ্বাসে শিশাঢালা প্রাচীরের মতো অটল হয়ে যাও। এমন দৃঢ় ও অটল হয়ে যাও, যেন জুলুম-অত্যাচারের বিভীষিকা তোমাদের পদস্খলন ঘটাতে না পারে। বাতিলের সাথে মোকাবিলা করার সময়টা হলো, আমাদের পরীক্ষার সময়। আল্লাহ তা’য়ালা তাঁর বান্দাদের থেকে পরীক্ষা নিয়ে থাকেন । এখন আমাদের সামনে মুছীবতের পাহাড় । সমস্ত দুঃখ-দূর্দশা আমাদেরকে ধৈর্য সহকারে অতিক্রম করতে হবে। আল্লাহর রাস্তায় অটল থাকতে হবে এবং এভাবে অটল থেকে শাহাদাতের শরবত পান করতে হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উদাহরণ রেখে যেতে হবে । হযরত ইমাম হুসাইন (রাঃ)এর এ কথা তাঁর সাথীদের মধ্যে যথেষ্ট ধৈর্য শক্তি সৃষ্টি করলো । তাঁর (রাঃ) সকল সাথী তাঁর জন্য জান কুরবান করতে প্রস্তুত হয়ে গেলেন এবং সকলেই শাহাদাত বরণের জন্য অনুপ্রাণিত হয়ে গেলেন এবং ধৈর্য ও ত্যাগ স্বীকারের জন্য দৃঢ় পাহাড় হয়ে গেলেন । রাত একটু গভীর হলে হযরত ইমাম হুসাইন (রাঃ) তাঁর সাথীদের বললেন, তোমরা কিছুক্ষণের জন্য বিশ্রাম করো। সকাল বেলা আল্লাহর হুকুমে যা হওয়ার তাই হবে ।

তাঁর সাথীরা সবাই নিজ নিজ তাঁবুতে চলে গেলেন এবং তিনি নিজের তাঁবুতে কুরআন তিলাওয়াতে মগ্ন হলেন । কুরআন তিলাওয়াত করতে করতে তাঁর তন্দ্রাভাব আসায় তিনি কিছুক্ষণের জন্য শুয়ে পড়লেন । তখন তিনি স্বপ্নে দেখলেন, তাঁর নানাজান (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাশরীফ এনেছেন এবং তাঁকে কোলে নিয়ে নিলেন এবং তাঁর বুকে হাত মুবারক রেখে বললেন-

اللهم ات الحسين صبرا واجرا অর্থাৎ ‘হে আল্লাহ ! হুসাইনকে ধৈর্য ও পূণ্য দান করুন

এবং হুসাইনকে আরও বললেন,

তোমার উপর যা হচ্ছে, তা থেকে আমি বেখবর নই। আমি সবকিছু দেখছি। তোমার বিরুদ্ধে যারা তলোয়ার, তীর ইত্যাদি নিয়ে এসেছে, তারা সকলেই আমার শাফায়াত থেকে বঞ্চিত।

হুযূর (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এটা বলে ইমাম হুসাইন (রাঃ) এর অন্তরকে ধৈর্য এবং স্থিরতার খনি বানিয়ে চলে গেলেন । হযরত ইমাম হুসাইন (রাঃ) ঘুম থেকে উঠে তাঁর বন্ধু-বান্ধব এবং পরিবার পরিজনকে স্বপ্নের কথা শুনালেন। ফজরের নামাযের পর তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছিলেন- ‘ইয়া আল্লাহ! আপনার রাস্তায় আমাকে অটল রাখুন, মওলা ! ধৈর্য এবং সহনশীলতা দান করুন । হে মাওলা! জুলুম-অত্যাচারের ঝড় তুফান আমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে, আপনি আমাকে অটল থাকার তাওফীক দান করুন, যেন জুলুম-অত্যাচার আমাকে পদচ্যুত করতে না পারে।’ এভাবে তিনি মুনাজাত করছিলেন আর তাঁর (রাঃ) সাথীরা আমীন, আমীন বলছিলেন।

এদিকে পিপাসাকাতর আল্লাহর নেক বান্দাগণ ধৈর্য এবং সহনশীলতার জন্য আল্লাহ পাক উনার কাছে প্রার্থনা করছেন, অন্যদিকে ইয়াযীদের সৈন্যদের মধ্যে যুদ্ধের মহড়া দিচ্ছে । দুর্যোগের কালো মেঘে আকাশ ছেয়ে গেল, ইয়াযীদের সৈন্যরা লম্ফ-ঝম্ফ দিতে লাগল, তাদের মধ্যে কতেক জাহান্নামী ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে হযরত ইমাম হুসাইন (রাঃ) এর তাঁবুর আশে-পাশে চক্কর দিতে লাগল এবং গর্ব ও অহংকারভরে হুঙ্কার দিয়ে বলতে লাগল, এমন কোন বাহাদুর আছ? থাকলে আমাদের মোকাবিলায় আস । ইত্যবসরে যালিমদের মধ্যে কেউ হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার তাঁবুর দিকে তীর নিক্ষেপ করল এবং মোকাবিলার জন্য হুঙ্কার দিল।

তথ্যসূত্র

  • কারবালা প্রান্তরে(লেখকঃ খতিবে পাকিস্তান হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ শফী উকাড়বী(রহঃ))