ডাঃ জাকির নায়েক

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
সারাবিশ্বে প্রতিক্রিয়া

তাঁর পূর্ন নাম জাকির আবদুল করীম নায়েক । আইআরএফ ওয়েবসাইট অনুসারে [1], ডঃ জাকির নায়িক ইসলাম ও অন্যান্য ধর্মের উপর তুলনামূলক বিষয়ের একজন বক্তা। তার ওয়েবসাইটে জন্মবৃত্তান্ত সংক্রান্ত তথ্য যেমন কোথায় করেছেন এবং কোথায় বড় হয়েছেন তা পাওয়া যায় না। এমনকি তার ওয়েবসাইটে তার ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড, তার বাবা, পেশা, যোগ্যতা প্রভৃতি তথ্যও গোপন রাখা হয়েছে। কোথা থেকে এম.বি.বি.এস ডিগ্রী লাভ করেছেন তাও গোপন করা হয়েছে।

যতদূর জানা যায় তাঁর জন্ম ১৯৬৫ সনের ১৮ অক্টোবরে ভারতের মহারাষ্ট্র প্রদেশের মুম্বাই শহরে । তাঁর বংশ কোঙ্কনী । তিনি এম.বি.বি.এস করেছেন তোপিওয়ালা জাতীয় মেডিকেল কলেজ এবং নায়ার হাসপাতাল, মুম্বাই, ভারত থেকে। কিন্তু এই সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য যেমন কোন বছরে পাশ করেছেন ইত্যাদি কোথাও পাওয়া যায় না।

শায়খ আহমদ দিদাদ (রঃ) তাকে বিভিন্ন ধর্মের তুলনামূলক বিষয়ে লেকচার প্রদানের শিক্ষা দিলেও তিনি কোথায় ইসলাম বিষয়ে পড়াশুনা করেছেন তার ওয়েবসাইটে সেই সম্পর্কিত তথ্য গোপন করা হয়েছে। এটাও অজানা যে, তাকে কে পবিত্র কুর’আন পড়া শিখিয়েছে কেননা তার আরবী উচ্চারণের মধ্যে পেশাদারিত্ব পাওয়া যায় না এবং তা সম্পূর্ণভাবে তাযবীদ নিয়মের বিপরীত। তিনি কুর’আন এর তাফসীর শাস্ত্র, উসূলে হাদীস, ফিকাহ, আরবী ভাষা এবং ইসলামি দাওয়ার জন্য আরও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান কোথায় লাভ করেছিলেন সেই ব্যপারেও তার ওয়েবসাইট নিরব থেকেছে। এর থেকে এটা মনে হচ্ছে যে, সে সম্পূর্ণভাবে একজন নিজেই নিজের শিক্ষক, নিজে যেভাবে বুঝেন অর্থাৎ সম্পূর্ণ নিজের মনমত নিয়মে ইসলামের যাবতীয় বিষয়বস্তু ব্যাখ্যা করে থাকেন। তিনি গাইরে মুকাল্লিদ বা লা-মাজহাবী (অধুনা আহ্‌লে হাদীস) সম্প্রদায়ের অনুসারী ।

তিনি নিজেকে একজন বিভিন্ন ধর্মের তুলনামূলক বিষয়ের ছাত্র হিসেবে দাবী করলেও ইসলামের প্রত্যেক বিষয়ের উপর তার নিজস্ব মনগড়া ব্যাখ্যা দিয়ে থাকেন। তিনি এমনকি হাদীস ও ফিকাস শাস্ত্রের ইমাম দেরও সমালোচনা করেছেন ইন্ডাইরেক্টলি। তিনি দাবী করেছেন তাঁদের কাছে যথেষ্ট তথ্য ছিল না ফতওয়া প্রদানের জন্য। তিনি পবিত্র কুর’আন, হাদীস, শারীয়াহ, ফিকাহ শাস্ত্রকে নিজের বুঝ দ্বারা ইমামগণকে বিচার করেছেন বলে দাবী করেন এবং নিজের বুঝ তাকেই সব থেকে বেশী প্রাধান্য দেন। তিনি দাবী করেন আলেমদেরলে গ্রহণ করে অনুসরণ করা ইসলামের ক্ষতি করেছে।[2] লেখাপড়া হিসেবে তিনি কখনও কোন মাদ্রাসায় বা অভিজ্ঞ আলেম-উস্তাদের নিকট ইলমে দ্বীন শিক্ষা লাভ করেন নি । [3]
সুদীর্ঘ শিক্ষা জীবনে তিনি খৃষ্টান ও হিন্দুদের সংস্পর্শে কাটানোর কারনে লেবাস-পোশাকে বিধর্মীদের বেশভূষার অনুসরণ এবং নারী-পুরুষের বেপর্দা সহাবস্থানের পরিবেশে অভ্যস্ত হয়ে উঠেন । সেই সাথে তিনি বিধর্মীদের ধর্মমতের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বিভিন্ন ধর্মের সমন্বয়ে বাদশাহ আকবরের দ্বীনে ইলাহির আদলে বিশ্বজনীন ধর্মমত লালন করেন । আর তিনি গাইরে মুকাল্লিদ সম্প্রদায়ের লোক হিসেবে এ সম্প্রদায়ের মতাদর্শের প্রচার-প্রসারকে নিজের মেনুফেষ্ট নির্বাচন করেন । [4] উল্লেখ্য যে গাইরে মুকাল্লিদ সম্প্রদায়ের লোকেরা নিজেদেরকে ‘আহলে হাদিস’ বলে পরিচয় দেন এবং হানাফী, শাফেয়ী, মালেকী, হাম্বলী কোণ মাজহাবই মানেন না বা তাকলীদ করেন না এবং সরাসরি কুরআন ও হাদিস মানেন বলে দাবী করেন । কিন্তু বাস্তবে তারা দ্বীনের অনেক বিষয়ে সাহাবায়ে কিরাম, তাবেঈন, তাবে-তাবেঈন, সলফে সালিহিন ও আইম্মায়ে মুজতাহিদনগণের স্বতঃসিদ্ধ মাসলাকের বিরুদ্ধাচারন করতে গিয়ে পবিত্র কুরআন ও হাদিসের বর্ননার ব্যাপারে মনগড়া ব্যাখ্যায় লিপ্ত হয়েছেন । আবার কোন কোন বিষয়ে মজবুত দলীল ভিত্তিক প্রচলিত আমলে বিপক্ষে জয়ীফ দলিল দ্বারা ভিন্ন আমলের উদ্ভব ঘটিয়ে দ্বীনের মধ্যে বিতর্কের অবতারণা করেছেন ।

