এই সুন্নিপিডিয়া ওয়েবসাইট পরিচালনা ও উন্নয়নে আল্লাহর ওয়াস্তে দান করুন
বিকাশ নম্বর ০১৯৬০০৮৮২৩৪

ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) * কারবালার ইতিহাস * পিস টিভি * মিলাদ * মাযহাব * ইলমে গায়েব * প্রশ্ন করুন

বই ডাউনলোড

কোরআনে হুযুর (সঃ) এর প্রশংসা 1

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search

আল্লাহ তা’লা এরশাদ ফরমান:

নিশ্চয় তোমাদের কাছে এসেছেন তোমাদেরই মধ্য হতে ওই রাসূল (দ:)

— সূরা তওবা, ১২৮ আয়াত

মহান রাব্বুল আলামীন জ্ঞাত করেছেন ঈমানদার মুসলমানদের, কিম্বা আরবীয়দের, অথবা মক্কাবাসীদের, বা সমগ্র মানবজাতিকে (আয়াতটির বিভিন্ন তাফসীর অনুযায়ী) এ মর্মে যে, তাঁদের কাছে একজন রাসূল (দ:) এসেছেন যাঁকে তাঁরা চেনেন-জানেন, যাঁর পদমর্যাদা সম্পর্কে তাঁরা নিশ্চিত এবং যাঁর সত্যবাদিতা ও বিশ্বস্ততা তাঁরা স্বীকার না করে পারেন না। অতএব, যেহেতু তিনি তাঁদেরই মধ্য হতে আবির্ভূত, সেহেতু মিথ্যাচার অথবা সৎ উপদেশ না দেয়ার ব্যাপারে তাঁরা যেন তাঁকে সন্দেহ না করেন। রাসূল (দ:)-এর সাথে বংশীয়সূত্রে কিম্বা আত্মিয়তার বন্ধনে আবদ্ধ নয় এমন কোনো আরবীয় গোত্র-ই নেই। হযরত ইবনে আব্বাস (রা:) ও অন্যান্যদের মতানুযায়ী এটাই হলো ‘নিকটাত্মীয়তার ভালোবাসা’ শীর্ষক কুরঅানের আয়াত (৪২:২৩)-টির ভাবার্থ। তিনি তাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ, সর্বোচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন হতে আগত। আয়াতে উল্লেখিত প্রশংসা হতে অধিক প্রশংসা কি আর হতে পারে ?

অতঃপর আল্লাহতা’লা আয়াতে করীমায় তাঁর প্রতি সকল প্রকার প্রশংসনীয় গুণাবলী আরোপ করেছেন এবং মানুষজনকে ইসলামের দিকে হেদায়াত দানের প্রতি মহানবী (দ:)-এর আগ্রহ, দুনিয়া ও আখেরাতে তাদের ওপর পতিত ক্ষতি ও দুর্ভোগ সম্পর্কে তাঁর গভীর উদ্বেগ এবং মো’মেন মুসলমানদের প্রতি তাঁর দয়া ও করুণা সম্পর্কে উচ্চসিত প্রশংসা করেছেন।

জ্ঞান বিশারদদের অন্যতম হুসাইন ইবনে ফযল (রহ:) বলেন,

আল্লাহতা’লা তাঁর রাসূল (দ:)-কে তাঁরই নিজের দুটো নাম দ্বারা সম্মানিত করেছেন: ‘রাউফ’ তথা দয়ালু ও ‘রাহীম’, অর্থাৎ, করুণাশীল।

অপর একটি আয়াতে করীমায় একই কথা বলা হয়েছে:

নিশ্চয় আল্লাহর মহান অনুগ্রহ হয়েছে মুসলমানদের প্রতি যে, তাদের মধ্যে তাদেরই মধ্য থেকে একজন রাসূল (দ:) প্রেরণ করেছেন

— সূরা আলে ইমরান, ১৬৪ আয়াত

আরেকটি আয়াতে এরশাদ হয়েছে:

