ডাঃ জাকির নায়েকের উত্থানের মূলে কি?

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
সারাবিশ্বে প্রতিক্রিয়া

বিশিষ্ট ইসলাম প্রচারক শেখ আহমদ দীদাত খৃষ্টান ও ইয়াহুদীদের ধর্মগ্রন্থ বাইবেল সম্পর্কে পারদর্শিতা অর্জন করে বহুদিন যাবত ইসলামের সত্যতার পক্ষে দলীল পেশ করে এবং ইয়াহুদী-খৃষ্টানদের ধর্মমতের অসারতা প্রমাণ করে তাঁদের মুকাবিলা করে এসেছেন । তিনি ‘দি চয়েস’ নামক গ্রন্থে বাইবেলের বিভিন্ন উক্তি দ্বারা জোরালোভাবে প্রমাণ করেছেন যে, বাইবেলধারীদের ধর্ম ভ্রান্ত এবং ইসলাম ধর্ম সত্য । তাঁর এ পদক্ষেপ সারা পৃথিবীতে আলোড়ন সৃষ্টি করে ।
শেখ আহমদ দীদাত ১৯৯৪ ইং সনে বিশেষ এক দাওয়াতী সফরে মুম্বাই শহরে এলে ডাক্তার জাকির নায়েক তাঁর সাথে সাক্ষাত করেন এবং তাঁর থেকে বিধর্মীদের ধর্মগ্রন্থের উদ্ধৃতিসমূহ বিধর্মীদের মুকাবিলা করে ইসলাম প্রচারের কৌশল আয়ত্ত করেন ।

শেখ আহমদ দীদাত থেকে দীক্ষা লাভ করে তিনি তাঁর স্টাইলে বিধর্মীদের ধর্মগ্রন্থের উদ্ধৃতি দিতে অন্যান্য ধর্ম রদ এবং ইসলাম ধর্মের প্রচার শুরু করেন । আর এ কাজের সুষ্ঠু ইনতিজামের জন্য তিনি তাঁর এলাকার আহলে হাদীস সম্প্রদায়ের সহযোগীতায় ইসলামী রিসার্চ ফাউন্ডেশন (আই আর এফ) নামে ইসলাম প্রচার কেন্দ্র গড়ে তুলেন । অতঃপর এর মাধ্যমে তিনি ডিজিটাল প্রচার যন্ত্রের সমন্বয় ঘটিয়ে বিভিন্ন কনফারেন্স এর আয়োজন এবং ‘পিস টিভি’ নামে চ্যানেল প্রতিষ্ঠা করেন । এছাড়াও অন্য টিভি চ্যানেলে ‘গোফত্‌গো’ নামে লাইভ অনুষ্ঠান করেন ।

তার ওয়েবসাই অনুসারে দক্ষিণ আফ্রিকার শায়খ আহমদ দিদাদ (রঃ) এর বিভিন্ন ধর্মের উপর তুলনামূলক লেকচার দেখে তিনি প্রভাবিত হন যখন তিনি মেডিকেল পড়ছিলেন। এর মানে হল ২২ বছর বয়সে (১৯৮৭ এর কাছাকাছি) সে নিজে ঘরে বসে ইসলাম শিক্ষা শুরু করে। আশ্চর্য্যজনকভাবে, মাত্র ৩ বছরের মধ্যেই (১৯৮৭-১৯৯০) মেডিকেলে ফুল-টাইম, ক্যাম্পাসে সময় কাটানো, সেমিষ্টার পরীক্ষা, ইন্টার্নশিপ ইত্যাদি দরকারী কাজে সময় দিয়ার পাশাপাশি তিনি ইসলামের সমস্ত বিষয় পড়া শেষ করেন এবং ১৯৯১ সালে আই.আর.এফ প্রতিষ্ঠা করেন ও ফুল-টাইম দাওয়ার কাজে নিয়োজিত হয়ে পড়েন।

তার এক লেকচারে তিনি দাবী করেছিলেন, ১৯৯১ সালে আই.আর.এফ প্রতিষ্ঠার আগেই দাওয়ার কাজ শুরু করেন। অর্থাৎ ডঃ জাকির নায়িক মুখস্তবিদ্যায় খুবই পারদর্শী। তিনি বুঝা বা জানার জন্য ইসলাম বিষয়ক বই পড়েন নি। তার কাছে ইসলাম বিষয়ক যা আসত তা তিনি শুধুই মুখস্ত করেছেন।

