এই সুন্নিপিডিয়া ওয়েবসাইট পরিচালনা ও উন্নয়নে আল্লাহর ওয়াস্তে দান করুন
বিকাশ নম্বর ০১৯৬০০৮৮২৩৪

ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) * কারবালার ইতিহাস * পিস টিভি * মিলাদ * মাযহাব * ইলমে গায়েব * প্রশ্ন করুন

বই ডাউনলোড

কোরবানীর মাসআলা

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
মাসআলা

চান্দ্র মাসের জিলহজ্বের ১০ তারিখ হতে ১২ তারিখ পর্যন্ত অর্থাৎ তিনদিন দুই রাত।

মাসআলা

যে ব্যক্তি সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ ও সাড়ে বায়ান্ন তোলা রৌপ্য বা এ পরিমাণ অর্থ অথবা এমন কোন সামগ্রীর মালিক হয়-যার মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রৌপ্য পরিমাণ হয়, তাহলে সে ধনী হিসেবে বিবেচিত, তাঁর উপর কোরবানী ওয়াজিব। [আলমগীরী]

মাসআলা

যদি কেউ বলে আমার ঐ কাজটি যদি হয়, তাহলে আমি কোরবানী করব। অথবা আল্লাহর কসম এ পশুটিকে আমি অবশ্যই আল্লাহর ওয়াস্তে কোরবানী করব-এ দু’শ্রেণীর লোক ধনী হোক কিংবা গরীব হোক, এদের উপর কোরবানী ওয়াজিব। [বাদায়ে’ ৫:৬২]

মাসআলা

কোন ধনী লোক মান্নতের কোরবানী দিলে, তার উপর যে কোরবানী ওয়াজিব, তা থেকে অব্যাহতি পাবেনা; বরং তার উপর পৃথকভাবে কোরবানী ওয়াজিব হবে; অর্থাৎ তাকে দু’টি কোরবানী দিতে হবে-একটি মান্নতের অপরটি মালেকে নেসাব হওয়ার কারণে। যদি কোরবানীর দিন শপথ করে তাহলে শপথের কোরবানী দ্বারা ওয়াজিব কোরবানীও আদায় হয়ে যাবে।

মাসআলা

কোরবানীর পশু ক্রয়ের আগে কোরবানীর পশুর অংশীদার ঠিক করা উত্তম। পশু ক্রয়ের পর অন্য কাউকে অংশীদার বানাতে চাইলেও পারবে; কিন্তু মাকরূহ।

মাসআলা

কোন গরীব লোক কোরবানীর নিয়তে কোরবানীর পশু ক্রয় করলে ঐ পশু হারিয়ে যাওয়ার পর যদি আবার ফিরে আসে, তবে ওই পশুতে অংশীদার নেয়া মাকরূহ।

মাসআলা

জীবিতের কোরবানী, মৃত ব্যক্তির (ওসিয়তের) কোরবানী এবং আক্বীকাকারী কোরবানীর পশুতে অংশীদার হতে পারবে; কিন্তু শর্ত হলো সবার উদ্দেশ্য যেন আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য হয়। কেউ যেন শুধু গোশ্ত খাওয়ার উদ্দেশ্যে কোরবানী না করে।

মাসআলা

কেউ যদি তাঁর মৃত মা-বাবা ও দাদা-দাদীর কবরে সাওয়াব পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে এক অংশ কোরবানী করতে চায়, তাহলে পারবে। এতে কোরবানীদাতা একজন হলেও সবাই সাওয়াবের অংশীদার হবে।

মাসআলা

প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়ে অথবা স্ত্রীর অথবা এমন ব্যক্তির, যার উপরকোরবানী করা ওয়াজিব হয়েছে, ওয়াজিব কোরবানী তাদের অনুমতি ব্যতিরেকে তাদের পক্ষ হয়ে কেউ কোরবানী করলে কোরবানীর ওয়াজিব আদায় হবে না। এমনকি তার কোরবানীর পশুর শরীকদার ব্যক্তিদের কোরবানীও হবে না। কিন্তু যার প্রতি বছর কোরবানী করার অভ্যাস আছে, তার কোরবানী জায়েয হবে। কিন্তু এ অবস্থায়ও অনুমতি বা পরামর্শ করা বেশী ভাল। [ফাত্ওয়া -এ কাযী খান -২০২পৃষ্ঠা]

