এই সুন্নিপিডিয়া ওয়েবসাইট পরিচালনা ও উন্নয়নে আল্লাহর ওয়াস্তে দান করুন
বিকাশ নম্বর ০১৯৬০০৮৮২৩৪

ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) * কারবালার ইতিহাস * পিস টিভি * মিলাদ * মাযহাব * ইলমে গায়েব * প্রশ্ন করুন

বই ডাউনলোড

ডাঃ জাকির নায়েক ও সালাফী মতবাদ

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
এন্সাইক্লোপিডিয়া উইকিপিডিয়াতে জাকির নায়েকের ধর্ম
সারাবিশ্বে প্রতিক্রিয়া

বিশ্বের অন্যতম এন্সাইক্লোপিডিয়া উইকিপিডিয়াতে জাকির নায়িকের ধর্ম হিসেবে পূর্বে 'সালাফী ইসলাম' উল্লেখ ছিল । বর্তমানে সেখান থেকে সালাফী ইসলাম কথাটা মুছে দিয়ে 'ইসলাম' লিখা আছে।

ডঃ জাকির নায়িক ইসলামের নামে সালাফীজম মতবাদ প্রচার করে থাকেন। পবিত্র কুর’আন ও হাদীসের অর্থ করে থাকেন তার ওহাবীজম/সালাফীজম মতবাদের অনুসারে। [1]

জাকির নায়িকে বলেন, তার আকাশ প্রভুর দুই হাত, দুই চোখ, মুখ, পা ও বিশাল শরীর নিয়ে আরশের দিকে মুখ করে বড় চেয়ারে বসে আছে।[2] কেউ একজন তাকে তার আকাশ প্রভুর হাত কেমন জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন; আমরা জানি না, শুধু গড জানেন।

সালাফীদের আকাশ প্রভুর বর্ণনার সাথে হিন্দুদের প্রভু বিষ্ণুর সাথে মিলে যায়। মূল পার্থক্য হল হিন্দুদের প্রভু বিষ্ণু বিবাহিত কিন্তু সালাফীদের আকাশ প্রভু অবিবাহিত। হিন্দুরা তাদের দেবতা বিষ্ণুর মূর্তি তৈরী করে; কিন্তু সালাফীরা করে না। কিন্তু সালাফীদের প্রভূর এই বিশাল দৈহিক আকৃতি বিশ্বাস হিন্দুদের প্রভূর বিশ্বাসের সাথে মিলে যায়।

আল্লাহ তা’আলা সম্পর্কে ভুল ধারণার কারণে সালাফীরা নামাযে এই আকাশ প্রভুকে[3] সিজদাহ করে থাকে। তারা দাবী করে তাদের আকাশ প্রভু মহাবিশ্ব তৈরী করেছে।

জাকির নায়িক আল্লাহ তা’আলা সম্পর্কিত সালাফীদের এই বিশ্বাসকে ইসলামি বিশ্বাস বলে প্রচার করে এবং অনেককেই মুসলমান বানাচ্ছে দেখে গর্ব অনুভব করে। জাকির নায়িকের লেকচার শুনে প্রভাবিত হওয়া মানুষেরাও আস্তে আস্তে সালাফীদের আকাশ প্রভুকে আল্লাহ তা’আলা মনে করতে শুরু করে। (নাউজুবিল্লাহ মিন জালিক) পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে ডাঃ জাকির নায়েক মাযহাব বিরোধী । লা-মাজহাবিদের তিন জন বড় ইমাম:- ১। ইবনু তায়মিয়া, ২। ইবনুল কাইয়ুম যাওজি, ৩। ইবনু আব্দুল ওহ্‌হাব নজদী । ইবনু তায়মিয়ার আকিদা হল

اَنَّ اللهَ عَزَّ وَ جَلَّ بِقَدْرِ الْعَرْشِ لَاَكْبَرَ وَلَا اَصْغَرَ

অর্থাৎ ‘আল্লাহর আরশটা যত বড় আল্লাহও তত বড় আল্লাহ ছোটও না বড়ও না’ ।

একথা যারা বিশ্বাস করেছে তাঁরা মুশরিক হয়েছে । অনেক নব্য লা-মাজহাবিদের এরূপ আকীদা রয়েছে । অথচ আমাদের আল্লাহ হলেন-

وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ

অর্থাৎ তিনি একক,তাঁর কোনও শরীক নেই, আকার নিরাকার কিছুই নন এবং দেহ হতে পাক ।

حَام تَنْزِيْلُ الْكِتَابِ مِنَ اللهِ الْعَزِيْزِ الْعَلِيْمِ

আজিজ শব্দের ব্যখ্যায় ইমাম ফখরুদ্দীন রাযী তাফসীরে কাবিরে লিখেছেন আজিজের দুইটি ব্যখ্যা একটি অর্থ গালেব অর্থাৎ বিজয়ী; দুই নম্বর

