ওহুদের যুদ্ধের কোন কোন শহীদের লাশ বহু বছর পরও অক্ষত থাকার প্রমাণ

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
কবরের জীবন


























  • ওহুদের যুদ্ধের কোন কোন শহীদের লাশ বহু বছর পরও অক্ষত থাকার প্রমাণ

মুয়াত্তায়ে ইমাম মালেক গ্রন্থে আছে, হযরত আমর ইবনে জামুহ আনসারী (রা) এবং আব্দুল্লাহ ইবনে আমর আনসারী (রা) উভয়ে ওহুদ যুদ্ধে অংশ গ্রহন করে শহীদ হলে, দুজন কেই একই কবরে দাফন করা হয় । দীর্ঘ ছেচল্লিশ বছর পর পানি প্রবাহের কারনে তাঁদের কবরটি ভেঙ্গে যায় । তখন অন্য স্থানে দাফন করার প্রয়োজনে তাঁদের কবর খনন করা হয় । খননের সময় তাঁদের লাশ দুটি সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় পাওয়া যায়, বিন্দুমাত্র ক্ষতি হয় নি । দেখে মনে হচ্ছিলো যেন তাঁরা গতকাল শহীদ হয়েছেন । তাঁদের মধ্যে একজনের দেহে জখম ছিল । এবং দাফনের পূর্বে জখমের স্থানটি তার নিজ হাত দ্বারা চেপে ধরা ছিল । প্রথম বার এই অবস্থায় তাঁদের দাফন কর হয় । দ্বিতীয়বার কবর খননের পর জখম হতে হাত সরানো হয়েছিলো । কিন্তু পুনরায় হাত নিজে নিজেই পূর্বস্থানে এসে স্থাপিত হল । ওহুদ যুদ্ধ ও এই ঘটনার মধ্যে ব্যাবধান ছিল ছেচল্লিশ বছর । (মুয়াত্তায়ে ইমাম মালেক)

এ ঘটনাকে আল্লামা ইবনে কাছির (র) আল বিদায়া ওআন নিহায়া গ্রন্থে এভাবে উল্লেখ করেছেন, ওহুদ যুদ্ধের শহীদগণকে যে স্থানে দাফন করা হয়েছিলো, সে স্থান দিয়ে মুয়াবিয়া (রা) এর শাসন আমলে একটি নহর খননের পরিকল্পনা করা হল । তখন সাহাবীগণদের লাশ মোবারক অন্যত্র সরানোর প্রয়োজন হয়ে পড়ে । হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা) বলেন, আমি সেখানে শহীদ গনের কবর খনন করেছি । আমি আমার পিতার লাশ এমন অবস্থায় দেখতে পেলাম যে, মনে তিনি যেন নিজের অভ্যাস মাফিক ঘুমিয়ে আছেন । তার সাথে তার কবরে হযরত আমর ইবনে জামুহ আনসারী (রা)কেও দাফন করা হয়েছিলো । আমি তাঁকে দেখলাম, তার হাত দ্বারা দেহের একটি জখম চেপে ধরা । হাতটি জখম হতে সরান হলে জখম হতে রক্ত প্রবাহিত হতে লাগলো । এরপর আল্লামা ইবনে কাছির (র) লিখেছেন, এ কথা প্রচলিত রয়েছে যে, তাঁদের কবর থকে মেশকের সুঘ্রাণ পাওয়া গিয়েছিলো । আর এই ঘটনা দাফন করা থকে ৪৬ বছর পরের ঘটনা ।

এছাড়া আল্লামা ইবনে কাছির (র) মুহাদ্দিস বায়হাকি (র)এর উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছেন, মুয়াবিয়া (রা)এর শাসনামলে ওহুদ প্রান্তর দিয়ে নহর কাটার জন্য মাটি খনন করা হয় । খননকালে শহীদ হামজা (রা) এর পায়ে গিয়ে কদালের আঘাত লাগে । এর ফলে লাশের আহত স্থান থেকে রক্ত ধারা প্রবাহিত হচ্ছিলো । -আল বিদায়া অয়ান নিহায়া, ৪র্থ খণ্ড, ৪৩ পৃষ্ঠা

ওহুদের শহীদগণ ছাড়াও মুসলিম জাতির শীর্ষ স্থানীয় বুজুর্গ ও পণ্ডিত ব্যাক্তিদের জীবনী গ্রন্থ দ্বারা প্রমানিত হয় যে, দাফনের পর বহু বছর অতিবাহিত হওয়ার পরেও তাঁদের লাশ বিন্দু মাত্র পরিবর্তন হয় নাই । নবী রাসুলদের প্রসংগে হাদিসে সুস্পষ্ট ও সন্দেহাতিত ভাবে এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে যে, তাঁদের মোবারক দেহকে মাটি পঁচাতে বা গলাতে পারে না । তবে নবী নয় এমন কোন ব্যাক্তিকেও যদি আল্লাহ্‌ তায়ালা এ সৌভাগ্য ও মর্যাদা দান করেন, তা আল্লাহর অনুগ্রহ ও ক্ষমতার বাইরে কোন বিষয় নয় ।