তায়াম্মুম করার নিয়ম

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search

আল্লাহ তাআ’লা কোরআন মাজীদে এরশাদ করেছেন-

আর যদি তোমরা রুগী হও অথবা ছফরে থাক, অথবা তোমাদের কেউ পেশাব পায়খানা করে আস অথবা স্ত্রীর সাথে সহবাস করো, এরপর পবিত্র হওয়ার জন্য পানি না পাও তাহলে তোমরা পাক মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করে নাও অর্থাৎ তোমাদের মুখ মন্ডল ও দু’হাত মাটি দিয়ে মুছে ফেল। আল্লাহ তাআ’লা (পবিত্রতার ব্যপারে) তোমাদের অসুবিধায় ফেলতে চান না বরং (সব সময়) পবিত্র রাখতে চান এবং তোমাদের প্রতি তার নেয়ামত পুরাপুরি দিতে চান যাতে তোমরা তাঁর শোকর গোজারী করতে পার।

— ছুরা মায়েদা

কখন তায়াম্মুম করা যাবে
  • উড়োজাহাজ, মোটরবাস বা রেল গাড়ীতে চলাচলের সময় যদি অজুর জন্য পানির ব্যবস্থা করতে না পারে।
  • রোগী এমন অসুস্থ যে পানি দিয়ে অজু করলে রোগ বেশী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • দুরে পানি আছে কিন্তু সেখানে যেয়ে অজু করলে নামাজের ওয়াক্ত শেষ হয়ে যায়।
  • কাছে খাওয়ার পানি আছে, কিন্তু তা দিয়ে অজু করলে পিপাসায় কষ্ট হবে।
  • মোটরগাড়ী চলাচলের পাশে পানি আছে কিন্তু চালক গাড়ী থামাতে চায় না অথবা থামিয়ে অজু করলে পরবর্তী বাস ট্রেন ফেল করার সম্ভাবনা থাকে।
  • কোন ব্যক্তির উপর গোছল ফরজ হয়েছে কিন্তু গোছলের জন্য পানি না পায়।
  • পানি আছে কিন্তু রোগগ্রস্থ ব্যক্তি ফরজ গোছল করলে রোগ বৃদ্ধি হবে।
  • নিকটে পানি আছে কিন্তু হিংস্র জন্তু বা শত্রুর আক্রমণের ভয় থাকে।
  • নিজের ভারী মালামাল রেখে অজু করতে গেলে যদি মাল হারিয়ে যাওয়ার ভয় থাকে, তবে এ সকল অবস্থায় পানি দিয়ে অজু করার বদলে তায়াম্মু ম করা জায়েজ আছে। (আলমগীরি)
  • শহরের বাসায় পানি নেই। পানির জন্যে অপেক্ষা করুন। যদি দেখেন নামাজের ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাচ্ছে দেরী না করে তায়াম্মুম করে নামাজ পড়ে নিন।
তায়াম্মুম যেভাবে করবেনঃ
নামাজ অথবা অন্য যে কোন ইবাদাতের জন্য তায়াম্মুম করলে তার নিয়েত করুন। ক্বলব বা অন্তরে নিয়েত করুন। (ফরজ)

