এই সুন্নিপিডিয়া ওয়েবসাইট পরিচালনা ও উন্নয়নে আল্লাহর ওয়াস্তে দান করুন
বিকাশ নম্বর ০১৯৬০০৮৮২৩৪

ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) * কারবালার ইতিহাস * পিস টিভি * মিলাদ * মাযহাব * ইলমে গায়েব * প্রশ্ন করুন

বই ডাউনলোড

কবরে আজাবের বিবরন

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
কবরের জীবন















  • কবরে আজাবের বিবরন











আহলে সুন্নাত অয়াল জামাতের আকিদা অনুযায়ী কবরের আজাব সত্য ও বাস্তব । পুণ্যবান মুমিনগণ কবরে যেরূপ শান্তি লাভ করেন এবং কেয়ামত পর্যন্ত সুখ শান্তিতে অবস্থান করেন, তেমনি ভাবে কাফের বেইমান মুনাফেক ও কবরে শাস্তি ভোগ করে । অসংখ্য হাদিস দ্বারা এই বিষয়টি প্রমানিত ।

হযরত আয়েশা (রা) এর কাছে জনৈক ইহুদি মহিলা এসে কবরের আজাব প্রসঙ্গে আলোচনা করল । এবং বলল আল্লাহ্‌ তোমাকে কবরের আজাব থেকে নিরাপদে রাখুন । অতঃপর আয়েশা (রা) নবী করীম (সঃ) এর নিকট কবরের আজাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি এরশাদ করেন ,” হা ! কবরের আজাবের বিষয় টি সত্য ও বাস্তব । আয়েশা (রা) বলেন , এর পর যখনি নবী (সঃ) নামাজ পড়তেন , তখনি নামাজ শেষে আল্লাহ্‌ তায়ালা র কাছে কবরের আজাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন

— বুখারি ও মুসলিম


হযরত উসমান (রা) যখন কোন কবরের কাছে দাঁড়াতেন , তখনি এতো বেশি কাঁদতেন যে , অশ্রু ধারায় তাঁর শ্মশ্রু মণ্ডলী ভিজে যেত । জিজ্ঞাস করা হল জান্নাত ও জাহান্নামের আলোচনা হলে তো আপনি কাদেন না, অথচ কবর দেখে এতো কাঁদেন কেন ? হযরত উসমান (রা) বললেন , রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ

নিশ্চয়ই কবর হচ্ছে পরকালের মঞ্জিল সমুহের মধ্যে প্রথম মঞ্জিল । সুতরাং কবরের আজাব হতে নাজাত পেলে তাঁর পরবর্তী মঞ্জিল গুলো অনেক সহজ হয়ে যায় । আর যদি কবরের আজাব হতে নাজাত না পায়, তা হলে পরবর্তী মঞ্জিল গুলো তাঁর তুলনায় অনেক কঠিন হয় ।

— তিরমিজি , ইবনে মাজা

কবরে বিষধর সাপের দংশন

হযরত আবু সাইদ খুদরি (রা) বলেন , রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন ,

কাফের ও বেইমান দের কবরে অবশ্যই বিষধর সাপ নিয়োজিত করা হয় । যারা কেয়ামত পর্যন্ত তাঁকে দংশন করতে থাকে । সাপ গুলোর বিষ এতো মারাত্মক হবে যে , তাঁর একটি সাপ ও যদি পৃথিবীতে নিঃশ্বাস ছাড়ে , তাহলে তার বিষ ক্রিয়ায় পৃথিবীতে এক গাছা ঘাস ও জন্মানোর যোগ্যতা অবশিষ্ট থাকবে না ।

আধুনিক যুগের এটম বমের কথা চিন্তা করলে নবী করীম (সঃ) এর এই হাদিসের মর্ম অনুধাবন করতে আদৌ কোন কষ্ট হয় না । কারন এটম বোমার বিক্রিয়ায় সবকিছু ধংস হয়ে মাটির উর্বরা ক্ষমতা কে বিনষ্ট করে ফেলে । যেমন হিরোসীমা ও নাগাসিকি শহর দুটিতে হয়েছিলো ।

