ডাঃ জাকির নায়েকের কাদিয়ানী বিশ্বাস

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
সারাবিশ্বে প্রতিক্রিয়া

জাকির নায়িক অন্যান্য ধর্মগ্রন্থের যেই ব্যাখ্যা দেয় তা খুবই বিতর্কিত। দেরীতে হলেও সেসব ধর্মের স্কলারগণ তার ব্যাখ্যাকে ভুল প্রমাণও করেছেন। ইন্টারনেট ও ইউটিউবে সে সব রয়েছে।

জাকির নায়িক তার লেকচার ও লিখনীতে অনেকবার উল্লেখ করেছেন হিন্দু ধর্মগ্রন্থে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আগমনের কথা উল্লেখ আছে। আপনারে জেনে অবাক হবেন যে, এই চমৎকার তথ্যটি সর্বপ্রথম দাবী করেন আব্দুল হক বিদ্যার্থী কাদীয়ানি তার “বিশ্বের ধর্মগ্রন্থে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম” কিতাবে। আব্দুল হক বিদ্যার্থী কাদীয়ানি ছিলেন লাহোর আহমাদিয়া আন্দোলনের একজন মিশনারী । [1][2] [3] [4] [5][6][7] [8]

আমরা এখানে জাকির নায়িকের হিন্দু ধর্ম নিয়ে জাকির নায়িকের পড়াশুনার মূল উৎসের উপর জোড় দিচ্ছি না। আনাদের মূল বিষয়-বস্তু এর থেকেও বড় ও গুরুত্বপূর্ণ।

হিন্দুদের বেদ ও অন্যান্য ধর্মীয় গ্রন্থাবলী মুসলমানদের আল্লাহ তা’আলা এর কিতাব হিসেবে গ্রহণ করা যাবে কি না এমন এক প্রশ্নের ডঃ জাকির নায়িক জবাবে বলেন,

কুর’আন ও সহীহ হাদীসের মাঝে এমন কোনো কথা নেই যেখানে বলা আছে উক্ত গ্রন্থাবলী ভারতে পাঠানো হয়েছিল। যেহেতু বেদ ও হিন্দুদের অন্যান্য ধর্মীয় গ্রন্থাবলীর উল্লেখ কুর’আন ও হাদীসে নেই তাই কেউই নিশ্চিতভাবে বলতে পারে না যে এটা আল্লাহ তা’আলার বাণী। এটা আল্লাহ তা’আলার বাণী হতেও পারে আবার নাও পারে।

যাই হোক, তিনি বেদ ও হিন্দুদের অন্যান্য ধর্মী গ্রন্থাবলী সম্পর্কে যা বলেছেন তা আসলে আব্দুল হক বিদ্যার্থী কাদীয়ানির তথ্য। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নাম হিন্দুদের ধর্মীয় গ্রন্থে আছে বলে পুনরাবৃত্তি করাও প্রকৃতপক্ষে এই কাদিয়ানীর আবিষ্কার।

জাকির নায়িকের এই সম্পর্কিত মন্তব্য থেকে বুঝা যায় যে, তিনি আসলে হিন্দুদের ধর্মীয় গ্রন্থাবলীকে আল্লাহ তা’আলা এর বাণী বলে মনে করেন যদিও তিনি তা জনসম্মুখে প্রচার করতে ইচ্ছুক নন।

জাকির নায়িক যে আসলেই হিন্দু ধর্মীয় গ্রন্থাবলীকে আল্লাহ তা’আলা এর বাণী হিসেবে বিবেচনা করেন তা এর মাধ্যমেও বুঝা যায়। জাকির নায়িক সূরা আল-ইমরান এর ৬৪ নং আয়াতটি বারবার উদ্ধৃতি দিয়ে থাকেন হিন্দুদের মুসলমানদের সাথে একত্রিত হওয়ার জন্য। আয়াতটি হল

বলুনঃ ‘হে আহলে-কিতাবগণ! একটি বিষয়ের দিকে আস-যা আমাদের মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে সমান-যে, আমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করব না, তাঁর সাথে কোন শরীক সাব্যস্ত করব না এবং একমাত্র আল্লাহকে ছাড়া কাউকে পালনকর্তা বানাব না। তারপর যদি তারা স্বীকার না করে, তাহলে বলে দাও যে, ‘সাক্ষী থাক আমরা তো অনুগত।

— [সূরা আল-ইমরান ৬৪

সকল গ্রহণযোগ্য তাফসীরে এই আয়াতে ‘আহলে কিতাব’ বলতে ইহুদী ও খ্রীষ্টানদের বুঝানো হয়েছে যারা ঐ সময় তাওরাত ও ইঞ্জীল অনুসরণ করত, কোনো মূর্তি পুজারকদের নয়। বর্তমান সময়ের হিন্দুরা সেই সময়কার মূর্তি পূজারকদের মত। এই বিষয়ে সবাই একমত থাকবেন। অথচ জাকির নায়িক আল্লাহ তা’আলা এর এই বাণী দ্বারা মূর্তি পূজারকদের উদ্দেশ্যে প্রয়োগ করলেন। এমন কোনো হাদীস পাওয়া যায় না যেখানে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মূর্তিপূজারকদের সাথে ইসলামের যে সব সাদৃশ্য বিদ্যমান সেদিকে আহবান করেছেন। কিন্তু ডঃ জাকির নায়িক কেন এই আয়াতের মাধ্যমে হিন্দুদেরকে আহবান করলেন???

