এই সুন্নিপিডিয়া ওয়েবসাইট পরিচালনা ও উন্নয়নে আল্লাহর ওয়াস্তে দান করুন
বিকাশ নম্বর ০১৯৬০০৮৮২৩৪

ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) * কারবালার ইতিহাস * পিস টিভি * মিলাদ * মাযহাব * ইলমে গায়েব * প্রশ্ন করুন

বই ডাউনলোড

গায়েব

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search

গায়েব হল অদৃশ্য । গায়েব বা অদৃশ্য বলতে ঐসব কিছুকে বুঝায় যা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যের অতীত অর্থাৎ বাহ্যিক ইন্দ্রিয়ের সাহায্য যা বুঝা যায় না। তাফসীরে কবীরের প্রথম খন্ডের ১৬৯ পৃষ্ঠায় ২৭ সতরে (মিসরী মুদ্রণ) আছেঃ

নিশ্চয়ই গায়েব হলো তা যা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যের অতীত ।

এটাই জমহুর মুফাসসীরীনের অভিমত । ইন্দ্রিয় পাঁচটি - শ্রবণ, দর্শন, ঘ্রাণ, স্বাদ ও স্পর্শ । এইগুলোই হলো জ্ঞানেন্দ্রীয় । এইগুলো পাঁচটি অঙ্গের মাধ্যমে অর্জিত হয় - শ্রবনের জন্য কর্ণ, দর্শনের জন্য চক্ষু, ঘ্রাণের জন্য নাসিকা, স্বাদের জন্য জিহবা এবং স্পর্শের জন্য ত্বক । তাফসীরে আযিযীর প্রথম খন্ডে সূরায়ে বাকারার তাফসীরে ৫৭ পৃষ্ঠায় ২৮ সতরে আছেঃ

ঐ বস্তুর নাম গায়েব যা বহিন্দ্রিয় ও জ্ঞানেন্দ্রিয়ের অগোচরে বিদ্যমান ।

তাফসীরে বায়যাবীতে يؤمنون بالغيب আয়াতটির ব্যখ্যায় বলা হয়েছে-

গায়েব শব্দ দ্বারা অদৃশ্য বিষয়কে বুঝানো হয়েছে, যা’ ইন্দ্রিয় সমূহের দ্বারা উপলব্দি করা যায় না ও সুস্পষ্টভাবে জ্ঞানানুভূতির আওতায় আসে না ।

অতএব ‘গায়েব’ হচ্ছে এমন এক অদৃশ্য বস্তু বা বিষয় যা মানুষ চোখ, নাক, কান ইত্যাদি ইন্দ্রিয় সমূহের সাহায্য উপলব্ধি করতে পারে না এবং যা কো প্রমাণ ব্যতিরেকে সুস্পষ্টভাবে জ্ঞান ও প্রজ্ঞার পরিধিতেও আসে না । সুতরাং, পাঞ্জাবীদের জন্য বোম্বাই গায়ব বা অদৃশ্য নয় । কেননা হয়ত কেউ নিজ চোখে দেখে বা কারো কাছ থেকে শুনে বলছে যে বোম্বাই একটি শহর । ইহা হচ্ছে ইন্দ্রীয়লব্ধ জ্ঞান । অনুরুপ খাদ্যসামগ্রীর স্বাদ, সুঘ্রান ইত্যাদি গায়েব নয়, কেননা এগুলো যদিওবা চোখে দেখা যায় না, কিন্তুওন্যান্য ইন্দ্রিয়ের দ্বারা উপলব্ধি করা যায় । পক্ষান্তরে এগুলোকে ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে কিংবা বিনা দলিলে বিবেক-বুদ্ধির দ্বারা অনুভব করা যায় না ।

গায়েব দুই প্রকার

(১) এক ধরনের গায়েব আছে, যা যুক্তি প্রমান ভিত্তিক অর্থাৎ প্রমাণাদি দ্বারা অনুভব করা যায় । উদাহরনঃ বেহেশত-দোজখ এবং আল্লাহ পাকের স্বত্বা ও গুনাবলী । এগুলো সম্পর্কে জগতের সৃষ্ট বস্তু ও কুরআনের আয়াতসমুহ দেখে জ্ঞান লাভ করা যায় ।
(২) আর এক ধরনের গায়েব আছে, যা দলিলের সাহায্যেও অনুভব করা যায় না । এ গুলো সম্পর্কে দলিল প্রমানের সাহায্যেও জ্ঞান লাভ করা সম্ভবপর হবে না । উদাহরনঃ মহাপ্রলয় কখন সংঘঠিত হবে, মানুষ কখন মারা যাবে, স্ত্রীর গর্ভের সন্তান ভাগ্যবান না হতভাগা ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কিত জ্ঞান । এ দ্বিতীয় প্রকারের গায়েবকে মাফাতিহুল গায়েব বা অদৃশ্য জ্ঞান ভাণ্ডার বলে আখ্যায়িত করা হয় এবং এ ধরনের গায়েব সম্বন্ধে আল্লাহ তায়ালা বলেছেনঃ

তিনি (আল্লাহ) তাঁর গায়বী বিষয়াদি সম্পর্কে কাহাকেও অবগত করান না, তবে তাঁর মনোনীত রসুলকে ( অদৃশ্য জ্ঞান দান করেন ) যাকে তিনি রসূল রুপে গ্রহন করে নিয়েছেন ।

তাফসীরে কবীরে সূরা বাকারার শুরুতে يؤمنون بالغيب আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখা হয়েছে -

সাধারণত তাফসীর কারকগনদের মতে গায়ব হল এমন বিষয় যা ইন্দ্রিয়সমূহ থেকে গোপন থাকে । অতঃপর গায়বকে দু’ভাগে ভাগ করা যায়ঃ এক প্রকারের গায়ব হচ্ছে – সে সমস্ত অদৃশ্য বিষয়াদি, যেগুলো অবগতির জন্য কোনরুপ দলীল প্রমানের প্রয়োজন হয় না ।

তাফসীরে রুহুল বয়ানে সুরা বাকারার শুরুতে সেই আয়াতের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে লিপিবদ্ধ আছে-

গায়ব হচ্ছে উহাই যা ইন্দ্রিয় ও জ্ঞানানুভূতি থেকে সম্পূর্ণরুপে এমনভাবে গোপন থাকে যে, কোন উপায়ে প্রথমদিকে স্পষ্টরুপে উপলব্দি করা যায় না । গায়ব দুই প্রকারঃ

  • এক প্রকারের গায়ব হলো যার সম্পর্কে কোন প্রমান নেই । যেমন কুরআনের আয়াত عند مفاتيح الغيب ( আল্লাহর কাছেই রয়েছে গায়েবের চাবি সমূহ ) এ আয়াতে এ ধরনের গায়েবের কথাই বলা হয়েছে ।
  • অন্য প্রকারের গায়েব হচ্ছে- যার অবগতির জন্য দলীল প্রমাণ আছে । যেমন- আল্লাহ ও তাঁর গুনাবলী । يؤمنون بالغيب দ্বারা এগুলোর কথাই বলা হয়েছে ।

তথ্যসূত্র

  • নূরে মুজাসসাম
  • জা'আল হক