তন্ত্রমন্ত্র দ্বারা চিকিৎসাকারী

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
শিক্ষনীয় ইসলামী ঘটনাসমূহ 1








  • তন্ত্রমন্ত্র দ্বারা চিকিৎসাকারী





















ইয়ুশানুয়া গোত্রের জামাদ নামক এক ব্যক্তি তন্ত্র মন্ত্র দ্বারা মানুষের উপর জ্বীন-ভূত ইত্যাদির আছরের চিকিৎসা করতো। একবার সে মক্কা সুয়াজ্জামায় দিয়েছিল। তখন কতেক লোককে এটা বলতে শুনলো যে মুহাম্মাদের উপর জ্বীনের আছর হয়েছে বা পাগল হয়ে গেছে (মাআযাল্লাহ)। জামাদ বললো, আমি তন্ত্র মন্ত্র দ্বারা এ রকম রোগের চিকিৎসা করে থাকি। আমাকে দেখাও, সে এখন কোথায়? ওরা ওকে হুজুরের কাছে নিয়ে গেল। জামাদ যখন হুজুরের কাছে গিয়ে বসলো, তখন হুযুর ফরমালেন, জামাদ, তোমার তন্ত্র মন্ত্র পরে শুনাও, প্রথমে আমার কথা শুন, অতঃপর তিনি তাঁর পবিত্র মুখে এ খুৎবাটি পড়তে শুরু করলেনঃ

الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونؤمن به ونتوكل عليه ونعوذ بالله من شرور انفسنا ومن سيأت اعمالنا من يهده الله فلا مضل له ومن يضلله فلا هادى له. واشهد ان لا اله الا الله وحده لا شريك له واشهد ان محمدا عبده ورسوله.

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, তাঁরই প্রশংসা করছি। এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা প্রর্থনা করছি। তাঁর উপর ঈমান এনেছি এবং তাঁর উপর ভরসা করেছি। আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি নফসের কুমন্ত্রনা থেকে এবং মন্দ আমল থেকে। আল্লাহ যাকে হিদায়েত করে তাকে কেউ গুমরাহ করতে পারে না আর যাকে আল্লাহ গুমরাহ করে, তাকে কেউ হিদায়েত করতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই। তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নেই আরও সাক্ষী দিচ্ছি মুহাম্মদ তাঁরই বান্দা ও রসূল।

জামাদ এ খুৎবা শুনে বিভোর হয়ে গেল এবং আরয করতে লাগলো, হুযুর! পূনরায় আর একবার পড়–ন। হুযুর পূনরায় সেই খুৎবা পাঠ করলেন। এবার জামদ যে জ্বীনের আছর তাড়াতে এসেছিল, তার উপর থেকে কুফরীর আছর কিভাবে দূরভীত হলো, দেখুন) আর স্থির থাকতে পারলো না। বলে উঠলো, খোদার কসম, আমি অনেক যাদুকর জ্যোতিষী ও কবিদের কথা শুনেছি, কিন্তু আপনার থেকে যা শুনেছি, এটাতো অর্থেও দিক দিয়ে এক বিশাল সমুদ্র। আপনার পবিত্র হাত বাড়িয়ে দিন, আমি আপনার হাতে বায়াত হচ্ছি। এ বলে সে মুসলমান হয়ে গেল যারা ওকে হুযুরের চিকিৎসার জন্য নিয়ে এসেছিল, তারা আশ্চর্য ও নিরাশ হয়ে ফিরে গেল।

সবকঃ

আমাদের হুযুর (সল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) এর পবিত্র মুখে এমন তাছির ছিল যে, বড় বড় পাষাণ হৃদয়ও গলে মোম হয়ে যেত। আমাদের হুযুরকে যারা পাগল বলতো, বাস্তবে ওরাই পাগল ছিল। অনুরূপ আজও যারা হুযুরের জ্ঞান ও ক্ষমতা এবং নুরের অস্বীকার করে, তারাও মূলত নিজেরাই মূর্খ, কুটিলমনা ও মলিন চেহারাধারী।


তথ্যসূত্র

  • মুসলিম ৩২০পৃঃ ১ম জিঃ
  • ইসলামের বাস্তব কাহিনী - ১ম খন্ড