اَلَّذِى لَا يُوْجَدُ لَهُ مِثْل

অর্থাৎ আকাশ ও যমীনে যার কোন মেছাল বা তুলনা নেই ।

ইমাম রাযী লিখেছেন, আহলে সুন্নতের সকল মুহাদ্দেস একমত।

قَدْ اَنَّ عَقْدَ الْاِجْمَاعِ عَلى اَنَّ اللهَ عَزَّ وَ جَلَّ مُنَزَّهٌ مِنَ الْجِسْمِ

অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালা দেহ থেকে পাক এ ব্যাপারে সবাই একমত ।

যদি কেউ বলে আল্লাহর আকার আছে আর আকার নিয়ে তিনি আরশে বসে আছেন কুরসীতে তবে সে হিন্দুদের মতো মুশরিক হয়ে যাবে । কারণ এর দ্বারা আল্লাহকে খাট ও ছোট করা হয় । আল্লাহ বলেছেন তিনি আকাশ ও যমীন সৃষ্টি করেন ৬ দিনে । এরপর আল্লাহ বলেছেন-

ثُمَّ اسْتَوَى عَلى الْعَرْشِ

অর্থাৎ আল্লাহ আরশে আযীমে সমাসীন হয়েছেন ।

‘আকার নিয়ে সমাসীন’ এ কথাটি বলা আল্লাহর শানের খেলাপ কথা । আমরা বলব ‘ইস্তাওয়া’ অর্থাৎ রকম প্রকারহীনভাবে সমাসীন । এখন যদি বলা হয় আল্লাহ দেহ নিয়ে আরশে বসে আছেন তবে এটা শিরক হবে । কোরআনে সুরা মু’মিনে আল্লাহ বলেছেন

اَلَّذِيْنَ يَحْمِلُوْنَ الْعَرْشَ وَمَنْ حَوْلَهُ

অর্থাৎ যে সকল ফেরেশতারা আল্লাহর আরশ বহন করছে এবং তাঁরা চারপাশে আছে ।

কোরআন সাক্ষী দেয় আল্লাহর আরশটা ‘মাহমুল’ অর্থাৎ বহন করা হচ্ছে । আর এই বহনটা করছে আট জন ফেরেশতা । যদি বলা হয় আল্লাহ আরশে আযীমে আকার নিয়ে বসে আছেন তবে বলতে হবে আল্লাহ সহ আরশটাকে আল্‌গায় রাখছে মাত্র আট জন ফেরেশতা, তবে ফেরেশতার ক্ষমতা বেশি বোঝায় আল্লাহর চাইতে । দৃষ্টান্তঃ একজন লোক চেয়ারে বসা কেউ চারজন এসে যদি চেয়ারটা উঠায় তাহলে উঠবে । তখন তাদের চারজনের সম্মিলিত শক্তি বেশি বোঝায় আর চেয়ারে রাখা লোকটির শক্তি কম বোঝাবে । আল্লাহ পাক আরশে আযীমে সমাসীন হয়েছেন এটা আল্লাহর কথা । কিন্তু তিনি কিভাবে সমাসীন হয়েছেন সেটা তিনিই ভাল জানেন । ‘ইস্তাওয়া মা’লুম’ অর্থাৎ সমাসীন হওয়াটা জ্ঞাত ‘ওয়াল কাইফিয়াত মাজহুল’ এবং কিভাবে তিনি সমাসীন এটা আল্লাহই ভাল জানেন । কোন সৃষ্টি জানেনা । যদি বলা হয় আল্লাহর আকার আছে তবে বলতে হবে আকার নিয়ে আল্লাহ পাক আরশে বসে আছেন । আর আল্লাহ সহ পুরা আরশটাকে আট জন ফেরেশতা আল্‌গায় রাখছেন। তাতে আল্লাহর শক্তির চাইতে ফেরেশতার শক্তি বেশি বোঝাল । তবে পাঠকগণ ! এখন চিন্তা করুন, এভাবে ধারণা করলে শিরক হয়। [4]

তথ্যসূত্র

  1. https://www.youtube.com/watch?v=kK4R-7NiUdc
  2. https://www.youtube.com/watch?v=fid9o1DK5mg
  3. http://www.correctislamicfaith.com/howallahviewssalafis.htm
  4. https://www.youtube.com/watch?v=PjSCpumPeqA