যার ব্রেইন খুব শার্প তারা সাধারণত খুবই বুদ্ধিমান হয়ে থাকেন। কিন্তু তারা প্রায়ই ডিকশনারীর মত হয়ে যান। তারা কখনও মূল বিষয়টা জানা বা বুঝার চেষ্টা করেন না, তারা মুখস্ত করেন পরীক্ষার খাতায় ভাল নম্বর পাওয়ার জন্য বা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে করতালির মাধ্যমে প্রশংসা পাওয়ার জন্য। তারা তাদের এই মুখস্তবিদ্যার উপর নির্ভর করে তর্কে অংশ গ্রহণের দক্ষতা বাড়িয়ে থাকেন। এই মুখস্তবিদ্যার মাধ্যমেই তারা উপস্থিত দর্শকের সম্মোহিত করে থাকেন এবং তর্কে প্রতিপক্ষকে পরাজিত করেন। তারা যৌক্তিক বিষয়কে অযৌক্তিকে এবং জ্ঞানের বিষয়কে মূর্খতায় পরিণত করতে পারেন যুক্তিতর্কে পারদর্শী হওয়ার মাধ্যমে ও বাগাড়ম্বর বক্তৃতার মাধ্যমে। তারা তাদের এই মুখস্তবিদ্যার মাধ্যমে অনুসারীদের এবং প্রতিপক্ষদের সন্দেহের মধ্যে ফেলে দিতে পারেন। বছরের পর বছর ধরে যখন তারা বিখ্যাত হোন এবং অসংখ্য অন্ধ সমর্থক তৈরী করেন তখন তারা ভুল ব্যাখ্যা দিয়া শুরু করেন তাদের মুখস্তবিদ্যা, বাগাড়ম্বর বক্তৃতা ও দক্ষ যুক্তিতর্কের ক্ষমতার মাধ্যমে। এভাবেই তারা নতুন একটি দল তৈরী করে সেই দলের নেতা বনে যান। ইবন খুযাইমা (৯৩৩-৮৪৬), ইবন তাইমিয়া (১২৬৩-১৩২৮), মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল ওহাব (১৭০৩-১৭৯২) প্রমুখ সালাফিদের বিখ্যাত স্কলার ছিলেন তাদের মুখস্তবিদ্যা ও বাগাড়ম্বর বক্তৃতার জন্য। ডঃ জাকির নায়িক হলেন এরকম একজন জীবন্ত উদাহরণ।

এক পর্যায়ে ডাক্তার জাকির নায়েক বিধর্মীদের ধর্মগ্রন্থের অনর্গল উদ্ধৃতি দিয়ে তাঁদের ধর্মের অসারতা প্রমাণ করতে এবং ইসলামের সত্যতা প্রকাশে লেকচার পদ্ধতি ও প্রশ্নোত্তর পদ্ধতি দ্বারা চমক সৃষ্টি করেন । তাঁর সেসব লেকচার ও প্রশ্নোত্তরগুলো চ্যানেলের মাধ্যমে এবং সিডি ও বই আকারে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয় । এতে অতি অল্প সময়ের মধ্যে তাঁর বক্তব্য সুবিস্তৃত প্রচারণা পায় এবং তিনি এর মধ্য দিয়ে অভুতপূর্বভাবে দৃষ্টি আকর্ষন করতে সমর্থ হন । ভারত ও পাকিস্তানে তাঁর লেকচারসমূহ ঊর্দূ ভাষায় সিডি ও ‘খুতবাতে ডাক্তার জাকির নায়েক’ নামে সিডি আকারে এবং বাংলাদেশে তাঁর লেকচারের সংস্করণ সিডি ও “ডাঃ জাকির নায়েক লেকচার সমগ্রও” নামে বই পাওয়া যায় ।

ডাক্তার জাকির নায়েকের এ পদ্ধতির কৌশলগত দিক হল, বিষয়ভিত্তিক উদ্ধৃতিসমূহ গদবাঁধাভাবে মুখস্ত করা । যদ্দরুন মানুষ অনবরত উদ্ধৃতি শুনে অভিভূত হয়ে যায় এবং তাঁকে এ সম্পর্কিত বড় বিদ্বান ও গভীর জ্ঞানের অধিকারী ভাবতে থাকে । অথচ তাঁর কারিশমা সেই উদ্ধৃতি পর্যন্তই শেষ, এর বাইরে ইল্‌মের যে বিশাল সাগর-মহাসাগর রয়েছে, সেখানে তাঁর পদচারনা অপ্রতুল । এমনকি যে হাদীস ও আয়াত তিনি পেশ করেন, তাঁর আগের ও পরের আয়াত হাদীস তাঁর মুখস্তের আওতায় থাকে না এবং সেগুলোর অনেকটার অর্থও তিনি বুঝেন না । কারন, আরবী ভাষাজ্ঞান তাঁর নেই- এ কথা তিনি নিজে স্বীকার করেছেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর বক্তব্যের দ্বারাও এটা প্রমাণিত হয়েছে । অবশ্য এটা আলেমগণ ধরতে পারেন; সাধারণ জনগণের এটা ধরতে না পারা স্বাভাবিক ।[1]

তথ্যসূত্র

  1. https://www.youtube.com/watch?v=t7zSZ6jHviw