তিনি–ই হন (আল্লাহ) যিনি উম্মী লোকদের মধ্যে তাদেরই মধ্য থেকে একজন রাসূল (দ:) প্রেরণ করেন

— সূরা জুমু’আহ, ২ নং আয়াত

আল্লাহ পাক আরও এরশাদ ফরমান:

যেমন আমি তোমাদের মধ্যে প্রেরণ করেছি একজন রাসূল (দ:) তোমাদেরই মধ্য থেকে

— সূরা বাকারা, ১৫১ আয়াত

বর্ণিত হয়েছে যে হযরত আলী (ক:) বলেছেন

‘তোমাদের মধ্য থেকে’ – আল্লাহর এই কালামের অর্থ ‘খানদানের ক্ষেত্রে, বৈবাহিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এবং বংশীয় ক্ষেত্রে (তিনি তোমাদের মধ্য থেকে)। তাঁর পূর্বপুরুষের মধ্যে হযরত আদম (আ:)-এর সময় থেকে শুরু করে কেউই ব্যভিচারী ছিলেন না। তাঁদের সবাই যথাযথভাবে বিয়ে-শাদী করেছিলেন।

ইবনে কালবী বলেন,

আমি মহানবী (দ:)-এর পাঁচ’শ জন মহিলা পূর্বপুরুষের নাম লিপিবদ্ধ করেছি। তাঁদের মধ্যে আমি কোনো ব্যভিচার খুঁজে পাইনি কিংবা জাহেলীয়্যা যুগে বিরাজমান কোনো মন্দ জিনিসও খুঁজে পাইনি।

হযরত ইবনে আব্বাস (রা:) বলেন যে

“যিনি (আল্লাহ) দেখেন নামাযীদের মধ্যে আপনার পরিদর্শনার্থে ভ্রমণকেও” (আল-কুরঅান, সূরা শুয়ারা, ২১৯ আয়াত)

আল্লাহতা’লার এ কালামের অর্থ “পয়গম্বর হতে পয়গম্বর পর্যন্ত, যতোক্ষণ না আমি আপনাকে পয়গম্বর হিসেবে প্রেরণ করেছি।”

— ইবনে সা’দ, বাযযার ও আবূ নুয়াইম

হযরত জা’ফর সাদেক (রহ:) বলেন, “আল্লাহতা’লা জানতেন যে তাঁর সৃষ্টিকুল তাঁর বাধ্যতা পুরোপুরি অর্জন করতে পারবে না; তাই তিনি এ কথা বলেছেন যাতে তারা উপলব্ধি করতে সক্ষম হয় যে তারা কখনোই তাঁর খেদমতে সম্পূর্ণ পবিত্রতা তথা শুচিতা অর্জন করতে সক্ষম হবে না। তাঁর ও সৃষ্টিকুলের মাঝে তিনি তাদেরই একজনকে স্থাপন করেছেন এবং তাঁরই দয়া ও করুণার গুণাবলী দ্বারা তিনি তাঁকে বিভূষিত করেছেন। তিনি তাঁকে একজন সত্যবাদী প্রতিনিধি হিসেবে সৃষ্টিকুলের কাছে প্রেরণ করেছেন এবং এমন ব্যবস্থা জারি করেছেন যে তাঁকে কেউ মান্য করলে আল্লাহকেই মান্য করা হয় এবং তাঁর সাথে কেউ একমত হলে আল্লাহর সাথেই একমত হওয়ার শামিল হয়। আল্লাহ পাক এরশাদ ফরমান:

যে ব্যক্তি রাসূল (দ:)-এর নির্দেশ মান্য করেছে, নিশ্চয় সে আল্লাহর নির্দেশই মান্য করেছে

— সূরা নিসা, ৮০ আয়াত

তথ্যসূত্র

  • শেফা শরীফ (লেখকঃ ইমাম কাজী আয়াজ (রহঃ), অনুবাদকঃ কাজী সাইফুদ্দীন হোসেন)
  • ahlussunnahbd.wordpress.com