কবরে বিশেষ কিছু কাজের বিশেষ বিশেষ আজাব

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
কবরের জীবন
















  • কবরে বিশেষ কিছু কাজের বিশেষ বিশেষ আজাব










বুখারি শরিফের একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর একটি স্বপ্নের বিবরন বর্ণিত হয়েছে , যাতে কবর জগতের বিশেষ বিশেষ কিছু আজাবের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে । রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন ,

আমি আজ রাতে স্বপ্নে দেখেছি যে , দু জন লোক আমার কাছে এসে আমার হাত ধরে এক পবিত্র ভুমির দিকে নিয়ে চলছে । ে অবস্থায় আমি দেখচি যে , একজন লোক বসা রয়েছে , আর এক লোক লোহার এক চিমটা হাতে দাড়িয়ে আছে , সে ওই চিমতা সে ওই চিমটা দ্বারা বসা ব্যক্তির গলা হতে গুহ্য দ্বার পর্যন্ত সম্মুখ ভাগে চিরছে । আমি জিজ্ঞেস করলাম এ কি ব্যাপার? প্রতুত্তরে উভয়ে বললেন সামনে চলুন । আমি চলতে চলতে এমন এক লোকের কাছে গিয়ে উপনীত হলাম , যে চিত হয়ে শুয়ে আছে । আর তাঁর শিওরে এক লোক ভারি পাথর হাতে দণ্ডায়মান । দণ্ডায়মান ব্যাক্তি তাঁর হাতের ভারী পাথর দ্বারা শোয়া লোক টির মাথায় সজোরে আঘাত করছে । আঘাতের পর পাথর টি দূরে ছিটকে পড়ছে । সে পাথর টি পুনরায় কুড়িয়ে আনছে । সে ফিরে আসার পূর্বেই তাঁর মাথার আঘাত ভালো হয়ে পূর্ব বত হয়ে যাচ্ছে । পুনরায় সে অনুরুপ করে চলছে । জিজ্ঞেস করলাম একি ব্যাপার ? তারা উভয়ে বলল সামনে চলুন । অতঃপর আমি চলতে চলতে একটি গর্তের কাছে পৌঁছলাম । যা দেখতে উনুনের মতো । এ গর্তের উপরিভাগ সরু কিন্তু নিম্ন ভাগ প্রশস্ত । তাতে আগুন জলছে । এবং তাঁর মধ্যে রয়েছে অনেক উলংগ নারী পুরুষ । আগুন যখন জ্বলে উপরের দিকে ওঠে , লোক গুলো সাথে সাথে ওপরের দিকে উঠে আসে । এবং বের হওয়ার উপক্রম করে । অতঃপর আগুন নিম্ন দেশে যাওয়ার সাথে সাথে লোক গুলো ও নিম্ন দেশে চলে যায় । আমি জিজ্ঞেস করলাম , এ কি ঘটনা? তারা উভয়েই বলল সামনে চলুন । আমি সামনে চলতে চলতে একটি রক্তের নহরের কাছে উপনীত হলাম । দেখলাম নহরের মাঝখানে এক লোক দাঁড়ানো । আর নহরের তীরে দাঁড়ানো এক লোক , তাঁর সম্মুখে রয়েছে অনেক গুলো পাথর খণ্ড । নহরের মাঝে দণ্ডায়মান ব্যাক্তি যখন তীরে উঠতে চায় , তখন তীরে অবস্থিত ব্যাক্তি তাঁর ওপর পাথর নিক্ষেপ করে , ফলে সে তাঁর পূর্ব স্থানে যেতে বাধ্য হয় । আমি জিজ্ঞেস করলাম , একি হচ্ছে ? তারা বলল সামনে চলুন । এরপর আমি চলতে চলতে এক সবুজ শ্যামল বাগানে উপনীত হলাম ।সে বাগানে রয়েছে বিশাল এক বৃক্ষ । সে বৃক্ষের তলায় বসে রয়েছেন এক বৃদ্ধ ও অনেক শিশু । এই বৃক্ষের নিকটেই বসে রয়েছে আর এক লোক , যার সম্মুখে আগুন জ্বলছে এবং সে তাতে ফুক দিচ্ছে । অতঃপর ওই দু ব্যাক্তি আমাকে উঠিয়ে বৃক্ষের ওপরে নিয়ে গেলো । সেখানে গাছপালার মধ্যে একটি সুন্দর ঘর বিদ্যমান । এর চেয়ে সুন্দর ঘর আমি ইতিপূর্বে আর কখনও দেখিনি । সে ঘরে আমাকে প্রবেশ করানো হল । সেখানে আমি অনেক বৃদ্ধ যুবক শিশু নর নারী কে দেখতে পেলাম । অতঃপর আমাকে ওই ঘর থেকে বের করে আরও ওপরের দিকে নেয়া হল । সেখানে পূর্বের ঘরের তুলনায় অনেক সুন্দর ও মনমুগ্ধ কর আর একটি ঘর রয়েছে , সেখানে আমাকে নেয়া হল । তাতে অনেক বৃদ্ধ ও যুবক রয়েছে আমি তাদের দুজন কে বললাম , তোমরা আমকে সারারাত চতুর্দিকে ঘোরালে এখন বল আমি যা দেখেছি তাঁর মর্ম কি ?