কবরের শাস্তির যন্ত্রণায় মৃতের চিৎকার করা এবং লোহার মুগুর দ্বারা পেটানো

হযরত বারায়া ইবনে আজিজ (রা) কর্তৃক বর্ণিত এক হাদিসে আছে ,

রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন ,কবরে কাফের ব্যাক্তি যখন মুন কীর নাকির এর জিজ্ঞাসার জবাবে বলে , হায় আমি কিছু জানি না, তখন আকাশ হতে একজন ঘোষক বলে, “এ লোক মিথ্যা বলছে , তার জন্য আগুনের বিছানা বিছিয়ে দাও । তাঁকে আগুনের পোশাক পরিধান করাও, তার দিকে জাহান্নামের একটি দরজা খুলে দাও ।” অতঃপর জাহান্নামের দিকে দরজা খুলে দেয়া হলে সে দরজা পথে তার কবরে জাহান্নামের তপ্ত লু হাওয়া প্রবাহিত হতে থাকে । অতঃপর তার কবরকে এতো সংকুচিত করা হয় যে, মাটির চাপে তার উভয় পাঁজরের হাড় পরস্পর বিপরিত দিকে বের হয়ে পরে । তারপর একে শাস্তি দেবার জন্য এমন এক ফেরেশতা মোতায়েন করা হয়, যে অন্ধ ও বধির । তার হাতে থাকে বিরাট এক লোহার গদা । যার প্রকৃতি এমন যে, যদি তার ওপর পাহাড়ের ওপর আঘাত করা হয় , তবে পাহাড়ও মাটির সাথে মিশে যাবে । এ গদা দ্বারা এক বার আঘাত করলে মানুষ ও জিন ছাড়া পূর্ব পশ্চিমে সমস্ত প্রাণী তার চিৎকারের শব্দ শুনতে পায় । আর একবার আঘাত করলে কাফের ব্যাক্তি মাটির সাথে মিশে যায় । অতঃপর তাঁকে পুনরায় জীবিত করা হয় ।

— আহমদ ও আবু দাউদ শরীফ

বুখারি ও মুসলিম শরীফে উদ্ধৃত এক হাদিসে বলা হয়েছে , এ লোহার গদা দ্বারা আঘাত করলে কাফের ব্যাক্তি এমন জোড়ে চিৎকার দেয় , যার শব্দ তার নিকটবর্তী মানুষ ও জিন ছাড়া প্রতিটি বস্তু শুনতে পায় ।

— মেশকাত

এখানে এ জিজ্ঞাসার সৃষ্টি হয় যে , মৃত কে মারার এবং তার চিৎকার দেয়ার শব্দ মানুষ ও জিনদের কেন শোনানো হয় না ??

এর জবাবে বলা হয় , মানুষ ও জিন দের সাথে আলমে বরজাখের একটা সম্পর্ক বিদ্যমান । তাদের কে যদি কবরের আজাব দেখান হয় , অথবা তারা যদি সেখানে বিপদগ্রস্ত ব্যাক্তির চিৎকার শুনতে পায় , তাহলে তারা আল্লাহ্‌ তায়ালার প্রতি ঈমান আনবে । এবং পুণ্যময় কাজ করবে । কিন্তু কথা হল আল্লাহ্‌ তায়ালা গায়েব ও অদৃশ্যের বিষয়ের প্রতি ঈমান আনার নির্দেশ দিয়েছেন । সেরুপ ঈমান তার কাছে গ্রহন যোগ্য । শুধু আল্লাহ্‌ তায়ালা ও তাঁর রাসুলের কথা শুনে , তা বুঝে আসুক বা না আসুক, তা সঠিক বলে বিশ্বাস করা কে ঈমান বলে । কোরআন মজিদে আল্লাহ্‌ তায়ালা বলেছেন ,

ইন্নাল্লাজি না ইয়াখ সাও না রাব্বা হুম বিল গাইবি লাহুম মাগফিরাতুন অয়া আজরুন কাবির

অর্থঃ যারা নিজস্ব প্রতিপালক কে না দেখে অদৃশ্য ভাবে ভয় করে ,তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও বিরাট প্রতিদান ।

— সুরা মুমিন –শেষ রুকু

জানান্ত জাহান্নাম ও কবরের অবস্থা যদি অবলকন করানো হয় , তাহলে ঈমান বিল গায়েব বা অদৃশ্যে বিষয়ের প্রতি ঈমান আনা হয় না । আল্লাহ্‌ তায়ালার কাছে চাক্ষুস দেখে ঈমান গ্রহন কবুল হয় না । এজন্য মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে মুমিন হওয়া গ্রহন যোগ্য নয় । কেন না তখন তো আজাবের ফেরেশতা কে দেখতে পাওয়া যায় । আল্লাহ্‌ তায়ালা বলেছেন

ফালাম ইয়াকু ইয়ান ফা উ হুম ই মাআনুহুম লাম্মা রা আ আও বা’সা না

অর্থ- তারা যখন আমার শাস্তি অবলকন করে , তখন তাদের ঈমান আনায় কোন উপকার হবে না ।

— সুরা মুমিন – শেষ রুকু

কেয়ামতের দিন কবর থেকে উঠে জান্নাত জাহান্নাম দেখে সবাই ঈমান আনবে । এবং নবী রাসুলগণকে সত্য মানবে , কিন্তু সে সময় বিশ্বাস স্থাপনে কোন ফল লাভ হবে না । তখন কারো ঈমান আল্লাহ্‌ তায়ালার কাছে গ্রহন যোগ্য হবে না ।

মানুষ কে কবরের আজাব না দেখানো এবং কবরে মৃত ব্যাক্তির চিৎকার না শোনানোর মধ্যে এ কল্যাণ ও নিহত আছে যে , তারা তা দেখলে ও শুনলে সহ্য করতে পারত না, তৎক্ষণাৎ জ্ঞান হারাবে , কোন ক্রমেই ধৈর্য ধারন করতে পারবে না ।

