এই সুন্নিপিডিয়া ওয়েবসাইট পরিচালনা ও উন্নয়নে আল্লাহর ওয়াস্তে দান করুন
বিকাশ নম্বর ০১৯৬০০৮৮২৩৪

ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) * কারবালার ইতিহাস * পিস টিভি * মিলাদ * মাযহাব * ইলমে গায়েব * প্রশ্ন করুন

বই ডাউনলোড

ক্বিয়াম

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search

কিয়াম আরবী শব্দ । যার অর্থ সোজা হয়ে দাঁড়ানো । যেন হাত হাঁটু পর্যন্ত পৌছতে না পারে । প্রচলিত অর্থে রাসূলে আকরাম (সঃ) এর বেলাদাত তথা জন্মদিবস স্মরনে আলোচনা সভা, সেমিনার, সেম্পেজিয়াম, জন্মের আগমনী বার্তার অলৌকিক ঘটনাবলী বর্ননাকালে মীলাদ মাহফিলের কোন এক পর্যায়ে দাঁড়িয়ে বলবে-

ইয়া নবী সালাম আলাইকা + ইয়া রাসূল সালাম আলাইকা

ইয়া হাবীব সালাম আলাইকা + সালাওয়াতুল্লাহি আলাইকা


বলে কবিতা হামদ-নাত, দরুদ ও সালাম সমবেত কন্ঠে পাঠ করাকে মীলাদের কিয়াম বলা হয় । এ সম্পর্কে আল্লামা ইবনে আবেদীন (রহঃ) “ফাতোয়ায়ে শামী”তে লিখেন-

নিশ্চয়ই কিয়াম সেজদায় যাওয়ার জন্য অবনত হওয়ার একমাত্র অসীলা । সিজদা হলো মূল । কেননা কিয়াম ব্যতিত সেজদা ইবাদত হিসেবে গন্য নয় । যেমনঃ সিজদায়ে তেলাওয়াত উহা আদায়ের জন্য কিয়াম প্রয়োজন হয় না । শুধুমাত্র কিয়াম ইবাদতের পর্যায়ভূক্ত করা হয় নি । এমন কি আল্লাহ ছাড়া কাউকে সিজদা করলে কাফির বলা যাবে, কিন্তু আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য কিয়াম করলে কাফির বলা যাবে না ।

— ফতোয়ায়ে শামী ২য় খন্ড ১৩২ পৃঃ

আমরা কিয়ামের পরিচয় থেকে বুঝতে পারলাম যে, কিয়াম আলাদা কোন ইবাদত নয় যা অন্যের জন্য করলে কাফির হয়ে যায় ।

কিয়ামের প্রকারভেদ

মীলাদ শরীফের কিয়ামের দলিল পর্যালোচনার আগে কিয়ামের প্রকার জানা একান্ত প্রয়োজন মনে করছি । ইসলামি শরীয়াতে স্থান, কাল ও পাত্রভেদে কিয়াম বিভিন্ন প্রকার হতে পারে । যেমন-

১) ফরজঃ

যেমন- নামাযের ফরয সমূহের মধ্যে কিয়াম করা ফরয ।

২) হারামঃ

যেমন- আরব অনারব ক্ষমতাশীল রাজা বাদশাগণের সম্মানার্থে মূর্তির মত ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে কিয়াম করা ।

৩) সুন্নাতঃ

যেমন- যমযমের পানি পান করার সময়, সিজদায়ে তেলাওয়াতের সময়, অযুর অবশিষ্ট পানি দাঁড়িয়ে পান করা ও কবর যিয়ারতের সময় ।

৪) মাকরুহঃ

যেমন- পার্থিব লালসায় বিনা কারনে দুনিয়াদারী লোকের সম্মানে দাঁড়ানো মাকরুহ ।

৫) মুবাহ্‌ বা বৈধ কিয়ামঃ

যেমন- দুনিয়াবী প্রয়োজনে দাঁড়ানো মুবাহ্‌ । যেমন দাঁড়িয়ে দালান নির্মান করা । দাঁড়িয়ে অন্যান্য দুনিয়াবী কাজ কর্ম সম্পাদন করা ।

৬) মুস্তাহাবঃ

যেমন- শুভ সংবাদ শুনার পর দাঁড়িয়ে যাওয়া ।

৭) কিয়ামুল মুহাব্বাতঃ

যেমন- অভ্যর্থনা ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপনের জন্য কোন সম্মানীত ব্যক্তি, ধর্মীয় নেতা, পীর মাশায়েখ ও কোন অতিথির অভ্যর্থনার জন্য দাঁড়ানো ।

৮) কিয়ামে যিকিরঃ

যেমন- দাঁড়ানোর বিভিন্ন প্রকার হতে কিয়াম এক প্রকার যিকির । যেমন- শিক্ষাদানের জন্য শিক্ষকের দাঁড়ানো, খুৎবার জন্য দাঁড়ানো । আর আল্লাহ পাকের হাবীব নবী মুহাম্মাদ (সঃ) এর স্মরণও আল্লাহর স্মরণের অন্তর্ভূক্ত । রাসূলের যিকিরই আল্লাহর যিকির । [1]

৯) কিয়ামে ফারহাতঃ

যেমন- মক্কা বিজয়ের সময় ইকরামা ইবনে আবূ জাহেলের জন্য মহানবী (সঃ) এর বসা থেকে আনন্দ চিত্তে দাঁড়িয়ে যাওয়া ।[2]

হযরত জাফর বিন আবু তালেব (রাঃ) যখন হাবশা থেকে মদীনা শরীফে হুজুর (সঃ) এর দরবারে হাজির হলেন । তাকে দেখে নবীজি (সঃ) বললেন, জানিনা আজ আমি জাফরকে পেয়ে আনন্দিত নাকি খায়বর বিজয় করে আনন্দিত । অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে জাফর (রাঃ) এর সাথে মোয়ানাকা করলেন এবং তাঁর কপালে চুমু খেলেন ।

১০) কিয়ামুল ইস্তিকবালঃ

যেমন- মানবতার সম্মানে দাঁড়ানো, জানাযার লাশ দেখে দাঁড়ানো শ্রদ্ধাবোধের কারণে হয় । এ সম্পর্কে নবীজী (সঃ) থেকে অসঙ্খ্য হাদীস বর্নিত আছে-

রাসূল (সঃ) ইরশাদ করেন, যখন তোমরা কোন জানাযা দেখতে তাঁর সম্মানার্থে তোমরা দাঁড়িয়ে যাও । যতক্ষণ যা সে তোমাদের অতিক্রম করে ।

— বুখারী শরীফ ৬৩০৬; নাসায়ী শরীফ ২১২৫, বায়হাকী শরীফ ৬৬৬০, ইবনে হিব্বান ৩০৫১

১১) কিয়াম লিত্‌তাযীমঃ

যেমন- সাহাবায়ে কেরাম নবীর সম্মানার্থে দাঁড়াতেন, নবী (সঃ) তাঁর দুধ বাবার জন্য দাঁড়িয়ে যেতেন । আমরা দেখলাম কিয়াম বিভিন্ন ধরনের হতে পারে । মীলাদ শরীফের কিয়াম সে প্রকারেরই অন্তর্ভূক্ত ।

তথ্যসূত্র

  1. জাযবুল কুলুব ইলা দিয়ারিল মাহবুব - ১৪ পৃঃ
  2. আবূ দাউদ হাশিয়া ৬ঃ ৭০৮ পৃঃ
  • শরীয়ার কষ্টিপাথরে মীলাদ ও কিয়াম (লেখকঃ মুহাম্মদ ওসমান গনি সালেহী)