তারা উভয়ে আমাকে বলল , আপনি প্রথমত যে লোকের দেহ চিরতে দেখেছেন , সে লোক টি মিথ্যা বাদী । সে সমাজে মিথ্যা কথা বলে বেড়াতো । এবং তা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ত । এ লোকের সাথে কেয়ামত পর্যন্ত এই আচরণই করা হবে । আর যার মাথায় আঘাত করতে দেখেছেন , সে এমন এক লোক যাকে আল্লাহ্‌ তায়ালা কোরআন শিক্ষা দিয়েছিলেন । সে রাতের বেলায় কোরআন অধ্যায় ন না করে ঘুমিয়ে থাকতো । এবং দিনের বেলা কোরআন অনুযায়ী কোন কাজ করত না । কেয়ামত পর্যন্ত তাঁর সাথে এরুপ ব্যাবহারই চলতে থাকবে । আর আগুনের গর্তে যে সব লোক দেখছেন তারা ব্যভিচারী বা অবৈধ যৌনাচারী । ( তারাও কেয়ামত পর্যন্ত এসব আগুনের গর্তে থাকবে ) । আর যাকে রক্তের নহরের মাঝে দেখছেন সে সুদখোর । আর বৃক্ষের নিচে যে বৃদ্ধ কে দেখছেন তিনি হযরত ইব্রাহিম (আঃ) । তাঁর চতুর্দিকে যেসব শিশু দেখছেন তারা হচ্ছে মানুষের মৃত নাবালক সন্তান । আর যাকে আগুনে ফুক দিতে দেখছেন তিনি হচ্ছেন জাহান্নামের প্রধান কর্ম কর্তা মালেক ফেরেশতা । আর প্রথম যে ঘরে প্রবেশ করেছেন তা হচ্ছে সাধারন মুসলমানের ঘর । আর দ্বিতীয় ঘরটি হচ্ছে যারা আল্লাহর পথে শহীদ হয়েছেন তাঁদের ঘর । আমি হচ্ছি জিব্রাইল ফেরেশতা এবং এ হচ্ছে মিকাইল ফেরেশতা । অতঃপর আমাকে বলা হল মাথা ঊরধে তুলুন । আমি মাথা উরধে তুললে এক খণ্ড সদা মেঘ দেখতে পেলাম । বলা হল এ হচ্ছে আপনার ঘর । আমি বললাম তোমরা আমাকে ছেড়ে দাও , আমি আমার ঘরে প্রবেশ করবো । তাঁরা বলল , এখনও আপনার জীবন পূর্ণ হয়নি , অবশিষ্ট রয়ে গেছে । যদি পূর্ণ হতো তবে এখনি এই ঘরে প্রবেশ করতে পারতেন ।

— মেশকাত শরীফ

ফায়দাঃ

নবী রাসুল গনের স্বপ্ন হচ্ছে ওহী । এসব ঘটনা সবই সত্য । এ হাদিস দ্বারা কয়েকটি বিষয় অবহিত হওয়া গেলো । একটি হচ্ছে মিথ্যা কথার শাস্তি । দ্বিতীয় টি আমল হীন আলেমের শাস্তি । তৃতীয় টি জেনাকার ও ব্যাভিচার কারী দের শাস্তি , চতুর্থ হচ্ছে সুদখোরের শাস্তি । সে আল্লাহ্‌ ! সমস্ত মুসল মান কে এসব অশ্লীল গুনাহের কাজ থেকে বাঁচিয়ে রাখুন ।