হযরত আবু সাইদ (রা) বলেন , রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন,

মানুষ যখন কাফেরের কফিন বহন করে চলে , তখন মৃত ব্যাক্তি বলেঃ হায় আমার দুর্গতি ! তোমরা আমায় কোথায় নিয়ে যাচ্ছ? তাঁর একথা মানুষ ছাড়া সমস্ত প্রাণী শুনতে পায় । এ কথা যদি কোন মানুষ শুনতে পেত , তবে তৎক্ষণাৎ সে অচেতন হয়ে পড়ত ।

— বুখারি শরীফ ও মেশকাত শরীফ

অবশ্যই আল্লাহ্‌ তায়ালা রাসুলুল্লাহ (সঃ) কে কবরের অবস্থা সম্পর্কে শুধু বলেন নি বরং তা দেখিয়েছেনও । কেননা তাঁর এসব শাস্তি দেখে সহ্য করার ক্ষমতা ছিল । এমনকি জাহান্নামের দৃশ্য দেখেও কান্না সম্বরন করার এবং স্বীয় সাহাবীদের সাথে চলাফেরা এবং পানাহার করনে তাঁর কোন ব্যাঘাত সৃষ্টি হয় নি । হযরত আবু আইউব (রা) বলেছেন,

রাসুল (সঃ) কোন এক সময় মদিনায় থাকাকালে সূর্য অস্ত মিত হওয়ার পর শহরের বাইরে গেলেন । এমন সময় তিনি এক বিরাট বিকট শব্দ শুনে বললেন, ইহুদিগণ কে তাদের কবরে শাস্তি দেয়া হচ্ছে ।

— বোখারি শরীফ ও মুসলিম শরীফ

হযরত জায়েদ ইবনে ছাবিত (রা) বলেছেন

রাসুলুল্লাহ (সঃ) কোন এক সময় স্বীয় খচ্চরের পিঠে আরোহণ করে বনু নাজ্জারের বাগানে যেতে ছিলেন । আমিও তাঁর সাথে ছিলাম । হঠাৎ নবী করীম (সঃ) এর খচ্চরটি লাফ দিয়ে উঠল । এমন লাফ দিলো যে নবী করীম (সঃ) খচ্চরের পিঠ থেকে পরে যাওয়ার উপক্রম হলেন । সেখানে পাঁচ অথবা ছয়টি কবর ছিল । নবী করীম (সঃ) সমাহিত ব্যাক্তিদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন , এদের কে কি তোমরা চিনতে? এক লোক বলল আমি তাদেরকে চিনতাম । নবী করীম (সঃ) জিজ্ঞেস করলেন , এরা কখন মারা গেছে? সে বলল এরা শেরেকী জামানায় মরেছে । তখন নবী করীম (সঃ) বললেন , এদেরকে কবরে কঠিন শাস্তি দেয়া হচ্ছে , তোমরা মৃত ব্যাক্তি দের দাফন পরিত্যাগ করার আশংকা না হলে , আমি আল্লাহ্‌ তায়ালার কাছে এ দোয়া করতাম , তোমাদেরকে ও যেন এই কবরের শাস্তির কিছু অংশ শুনান – যা আমি এখন শুনছি ।

— মুসলিম শরীফ

চোগল খুরী ও পেশাবের ছিটা হতে আত্মরক্ষা না করায় কবরের আজাব

হযরত ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সঃ) দুটি কবরের নিকট দিয়ে পথ অতিক্রম করছিলেন , এমন সময় তিনি বললেন , এ কবর দ্বয়ে সমাহিত ব্যাক্তিদ্বয়কে শাস্তি দেয়া হচ্ছে । তাদের কে বড় কোন অপরাধের জন্য শাস্তি দেয়া হচ্ছে না বরং খুব ই সাধারণ কাজের জন্য শাস্তি দেয়া হচ্ছে, ইচ্ছা করলেই তারা এই কাজ থেক বেঁচে থাকতে পারত। কাজ দুটি হচ্ছে- একজন পেসাব করা কালে পর্দা করত না । আর এক বর্ণনায় আছে , পেশাবের ছিটা থেকে পবিত্র হতো না । আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে, কুটনামী ও চোগল খুরী করত । অতঃপর নবী করীম (সঃ) একটি কাঁচা খেজুরের ডাল আনিয়ে তা দু’ভাগ করে একটি করে সে কবর দুটিতে পুতে রাখলেন । সাহাবী (রা) গন জিজ্ঞেস করলেন , হে আল্লাহর রাসুল ! এটা কেন? এতে কি ফায়দা হবে? তিনি বললেন, আমি আশা করি এই ডাল দুটি না শুকানো পর্যন্ত তাদের শাস্তি কিছুটা হালকা করা হবে । এর ব্যাখ্যায় কোন কোন আলেম বলেছেন , তাজা ডালের আল্লাহ্‌ পাকের তজবিহ পাঠের কারনে শাস্তি হ্রাস পাওয়ার আশায় তিনি এরুপ করেছেন ।

— বুখারি, মুসলিম শরীফ