আহলে হাদিসদের অনুসৃত বিষয়াবলী যা জাকির নায়েক হুবহু অনুসরন করেন

আহলে হাদিসদের ধর্মীয় যেসব পন্থা জাকির নায়েকের ব্যক্তিজীবনে ও তাঁর লেকচার সমূহে পাওয়া যা সেগুলোর কিয়দংশ নিম্নে দেওয়া হলঃ

১) তারা একসঙ্গে প্রদত্ত তিন তালাককে এক তালাক গণ্য করেন এবং এভাবে তিন তালাক প্রদানের পরও সেই দম্পতিকে বিবাহ-তাহলীল ছাড়াই সরাসরি মিলিয়ে দেন ।
২) তারা তারাবীহ ও তাহাজ্জুদকে একই নামাজ বলে বিশ্বাস করেন । আরে এরই ভিত্তিতে সাধারণত তাহাজ্জুদ নামায ৮ রাক’আত হিসেবে রামাজানের তারাবীহ্‌ ও ৮ রাক’আত পড়েন ।
৩) তারা পবিত্র কুরআন শরীফ বিনা ওজুতে স্পর্শ করা জায়িয মনে করেন ।
৪) তারা রাসূলুল্লাহ (সঃ), সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ) ও ওফাতপ্রাপ্ত ওলী-বুযুর্গগণের ওসীলা দিয়ে মহান আল্লাহর কাছে দু’আ করাকে নাজায়িজ বলেন ।
৫) তারা নারী-পুরুষরা একই নিয়মে নামায আদায় করে থাকেন, যেমন- পুরুষরাও নারীদের মত বুকের উপর হাত বাঁধেন এবং মেয়েরা পুরুষের নিয়মেই রুকু-সিজদা-বৈঠক আদায় করেন ।
৬) তারা ইমাম সূরাহ ফাতিহা শেষ হলে ইমাম-মুক্তাদী সবাই জোরে আমীন বলেন ।
৭) তারা রুকুতে যেতে এবং রুকু থেকে উঠতে প্রত্যেকবার র’ফে ইয়াদাঈন করেন (তাকবীরে তাহ্‌রীমার ন্যায় দু’হাত উঠান)
৮) তারা (পুরুষরা) নামাযে মাথায় টুপি পরাকে প্রয়োজনীয় মনে করেন না ।
৯) তারা বিতরের নামাজ সাধারণত এক রাক’আত পড়ে থাকেন
১০) তারা শবে বারাআতের ফযিলতকে অস্বীকার করে থাকেন এবং এ রাতে বিশেষ ইবাদত-বন্দেগী করাকে বিদ’আঁত বলেন, প্রভৃতি ।[5]

ডাক্তার জাকির নায়েক যেহেতু এ সম্প্রদায়ের লোক, তাই তিনি স্বাভাবিকভাবেই এসব মতবাদে বিশ্বাসী । কারো অজানা নয় যে, পৃথিবীতে সবাই নিজেদেরকে সঠিক এবং অপরকে ভ্রান্ত বলে দাবী করে থাকেন । সেই হিসেবে গাইরে মুকাল্লিদ বা লা-মাজহাবী (আহ্‌লে হাদীস) হিসেবে ডাক্তার জাকির নায়েকেরও সেরকম দাবী থাকা স্বাভাবিক । আর পৃথিবীতে কেউ নিজের বুঝ ও প্রাপ্ত দলীলের ভিত্তিতে কোন মত বা পথ অবলম্বন করলে (মুরতাদ হওয়া এবং ইসলামের কুৎসা রটনা ব্যতীত) এতে অন্যদের কোন আপত্তি থাকার কথা নয় । কিন্তু অন্যদের মাসলাকি অবস্থানের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা করায় এবং সরলমনা সাধারণ মুসলমানদেরকে উল্টো বুঝিয়ে বিভ্রান্ত ও গোমরাহ করার অধিকার কারো নেই । অথচ তিনি তা-ই করছেন । [6]

তথ্যসূত্র

  1. http://www.irf.net/drzakirnaik.html
  2. https://www.youtube.com/watch?v=wNKeFR3kGyg
  3. http://en.wikipedia.org/wiki/Zakir_Naik
  4. http://www.unchangingword.com/naik_refuted.php
  5. http://en.wikipedia.org/wiki/Ahl_al-Hadith
  6. http://www.sunniforum.com/forum/showthread.php?7220-What-is-Dr-Zakir-Naik-s-Aqeeda-and-Manhaj