এই সুন্নিপিডিয়া ওয়েবসাইট পরিচালনা ও উন্নয়নে আল্লাহর ওয়াস্তে দান করুন
বিকাশ নম্বর ০১৯৬০০৮৮২৩৪

ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) * কারবালার ইতিহাস * পিস টিভি * মিলাদ * মাযহাব * ইলমে গায়েব * প্রশ্ন করুন

বই ডাউনলোড

চাঁদ দেখা

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
  • মাসআলাঃ

আকাশে যদি মেঘ বা ধূলি থাকে, তবে মাত্র একজন পুরুষ বা স্ত্রী সত্যবাদী দ্বীনদার লোকের সাক্ষ্ম্যতেই রমযানের চাঁদ প্রমানিত অ সাব্যস্থ হইবে।

  • মাসআলাঃ

২৯শে রমযান যদি আকাশে মেঘ থাকে, তবে ঈদের চাঁদ প্রমানিত হইবার জন্য অন্ততঃ দুইজন বিশ্বস্ত দ্বীনদার পুরুষ অথবা দ্বীনদার একজন পুরুষ এবং দ্বীনদার দুইজন স্ত্রীলোকের সাক্ষ্ম্য আবশ্যক, অন্যথায় ঈদের চাঁদ প্রমানিত হইবে না। যদি একজন অতি বিশ্বস্ত, অতি ধার্মিক পুরুষেও সাক্ষ্য দেয়, অথবা শুধু চারিজন স্ত্রীলোক সাক্ষ্ম্য দেয়, পুরুষ কেহই সাক্ষ্য না দেয়, তবে উহাতে ঈদের চাঁদ প্রমানিত হইবে না এবং রোযা ভাঙ্গা যাইবে না।

  • মাসআলাঃ

যে লোক শরীয়াতের হুকুম মত চলে না, অনবরত শ’রার বরখেলাপ কাজ করিতে থাকে ; যেমন হয়ত নাময পরে না, রোযা রাখে না, মিথ্যা কথা বলে, (অথবা সুদ খায়) অথবা এইরূপ অন্য কোন গোনাহ্‌র কাজে লিপ্ত থাকে, শরীঅতের পাবন্দী করে না। শরীঅতে এইরূপ লোকের কথার কোনই মুল্য নাই । এই রকমের লোক যদি শত শত কসম খাইয়াও বয়ান করে তবু তাহার কথা বিশ্বাস করা যাইবে না । এমন কি, যদি এই ধরনের দুই তিন জন লোকেরাও বর্ণনা দেয়, তবুও তাহা দ্বারা কিছুই প্রমানিত হইবে না।

  • মাসআলাঃ

মশহুর আছে, যে দিন রজব মাসের ৪ তারিখ হইবে, সেদিন রমযানের প্রথম তারিখ হইবে। শরীঅতে ইহার কোন মুল্য নাই । চাঁদ না দেখিলে রোযা রাখিবে না ।

  • মাসআলাঃ

হাদীস শরীফে আছে, চাঁদ দেখিয়া এইরূপ বলা যে, চাঁদ অনেক বড়। ইহা আজকার চাঁদ নয় কালকার চাঁদ, এইরূপ বলা বড়ই খারাপ। ইহা কিয়ামতের একটি আলামত। সারকথা, চাঁদ বড় ছোট হওয়ার কোন মুল্য নাই। হিন্দুদের কথা বিশ্বাস করিও না যে, আজ দ্বিতীয়া, আজ অবশ্য চাঁদ উঠিবে । শরীঅতে এসব কথার কোন মুল্য নাই।

  • মাসআলাঃ

আকাশ যদি সম্পূর্ণ পরিষ্কার থাকে এবং তা স্বত্বেও চাঁদ দেখা না যায়, তবে দুই চারি জনের বলাতে এবং সাক্ষ্ম্য দেওয়াতে চাঁদ প্রমানিত হইবে না ।রমযানের চাঁদ হউক আর ঈদের চাঁদ হউক। অবশ্য যদি এত লোকে চাঁদ দেখার প্রমান দেয়, যাহাতে মনে দৃঢ় ধারণা হয় যে, এত লোক কিছুতেই মিথ্যা বানাইয়া বলিতে পারে না, তবে চাঁদ প্রমানিত হইয়া যাইবে।

  • মাসআলাঃ

অনেক সময় এরকম হয় যে দেশ ব্যাপিয়া মশহুর হইয়া যায় যে, কাল চাঁদ দেখা গিয়াছে; কিন্তু প্রকৃত প্রস্তাবে সমস্ত দেশ খুঁজিয়া একজনেও দেখিয়াছে প্রমান পাওয়া গেল না ; শরীঅতে এইরূপ ভিত্তিহীন গুজবের কোনই মুল্য নাই।

  • মাসআলাঃ

রমযান শরীফের চাঁদ মাত্র একজন লোকে দেখিল, অন্য কেহই দেখিল না ; কিন্ত সে লোক শরীঅতের পাবন্দ না হওয়ার কারনে অন্য লোকে রোযা রাখিবে না। কিন্তু তাহার নিজের রোযা রাখিতে হইবে। কিন্তু এই লোকের প্রমানের হিসাবে ৩০ রোযা হইয়া যাওয়া স্বত্বেও ঈদের চাঁদ দেখা না যায়, তবে তাহার ৩১ রোযা রাখা ওয়াজিব হইবে, ঈদ তাহাকে সকলের সঙ্গেই করতে হইবে।

  • মাসআলাঃ

ঈদের চাঁদ যদি কেহ একা একা দেখে, অন্য কেহ না দেখে, তবে অন্যরা ত তাহার কথা গ্রহন করিবেই না, তার নিজেরও একা ঈদ করা দুরুস্ত নাই। পরদিন তাহারও রোযা রাখিতে হইবে, রোযা ভাঙ্গিতে পারিবে না।

  • মাসআলাঃ

৩০শে রমযানে যদি দিনের বেলায় চাঁদ দেখা যায়, দুপুরের পরে দেখা যাউক বা পূর্বে দেখা যাউক, কিছুতেই রোযা ভাঙ্গা যাইবে না, সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোযা রাখিতে হইবে, সূর্যাস্তের পর নিয়ম মত ইফতার করিতে হইবে, ঐ চাঁদ কে সাম্নের রাত্রের চাঁদ ধরিতে হইবে। গত রাত্রের ধরা যাইবে না। যদি কেহ দিনের বেলা চাঁদ দেখে রোযা ভাঙ্গিয়া ফেলে, তবে তাহার কাফ্‌ফারা দিতে হইবে। --বেঃ গাওহার

তথ্যসূত্র

  • বেহেস্তী জেওর (লেখকঃ মাওলানা আশরাফ আলী থানবী (রহঃ))