এই সুন্নিপিডিয়া ওয়েবসাইট পরিচালনা ও উন্নয়নে আল্লাহর ওয়াস্তে দান করুন
বিকাশ নম্বর ০১৯৬০০৮৮২৩৪

ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) * কারবালার ইতিহাস * পিস টিভি * মিলাদ * মাযহাব * ইলমে গায়েব * প্রশ্ন করুন

বই ডাউনলোড

তারাবীহ

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search

তারাবীহ শব্দটির মূলতঃ আরবী । এর বাংলা রুপ 'তারাবী' যার অর্থ হলো - বিশ্রাম গ্রহন করা । এ শব্দের ব্যাখ্যায় হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী (রহঃ) বলেন

تراويح শব্দটি ترويحة শব্দের বহুবচন । ترويحة অর্থ একবার বিশ্রাম গ্রহন করা । যেমন تسليمة শব্দের অর্থ একবার সালাম দেওয়া । মাহে রমযান এর বরকতময় রজনীতে জামা'আতের সঙ্গে যে নামাজ পড়া হয় তাকে সালাতুত তারাবীহ বলে । এ নামকরণের কারণ হচ্ছে যখন থেকে সাহাবায়ে কেরাম এ নামায সম্মিলিতভাবে আদায় করতে আরম্ভ করেন তখন থেকেই তারা প্রতি দু'সালামের পর অর্থাৎ চার রাকাতের পর বিশ্রাম নিতেন ।

— ইবনু হাজার আসকালানী (রহঃ), আহমাদ ইবনু আলী (৮৫৫ হিঃ), ফাতহুল বারী, (বৈরুত, দারুল মারিফা), প্রকাশকাল ১৩৭৯ খন্ড ৪, পৃঃ ৫০

আল্লামা বদরুদ্দীন আঈনী (রহঃ) বলেন

تراويح শব্দটি ترويحة এর বহুবচন । ترويحة এর বহুবচন ترويحات ও হতে পারে । মূলে এর অর্থ হচ্ছে বিশ্রাম গ্রহণ করা । প্রতি চার রাকাতের পর লোকেরা কিছু সময় বসার মাধ্যমে বিশ্রাম গহন করত বলেই তাকে তারাবীহ নামকরণ করা হয় । পরবর্তীতে রুপকভাবে চার রাকাতকেই এক তারবীহা বলা হত ।

— উমদাতুল ক্বারী শরহে সহীহুল বুখারীঃ আল্লামা বদরুদ্দীন আঈনী (রহঃ) (মূলফাত প্রথম প্রকাশকাল ১৭ই এপ্রিল ২০০৬) খন্ড ১৭, পৃঃ ১৫০

আল্লাম ইবনে নুযাইম আল মিসরী (রহঃ) (ওফাত ৯৭০ হিঃ) বলেন-

تراويح শব্দটি ترويحة শব্দের বহুবচন । এর মাসদার হচ্ছে الاستراحة যার অর্থ বিশ্রাম গ্রহন করা । প্রতি চার রাকাতের পর লোকেরা কিছু সময় বসার মাধ্যমে বিশ্রাম গহণ করত বলেই তাকে তারাবীহ নামকরন করা হয় । পরবর্তীতে রুপকভাবে চার রাকাতকেই এক তারাবীহা বলা । মুসান্নিফ ইহাকে সুন্নাত হিসাবে সাব্যস্ত করেছেন এবং হিদায়ার লেখক এটাকে বিশুদ্ধ বলেছেন । "খুলাসাহ" গ্রন্থে বর্নিত আছে- তারাবীহ সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ তবে কেউ কেউ মতবিরোধ করেছে । ইমাম আবু ইউসুফ (রহঃ) তারাবীহ সম্পর্কে ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) কে জিজ্ঞেস করলে তিনি সুন্নাত হিসেবে সাব্যস্ত করেন । এবং তিনি বলেন হযরত ওমর (রাঃ) যে পদ্ধতি চালু করেছেন তাতে তিনি বিদ'আতী নন ।

— ইবনে নুযাইম আল মিসরী (রহঃ) (ওফাত ৯৭০ হিঃ) আল বাহরুর রায়েক শারহু কানযুদ দাকায়েক (বৈরুত, দারুল কুতুবুল ইলমীয়া প্রথম প্রকাশ ১৯৯৭ ৪র্থ খন্ড পৃঃ ৩১২

পরিভাষায়

মাহে রমদ্বানের রাতে ইশার নামাজের পর (জামাতবদ্ধ হয়ে) যে সুন্নাত নামায পড়া হয়, তাকে تراويح বলে । যখন থেকে সাহাবায়ে কিরাম এ নামায সম্মিলিতভাবে আদায় করতে শুরু করেন, তখন থেকেই তারা প্রতি দু'সালাতের (অর্থাৎ চার রাকায়াতের) পর বিশ্রাম গহণ করতেন, তাই এ নামাযকে সালাতুত তারাবীহ বলা হয় ।

কেউ কেউ বলেন- তারাবীহ নামাযের মাধ্যমে মুমিন বান্দা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে চির সুখের আবাসন জান্নাত লাভের সৌভাগ্য অর্জনে সমর্থ হয় তাই একে তারাবীহ নামকরন করা হয়েছে ।[1]

ফায়েদাহঃ

تراويح তারাবীহ শব্দটি বুঝাচ্ছে এই নামাযের রাকাত সংখ্যা ৮ নয়, ৮ এর অধিক । কেননা تراويح শব্দটি বহুবচন । আরবী ভাষায় একবচন দ্বিবচন এরপর বহুবচন । এজন্য তিন বা ততোধিক বুঝাতে বহুবচন ব্যবহৃত হয় । তাহলে অন্ততঃ তিন ترويحة হলে ভাষাগত দিক থেকে একে ترويحة বলা যায় । তাহলে চার রাকাত = এক তারাবীহা (...), আট রাকাত = দুই তারাবীহা, আর বারো বা ততোধিক রাকাত = ৩ তারাবীহা ।

তথ্যসূত্র

  1. ইবনু হাজার আসকালানী (রহঃ), আহমাদ ইবনু আলী (৮৫২ হিঃ), ফাতহুল বারী, (বৈরুত, দারুল মারিফা), খন্ড ৪, পৃঃ ২৫০ কামূসুল ফিকহী লুগাতান ওয়া ইসতিলাহান
  • রোযা ও তারাবীহ (ফাযায়িল ও মাসাইল) (লেখকঃ মুফতি মাওলানা মুহাম্মদ ওসমান গনি সালেহী)