আমি নামাজের জন্যে/কোরআন পড়ার জন্যে/ফরজ গোছলের বদলে/ অজুর বদলে তায়াম্মুম করছি।

  • বিছমিল্লাহির রাহমানির রহীম পড়ুন। (ছুন্নাত)
  • পাক মাটি, পাথর, ইট, ধুলা বা বালি ইত্যাদী যে কোন মাটি যাতীয় বস্তুর উপর অথবা বাস, ট্রেন ও প্লেনে চলাচলের সময় সিটের গায়ে বা বডিতে ধুলি বা বালি লেগে থাকলে তার উপর অথবা পরিধেয় কাপড়ে ধুলা উড়ে এসে পড়লে যদি কাপড়ে ধূলার নমুনা দেখা যায় তার উপর দু’হাত তালু সহ (কবজি পর্যন্ত ) মারুন। (ছুন্নাত)
  • হাত দু’খানা সামনের দিকে ঘষা দিন। (ছুন্নাত)
  • এরপর পিছন দিকে ঘষে নিয়ে যান। (ছুন্নাত)
  • হাত মারার সময় আঙ্গুলগুলি ছড়িয়ে রাখুন। (ছুন্নাত)
  • দু’হাত উঠান।
  • হাতে আংটি থাকলে সরিয়ে ধুলি লাগান।
  • দু’হাতের এক কবজিকে অন্য হাতের কবজির সাথে ধাক্কা দিয়ে হাত ঝাড়ুন। (ছুন্নাত)
কপালের চুল উঠার স্থান হতে থুতনির নিচে ও এক কানের লতি হতে অন্য কানের লতি পর্যন্ত সম্পুর্ন মুখ মন্ডল চক্ষুদ্বয়ের পাতা, ভুরু, নাকের ডগা ভালভাবে একবার মাছেহ করুন। (ফরজ)
  • অজুর ন্যায় তিনবার অথবা দু’বার মাছেহ করবেন না। করা মাকরুহ।
  • অজুর পরে দাড়ি খেলাল করার ন্যায় দাড়ি খেলাল করুন। (ছুন্নাত)
  • দুহাত পুনরায় মারুন। (ছুন্নাত)
  • আগে পিছে হাত ঘষা দিন। (ছুন্নাত)
  • দু’হাত উঠান।
  • দু’হাতের এক কবজির সঙ্গে অন্য কবজি ধাক্কা দিয়ে ঝাড়ুন। (ছুন্নাত)
দু’হাতের কনুই পর্যন্ত মাছেহ করা ফরজ। (ফরজ ৩)
ক) বাম হাতের কনিষ্ঠা অনামিকা ও মধ্যমা আঙ্গুলের আগা হতে গোড়া পর্যন্ত ডান হাতের পিঠের আঙ্গুলগুলির মাথা হতে কনুই পর্যন্ত একবার মাছেহ করুন।
খ) বাম হাতের বৃ দ্ধা ও তর্জনী আঙ্গুলের ফাক দিয়ে ডান হাতের উপরি ভাগ কনুই হতে আঙ্গুলের মাথা পর্যন্ত মাছেহ করুন। তারপর
গ) ডান হাতের কনিষ্ঠা, অনামিকা ও মধ্যমা আঙ্গুলগুলি দিয়ে বাম হাতের পিঠের আঙ্গুলগুলির মাথা হতে কনুই-এর নিচ পর্যন্ত একবার মাছেহ করুন।
ঘ) ডান হাতের বৃদ্ধা ও শাহাদাত আঙ্গুলের ফাক দিয়ে বাম হাতের উপরে কনুই থেকে আঙ্গুলের মাথা পর্যন্ত একবার মাছেহ করুন।
  • ডান হাতের আঙ্গুলগুলির ফাকে বাম হাতের আঙ্গুলগুলি ঢুকিয়ে খেলাল করুন। (ছুন্নাত)
  • এবার বাম হাতের আঙ্গুলগুলির ফাকে ডান হাতের আঙ্গুলগুলি ঢুকিয়ে খেলাল করুন।
লক্ষ্য করুনঃ
ফরজ নামাজ ব্যতীত অন্য কোন কারণে যেমনঃ আযান দেয়া, কোরআন পড়া, কবর জিয়ারত করা, দাফন করা, মছজিদে প্রবেশ করা ইত্যাদীর জন্য তায়াম্মু ম করলে উক্ত তায়াম্মুম দ্বারা ফরজ নামাজ আদায় হবে না। ফরজ নামাজের জন্য নামাজের নিয়েতে আলাদাভাবে তায়াম্মুম করতে হবে।
রোগীকে যদি অন্য কেউ তায়াম্মুম করিয়ে দেয় তবে রোগী তায়াম্মুমের নিয়েত করবে। অন্য কেহ নিয়েত করলে তায়াম্মুম শুদ্ধ হবে না।
যে সব কারণে অজু ভঙ্গ হয় সে সব কারণে তায়াম্মুম ভঙ্গ হয়।
পানি পেলে অথবা ছফর হতে বাড়ী আসলে অথবা রোগী সুস্থ হলে তায়াম্মুম ভেঙ্গে যাবে।
পথে চলার সময় তায়াম্মুমের জন্য হাত রাখা যায় এমন একটা পাতলা কাঠ অথবা পুরু কাগজে মাটি লাগিয়ে সাথে রাখলে সর্বাবস্থায় তায়াম্মুম করে পাক পবিত্র থাকা যায়।

তথ্যসূত্র

  • নামাজ প্রশিক্ষণ (লেখকঃ মাহবুবুর রহমান, প্রাক্তন উপাধ্যক্ষ, প্রতাপনগর আবূবকর সিদ্দিক ফাজিল মাদ্রাসা, সাতক্ষীরা)