এই সুন্নিপিডিয়া ওয়েবসাইট পরিচালনা ও উন্নয়নে আল্লাহর ওয়াস্তে দান করুন
বিকাশ নম্বর ০১৯৬০০৮৮২৩৪

ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) * কারবালার ইতিহাস * পিস টিভি * মিলাদ * মাযহাব * ইলমে গায়েব * প্রশ্ন করুন

বই ডাউনলোড

জমিনে উৎপন্ন দ্রব্যের যাকাত

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
মাসআলা
* যাকাত ফরজ হওয়ার শর্তাবলী
* যাকাত আদায় করিবার নিয়ম
* জমিনে উৎপন্ন দ্রব্যের যাকাত
* যাকাতের গ্রহনযোগ্য ব্যক্তি
আলোচনা
* যাকাত
  • মাসআলাঃ

কোন শহর কাফেরদের অধীনে ছিল। তাহারাই সেখানে বাস করিত । মুসলমান বাদশাহ্‌ স্বীয় প্রতিনিধি পাঠাইয়া অমুসলমানগনকে মিথ্যা ধর্ম ও দোযখের পথ পরিত্যাগ করিয়া সত্য ইসলাম ধর্ম গ্রহন করিতে আহ্বান করিলেন। কিন্তু দুরাচার কাফেরেরা সে আহ্বানে সাড়া দিল না। এইরূপ তাহাদিগকে বলা হইল যে, তাহা হইলে তোমারা আমাদের অধীনতা স্বীকার করিয়া খাজনা আদায় কর এবং আমাদের প্রজা হইয়া আমাদের রক্ষণাবেক্ষণে সুখে শান্তিতে বাস করতে থাক। কাফেরেরা এই আহ্বানেও সাড়া দিল না । তারপর মুসলমান বাদশাহ্‌ খোদার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করিয়া তাহাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করিলেন। খোদা তা’আলা মুসলমানদের জয়ী এবং কাফেরগনকে পরাস্ত করিয়া দিলেন।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ এতীমের মালের যাকাত দিতে হইবে কিনা এ সম্বন্ধে মতভেদ আছে । আমাদের ইমাম আবু হানিফা (রঃ) ছাহেব বলেন, এতীমের মালের যাকাত ওয়াজিব হয় না, ইমাম শাফেয়ী ছাহেব বলেন, এতীমের মালেরও যাকাত দিতে হইবে।

মুসলামান বাদশাহ্‌ ঐ শহর বা দেশ যাঁহারা ঐ জেহাদের গাযী ছিলেন তাঁহাদের মধ্যে বন্টন করিয়া দিলেন। এইরূপে যে সমস্ত দেশ মুসলমানদের অধীন হইয়াছে, অথবা সে দেশের অধিবাসী মুসলমানদের সহিত যুদ্ধ-বিগ্রহ না করিয়া আপন ইচ্ছায় মুসলমান হইয়া গিয়াছে এবং মুসলমান বাদশাহ্‌ও তাহাদিগকেই তাঁহাদের জমীনের আধিকারে বহাল করিয়াছেন, এই দুই প্রকার জমিনকে ওশ্‌রী জমিন বলে। সমগ্র আরব দেশের জমিন ওশরী।( এতদব্যতিত মুসলমান বাদশাহ্‌ দ্বারা যে সমস্ত জমিনের স্বত্বাধিকারী কাফেরেরা সাব্যস্ত হইয়াছে এবং তাঁহাদের উপর খেরাজ ধার্য করা হইয়াছে সেই সমস্ত জমিন খেরাজী জমিন।)

[খেরাজী জমিনের খেরাজ দিতে হয় ওশ্‌র দিতে হয় না, আর ওশ্‌রী জমিনের ওশ্‌র দিতে হয় ।]
  • মাসআলাঃ

কাহারও পূর্বপুরুষ হইতে পুরুষানুক্রমে যদি ওশ্‌রী জমিন চলিয়া আসিয়া থাকে, অথবা কোন মুসল্মানের হইতে ওশরী জমিন খরিদ করিয়া থাকে , তবে সেই জমিনের যাকাত দিতে হইবে। ( জমিনের যাকাতকে ওশর বলে। ) ওশর দেওয়ার নিয়ম এই যে, সমস্ত জমিনে পরিশ্রম করিয়া পানি দিতে হয় না; বরং স্বাভাবিক বৃষ্টির পানিতে বা বর্ষার স্রোতের পানিতে ফসল জন্মে সে সব জমিতে যাহা কিছু ফসল হয় তাহার দশ ভাগের এক ভাগ আল্লাহর রাস্তায় দান করা ওয়াজিব। অর্থাৎ দশ মন হইলে এক মন, দশ সের হইলে এক সের। আর যে সমস্ত জমিতে পরিশ্রম করিয়া পানি দিয়া ফসল জন্মাইতে হয়, সে সব জমির ফসলের ২০ ভাগের এক ভাগ আল্লাহ্‌র রাস্তায় দান করিতে হইবে। অর্থাৎ বিস মন হইলে এক মন, বিশ সের হইলে এক সের। বাগ বাগিচারও এই হুকুম। ( আমাদের ইমাম আ’যম ছাহেব বলেন, ) জমিনের ফসলের কোন নেছাব নির্ধারিত নাই, কম হউক বা বেশী হউক যাহা হয় তাহার দশ ভাগের এক ভাগ দিতে হইবে।

  • মাসআলাঃ

ধান, পাট, গম, যব, সরিষা, কলাই, বুট, কাওন, ফল, তরকারী, শাক-সব্জি, সুপারী, নারিকেল, আখ, বেরন, খেজুর গাছ, কলা গাছ ইত্যাদি ক্ষেত্রে যাহা কিছু জন্মিবে, তাহার ওশর দিতে হইবে, ইহাই জমিনের যাকাত।

  • মাসআলাঃ

ওশ্‌রী জমিন হইতে, অথবা বে আবাদ বন বা পাহাড় হইতে যদি মধু সংগ্রহ করে তবে তাহারও ওশ্‌র দিতে হইবে।

  • মাসআলাঃ

চাষের জমিনের বা বাগিচায় না হইয়া বারীতে যদি কোন ফল বা তরকারী হয়, তবে তাহাতে ওশ্‌র ওয়াজিব হইবে না ।

  • মাসআলাঃ

ওশ্‌রী জমিন যদি কোন কাফের ক্রয় করিয়া নেয়, তবে সেই জমিন ওশ্‌রী থাকিবে না। পুনরায় সেই কাফেরের নিকট হইতে যদি কোন মুসলমান খরিদ করিয়া লয় বা অন্য কোন প্রকারে পায়, তবুও ওশ্‌রী হইবে না ।

  • মাসআলাঃ

দশ ভাগের এক ভাগ বা বিশ ভাগের এক ভাগ জমিনের উপর, না ফসলের মালিকের উপর, ইহাতে আলেমদের মধ্যে মতভেদ আছে। সুবিধার জন্য আমারা বলিয়া থাকি যে, ফসলের মালিকের উপর । অতএব, জমিন যদি নগদ টাকায় পত্তন (ইজারা) দেওয়া হয়, তবে ফসল যে পাইবে, ওশ্‌র তাহারি দিতে হইবে; আর যদি বর্গা দেওয়া হয়, তবে ফসল যেই পরিমাণ পাইবে তাহার সেই পরিমাণ ওশ্‌র দিতে হইবে ।

তথ্যসূত্র

  • বেহেস্তী জেওর (লেখকঃ মাওলানা আশরাফ আলী থানবী (রহঃ))