মাসআলা

কেউ কোরবানীর পশু ক্রয় করার পর দেখা গেল কোরবানীর পশুটি হারিয়ে গেছে এমতাবস্থায় আরেকটি পশু ক্রয় করার পর প্রথমে হারিয়ে যাওয়া পশুটিও আবার পেয়ে গেল। এ অবস্থায় নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক না হলে অর্থাৎ যার উপর কোরবানী ওয়াজিব হয়নি। তার উপর দুটিই কোরবানী করে দেয়া ওয়াজিব। যদি মালেকে নেসাব হয়, তাহলে একটি যবেহ করলে ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে। তবে প্রথমটির চেয়ে দ্বিতীয়টির মূল্য যাতে কম না হয়। কম হলে তবে ওই পরিমাণ অর্থ সাদক্বা করে দেয়া ওয়াজিব।-(বাদায়ে’ ৫ :৬৬)

মাসআলা

কেউ যিলহজ্বের ১০-১২ তারিখ পর্যন্ত তিন দিন দুই রাতের মধ্যে যদি কোরবানী করতে সক্ষম না হয়, তাহলে তিনদিন পর ভেঁড়া বা ছাগলের মূল্য পরিমাণ অর্থ সাদক্বা করে দেয়া ওয়াজিব। যদি মুমূর্ষু হয়, তাহলে ওসিয়ত করা অত্যন্ত কর্তব্য।

মাসআলা

কোরবানী কাযা হয়ে যাওয়ার পর যদি কেউ কোন পশু যবেহ করে, তবে তা সাদক্বা করে দেয়া ওয়াজিব। যদি মূল্য কম হয়েছে বলে মনে হয় তবে যে পরিমাণ মূল্য কম হয়েছে বলে মনে হবে, সে পরিমাণ মূল্য সাদক্বা করে দেয়া ওয়াজিব। ওই পশুর যে পরিমাণ গোশ্ত নিজে অথবা বন্ধু-বান্ধবদের যে পরিমাণ গোশ্ত খাইয়েছে ওই পরিমাণ গোশ্তের মূল্য সাদক্বা করে দেয়া ওয়াজিব।

মাসআলা

কোরবানীর ৩ দিনের মধ্যে অর্থাৎ যিলহজ্বের ১০-১২তারিখের মধ্যে কোরবানীর পশুর দাম সাদক্বা করে দেয়া হলে, কোরবানীর ওয়াজিব আদায় হবে না এবং সব সময় গুনাহগার থেকে যাবে। কেননা কোরবানী তেমনই একটি ইবাদত, যেমন-নামায, রোযা, হজ্ব ও যাকাত। যেভাবে নামায দ্বারা যাকাতের ফরজ আদায় হয় না, সেভাবে সাদক্বা দ্বারা কোরবানীও আদায় হয় না।

মাসআলা

কোরবানীর দিনসমূহের মধ্যে কোরবানীর নিয়তে মোরগ-মুরগী ইত্যাদি যবেহ করা মাকরূহ।-(আলমগীরী -৪:১০৫)

মাসআলা

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বয়ং তাঁর মৃত উম্মতের পক্ষ থেকে কোরবানী করেছেন। তাই সম্ভব হলে হুযূর করীমের জন্য কোরবানী করা সৌভাগ্যের কারণ হবে। -(বাহারে শরীয়ত)

  • গরু বা উট দ্বারা কোরবানী করলে নফল হিসেবে একভাগ প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’র জন্য কোরবানী দেয়া অনেক উত্তম।

তথ্যসূত্র

  • মাসিক তরজুমান হিজরী ১৪৩৫ জিলহজ্জ