কুফার চিঠি

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
কারবালার ইতিহাস




  • কুফার চিঠি



























মক্কা শরীফ আগমনের সাথে সাথে হযরত ইমাম হুসাইন (রাঃ)এর কাছে কূফা থেকে লাগাতার চিঠিপত্র এবং সংবাদ-বাহক আসতে শুরু করলো। অল্প সময়ের মধ্যে হযরত ইমাম হুসাইন (রাঃ)এর কাছে দেড়শত চিঠি এসে পৌঁছল। অপর এক বর্ননায় বারোশ’ চিঠি এসেছিল । কিন্তু অধিকাংশ কিতাবে দেড়শত চিঠির কথা উল্লিখিত হয়েছে। দেড়শত চিঠিই বিশেষ নির্ভরযোগ্য। কারণ সেই যুগে ডাক আদান-প্রদান অত সহজ ছিল না। লোকেরা চিঠি-পত্র, পত্র-বাহকের মাধ্যমে প্রেরণ করতো এবং পত্র-বাহক পায়ে হেঁটে বা ঘোড়ায় চড়ে গন্তব্যস্থানে চিঠি পৌঁছিয়ে দিত। এমতাবস্থায় দেড়শত চিঠি পৌঁছাটা অতটা সহজ ব্যাপার নয় ।

যা হোক, ধরা যাক ইমাম হুসাইন (রাঃ)এর কাছে দেড়শত চিঠি পৌঁছেছিল। প্রত্যেক চিঠির বিষয়বস্তু খুবই আকর্ষণীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ । প্রত্যেক চিঠির সার সংক্ষেপ হচ্ছে,

হে ইমাম হুসাইন (রাঃ) ! আমরা আপনার পিতা হযরত আলী (রাঃ)এরই অনুসারী এবং আহলে বাইত-এর ভক্ত। আমরাতো হযরত মুআবিয়া (রাঃ)কে সমর্থন করিনি, আর তাঁর অনুপযুক্ত ছেলে ইয়াযীদকে মানার প্রশ্নই উঠতে পারে না। আমরা আপনার পিতা আমীরুল মুমেনিন হযরত আলী (রাঃ) ও আপনার ভাই হযরত হাসান (রাঃ)এর সমর্থনকারী। আমরা ইয়াযীদের অনুসারী নই। ইয়াযীদ এখন তখতারোহন করেছে, কিন্তু আমরা ইয়াযীদকে খলীফা বা ইমাম মানতে পারি না। আপনাকেই বরহক ইমাম, বরহক খলীফা মনে করি। আপনি মেহেরবানী করে কূফায় তাশরীফ নিয়ে আসুন । আমরা আপনার হাতে বাইয়াত করবো এবং আপনাকে খলীফা হিসেবে গ্রহণ করবো। আপনার জন্য আমাদের জানমাল কুরবান করতে প্রস্তুত এবং আপনার হাতে বাইয়াত করে আপনার অনুসরণে জিন্দেগী অতিবাহিত করতে ইচ্ছুক। তাই আপনি আমাদের কাছে তাশরীফ আনুন। আমাদের প্রতি মেহেরবানী করুন এবং আমাদেরকে আপনার ছোহবতে রেখে আপনার ফয়েজ-বরকত দ্বারা আমাদেরকে উপকৃত করুন।

সমস্ত কাবিলা খানদানের পক্ষ থেকে তাঁর কাছে এই ধরণের চিঠি এসেছিল। অনেকেই এই ধরণের চিঠিও লিখেছিল,

হে মহান ইমাম ! আপনি যদি আমাদের কাছে না আসেন, আমাদেরকে বাধ্য হয়ে ইয়াযীদের হাতে বাইয়াত করতে হবে; কারণ সরকারের মোকাবেলা করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। কাল কিয়ামতের মাঠে আল্লাহ্ তা’য়ালা যখন জিজ্ঞেস করবেন- কেন আমরা নালায়েক ইয়াযীদের হাতে বাইয়াত গ্রহণ করলাম, তখন আমরা পরিস্কার বলব, হে মওলা! আমরা আপনার নবী করিম (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সল্লাম)এর দৌহিত্রের কাছে চিঠি লিখেছিলাম, সংবাদ পাঠিয়েছিলাম, মাল-জান কুরবানী করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলাম, কিন্তু তিনি(রাঃ) যেহেতু তাশরীফ আনেননি এবং আমরা সরকারের বিরোধিতা করতে পারিনি, সেহেতু আমরা বাধ্য হয়ে ইয়াযীদের হাতে বাইয়াত করেছি। তাই হে ইমাম! আপনি স্মরণ রাখবেন, আমাদের এ বাইয়াতের জন্য আপনিই দায়ী হবেন।

[1]

তথ্যসূত্র

  1. কারবালা প্রান্তরে(লেখকঃ খতিবে পাকিস্তান হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ শফী উকাড়বী(রহঃ))