তাহাজ্জুদ নামাজের রাকাআত সংখ্যা - হাদীসের আলোকে

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search

তাহাজ্জুদ নামাজ সর্বনিম্ন চার রাকাআত এবং সর্বোচ্চ বারো রাকাআত পড়ার নিয়ম

দলিল ১

হযরত আবূ সালমা বিন আবদির রহমান (রাদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু) হতে বর্ণিত; তিনি বলেন: আমি মা আয়েশা (আলাইহিস সালাম)-কে জিজ্ঞেস করলাম, রমযান মাসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামায কেমন ছিল? তিনি জবাবে বলেন, “আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান, বা অন্যান্য মাসে কখনোই এগারো রাকআতের বেশি নামায পড়েন নি; তিনি চার রাকআত পড়তেন, সেগুলোর সৌন্দর্য ও দৈর্ঘ্য সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞেস করো না; অতঃপর চার রাকআত পড়তেন, সেগুলোর সৌন্দর্য ও দৈর্ঘ্য সম্পর্কেও আমাকে প্রশ্ন করো না; এবং এরপর তিনি তিন রাকআত নামায পড়তেন।” মা আয়েশা (আলাইহিস সালাম) আরও বলেন, “আমি বল্লাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! বেতরের নামায পড়ার আগে কি আপনি ঘুমোন? তিনি উত্তরে বলেন, ’ওহে আয়েশা! আমার চোখ ঘুমোয়, কিন্তু আমার অন্তর (কলব্) জাগ্রত থাকে’।”

— সহীহ বোখারী, তাহাজ্জুদ-বিষয়ক বই, ২য় খণ্ড, ২১তম বই, হাদীস নং ২৪৮

উপরে উল্লেখিত হাদিসে আট রাকাআত তাহাজ্জুদ এবং তিন রাকাআত বিতর প্রমানিত হয় ।

দলিল ২

হযরত আয়েশা (আলাইহিস সালাম) হতে বর্ণিত; তিনি বলেন: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের নামাযে তেরো রাকআত পড়তেন এবং ফজরের নামাযের আযান শোনার পর তিনি দুই রাকআত (হাল্কা, দীর্ঘ নয়) নামায আদায় করতেন।

— সহীহ বোখারী, ২য় খণ্ড, ২১তম বই, হাদীস নং ২৬১

এই হাদীস প্রমাণ করে তাহাজ্জুদ (বেতর ছাড়াই) অন্ততপক্ষে ১০-১২ রাকআত-বিশিষ্ট নামায।

দলিল ৩

মাসরুখ (রাদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু) বর্ণনা করেন, আমি মা আয়েশা (আলাইহিস সালাম)-কে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রাতের নামায সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, “ফজরের দুই রাকআত (অর্থাৎ সুন্নাহ) ছাড়াও ওই নামায ছিল সাত, নয় বা এগারো রাকআত-বিশিষ্ট।”

— সহীহ বোখারী, ২য় খণ্ড, ২১তম বই, হাদীস নং ২৪০

এটিও হযরত আয়েশা (আলাইহিস সালাম)-এর হাদীসে ‘এদতেরাব’ প্রমাণ করে (মানে সাত, নয়, নাকি এগারো তা স্থিরকৃত নয়);

দলিল ৪

হযরত আয়েশা (আলাইহিস সালাম) থেকে বর্ণিত যে, রাতে রাসূলে খোদা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদায়কৃত নামাযে রাকআত সংখ্যা ছিল দশ। তিনি বিতরের নামায এবং ফজরের দুই রাকআত (সুন্নাত) নামাযও আদায় করতেন। আর এর যোগফল হচ্ছে তেরো রাকআত।

— সহীহ মুসলিম, ৪র্থ বই, হাদীস নং ১৬১১

দলিল ৫

আবূ জামরা (রাদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু) বর্ণনা করেন: আমি হযরত ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু)-কে বলতে শুনেছি যে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে তেরো রাকআত নামায পড়তেন।

— সহীহ মুসলিম, ৪র্থ বই, হাদীস নং ১৬৮৬

দলিল ৬

হযরত যায়দ বিন খালেদ আল-জুহানী (রহ:) বলেন: ”নিশ্চয় আমি মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক আদায়কৃত রাতের নামায প্রত্যক্ষ করতাম। তিনি প্রথমে সংক্ষিপ্ত দুই রাকআত নামায পড়তেন; অতঃপর দীর্ঘ, অতি দীর্ঘ দুই রাকআত পড়তেন; এর পরের দুই রাকআত পূর্ববর্তী দুই রাকআতের চেয়ে সংক্ষিপ্ত ছিল; পরবর্তী যে দুই রাকআত পড়তেন, তা আরও সংক্ষিপ্ত; তৎপরবর্তী দুই রাকআত আরও সংক্ষিপ্ত; এর পরে আরও দুই রাকআত পড়তেন যা আরও সংক্ষিপ্ত ছিল। অতঃপর তিনি একটি রাকআত পড়তেন, যা সর্বসাকুল্যে তেরো রাকআত নামায হতো।”

— সহীহ মুসলিম, ৪র্থ বই, হাদীস নং ১৬৮৭

তথ্যসূত্র