এর দ্বারা বিষয়টা আরও সহজতর হয়ে যায় যে, হিন্দুদের ধর্মীয় গ্রন্থ আল্লাহ তা’আলা এর বাণী তা জাকির নায়িক প্রকাশ্যে দাবী না করলেও মনে-প্রাণে তিনি এটাই বিশ্বাস করেন।

ডঃ জাকির নায়িক কখনই অস্বীকার করতে পারবেন না যে, হিন্দুদের ধর্মীয় কিতাবগুলো আল্লাহ তা’আলা এর বাণী নয় কেননা তিনি নিজেই বলেছিলেন,

এটা আল্লাহ তা’আলার বাণী হতেও পারে আবার নাও পারে ।

ডঃ জাকির নায়িক জোরোয়াসট্রিয়ানিজম একটি প্রফেটিক ধর্ম হিসেবে এবং এর প্রবর্তক জোরোয়াস্টারকে নবী হিসেবে দাবী করেছিলেন। তার একটি লেকচারে বলেন,

জোরোয়াসট্রিয়ানিজম একটি নন সিমিটিক, আরিয়ান, নন ভেদিক ধর্ম যা হিন্দু ধর্মের সাথে সম্পর্কিত নয় এবং প্রফেটিক ধর্ম। জোরোয়াসট্রিয়ানিজমকে প্যারিসিজমও বলা হয়ে থাকে এবং এটার প্রবর্তক প্রফেট জোরোয়াস্টার।

— বিভিন্ন ধর্মে স্রষ্টার ধারণা, সিডি, ইসলাম ও ভুল ধারণা, লেকচার সিরিজ, ডঃ জাকির নায়িক, আহিয়া মাল্টি মিডিয়া ১২, এনলাইটেনিং সেশন

পবিত্র কুর’আন ঘোষণা দেয় প্রত্যেক নবী-রাসূলগণ আলাইহিমুস সালাম আল্লাহ তা’আলা সম্পর্কে একই বার্তা বহন করতেন। কিন্তু জোরোয়াস্টার আগুনের পূজার করা জন্য বলত, অর্থাৎ অগ্নীপূজারক। আমরা বুঝতে পারলাম না ডঃ জাকির নায়িক কেন জোরোয়াস্টারকে নবী হিসেবে ঘোষণা দিলেন!!

কেন ডাঃ জাকির নায়িক তার কাদিয়ানী বিশ্বাস প্রকাশ্যে বলতে ভয় পান ?

উত্তর জানতে এই দুটি বিষয় লক্ষ্য করুন

  • যদি তিনি হিন্দু ধর্মীয় গ্রন্থকে আল্লাহ তা’আলা এর বাণী হিসেবে ঘোষণা দেন তবে তাকে কাদিয়ানীদের মত স্বীকার করতে হবে রাম, কৃষ্ণ, বুদ্ধা, অশোক ও গুরু নানক সবাই নবী ছিলেন এবং কালকি আভাটর হলেন সর্বশেষ নবী। (নাউজুবিল্লাহ মিন জালিক)
  • কাদিয়ানীরা মুসলিম বিশ্বে ইসলামের বহির্ভূত হিসেবে গণ্য করা হয়। এটা জাকির নায়িকের জন্য খুবই বিপদজনক তার কাদিয়ানী বিশ্বাস প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়া কারণ মুসলিম সমাজে তা তার জন্য একটি প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করবে। তিনি খুব ভালভাবেই জানেন তার এই গোপন কাদিয়ানী বিশ্বাস জনসম্মুখে ঘোষণা দিলে কি হবে।

এটি সত্যিই খুবই উৎকণ্ঠার ব্যাপার যে, জাকির নায়েক হিন্দুদের ধর্মীয়গ্রন্থকে আল্লাহ পাকের পাক কালাম বলে উল্লেখ করছেন ।

ফেইসবুকে তাঁর ভক্তের সংখ্যা লাখের উপরে । তাঁর দ্বারা পরিচালিত সংস্থার সংখ্যা এখন শুধুমাত্র ভারতেই কয়েকশ'তে গিয়ে পৌছেছে; আর ভারতের বাহিরে তো আছেই । সালাফী দাওয়াতের কার্যক্রম চলছে প্রতিষ্ঠান পরিচালিত স্কুল এবং কলেজগুলোতেও । সালাফী পিস্‌ টিভি এখন চলছে ইংরেজী, উর্দু এবং বাংলা ভাষায় এবং এটা খুব সহজেই বলা যায় যে সালাফিজমকে এখন সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে জাকির নায়েকের প্রচারমাধ্যম এখন বিশ্বে এক নম্বরে রয়েছে । জাকির নায়েকের অনুগতদের ডাকা হচ্ছে 'জাকিরি সালাফি' নামে । সুতরাং এটা প্রমানিত যে নব্য সৃষ্ট এই সালাফি শাখার মূল জনক এখন তিনিই ।

তথ্যসূত্র

  1. muhammadworldscriptures1st/muhammadworldscriptures1st.shtml
  2. muhammadworldscriptures1pk/muhammadworldscriptures1pk.shtml
  3. muhammadworldscriptures3/muhammadworldscriptures3.shtml
  4. Zakir-Naik-s-Qadiyani-source-for-research
  5. muhammadworldscriptures2/muhammadworldscriptures2.shtml
  6. muhammadworldscriptures1usa/muhammadworldscriptures1usa.shtml
  7. INTRODUCTION TO HINDUISM
  8. http://www.cifiaonline.com/Dr.%20Naik%27s%20Qadiyani%20connection.docx