এই সুন্নিপিডিয়া ওয়েবসাইট পরিচালনা ও উন্নয়নে আল্লাহর ওয়াস্তে দান করুন
বিকাশ নম্বর ০১৯৬০০৮৮২৩৪

ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) * কারবালার ইতিহাস * পিস টিভি * মিলাদ * মাযহাব * ইলমে গায়েব * প্রশ্ন করুন

বই ডাউনলোড

নফল রোযা

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
  • মাসআলাঃ

নফল রোযার জন্য যদি এই নিয়্যত করে যে, ”আল্লাহ্‌র নামে একটা নফল রোযা রাখিব”, তাহাও দুরুস্ত আছে এবং যদি এইরূপ নিয়্যত করে যে, ’আমি আল্লাহ্‌র নামে একটি রোযা রাখিব’ তাহাও দুরুস্ত আছে।

  • মাসআলাঃ

বেলা দ্বিপ্রহরের এক ঘন্টা পূর্ব পর্যন্ত নফল রোযার নিয়্যত করা দুরুস্ত আছে। অতএব কাহারও যদি বেলা ১০টা পর্যন্ত রোযা রাখার ইচ্ছা ছিল না, কিন্তু এখনও কিছু পানাহার করে নাই, তারপর রোযা রাখার ইচ্ছা হইল, তবে ঐ সময় রোযার নিয়্যত করিলেও নফল রোযা দুরুস্ত হইয়া যাইবে।

  • মাসআলাঃ

সারা বৎসরে মাত্র পাঁচ দিন রোযা রাখা দুরুস্ত নহে। দুই ঈদের দিন এবং কুরবানীর ঈদের পরে ১১, ১২এবং ১৩ই যিলহজ্জ, মোট এই পাঁচ দিন রোযা রাখা হারাম, তাহা ছাড়া নফল রোযা যে কোন দিন রাখা যায় এবং নফল রোযা যত বেশী রাখা যাইবে তত বেশী সওয়াব পাওয়া যাইবে।

  • মাসআলাঃ

যদি কেহ ঈদের দিনে রোযা রাখার মান্নত করে, তবুও ঈদের দিন রোযা দুরুস্ত নহে। তৎপরিবর্তে অন্য একদিন রোযা রাখিয়া মান্নত পুরা করিতে হইবে।

  • মাসআলাঃ

যদি কেহ এইরূপ মান্নত করে যে, ‘আমি সারা বৎসর রোযা রাখিব, একদিনের রোযাও ছাড়িব না’ তবু এই পাঁচ দিন রোযা রাখিবে না ।এই পাঁচ দিন রোযা না রাখিয়া তাহার পরিবর্তে অন্য পাঁচ দিন রোযা রাখিতে হইবে।

  • মাসআলাঃ

নফল রোযার নিয়্যত করিয়া লইলে সে রোযা পুরা করা ওয়াজিব হইয়া যায়।অতএব, যদি কেহ স্কালে নফল রোযার নিয়্যত করিয়া পরে ঐ রোযা ভাঙ্গিয়া ফেলে। তবে তাহার ঐ রোযার ক্বাযা করা ওয়াহিব হইবে।

  • মাসআলাঃ

কেহ রাত্রে রোযা রাখার করিয়াছিল, ‘আমি আগামিকাল রোযা রাখিব’, কিন্তু ছোব্‌হে ছাদেক হওয়ার পূর্বেই নিয়্যত বদলিয়া গেল এবং রোযা রাখিল না, তবে তাহার ক্বাযা ওয়াজিব হইবে না।(তবে ছোব্‌হে ছাদেক হওয়ার পর যদি বদলায়, তবে ক্বাযা ওয়াজিব হইবে।)

  • মাসআলাঃ

স্ত্রীর জন্য স্বামী বাড়ীতে থাকিলে স্বামীর বিনা অনুমতিতে নফল রোযা রাখা দুরুস্ত নহে। এমন কি, যদি স্বামীর বিনা অনুমতিতে নফল রোযার নিয়্যত করে এবং পরে স্বামী রোযা ভাঙ্গিয়া ফেলার আদেশ করে, তবে রোযা ভাঙ্গিয়া ফেলা দুরুস্ত আছে, কিন্তু পরে স্বামীর অনুমতি লইয়া তাহার ক্বাযা করিতে হইবে।

  • মাসআলাঃ

মেহ্‌মান বা মেযবান(মেহ্‌মান অতিথি, মেযবান বাড়ীওয়ালা) যদি একে অন্যের সঙ্গে না খাওয়াতে মনে কষ্ট পায়, তবে নফল রোযা ছাড়িয়া দেয়া দুরুস্ত আছে, কিন্তু ঐ রোযা র পরিবর্তে আর একটা রোযা রাখিতে হইবে।

  • মাসআলাঃ

কেহ ঈদের দিন নফল রোযা রাখিল এবং নিয়্যতও করিল, তবুও সেই রোযা ছাড়িয়া দিবে, উহার ক্বাযা করাও ওয়াজিব হইবে না।

  • মাসআলাঃ

মহর্‌রম মাসের ১০ই তারিখ রোযা রাখ মুস্তাহাব। হাদীস শরীফে আছে, যে কেহ মহর্‌রম মাসের ১০ই তারিখে একটি রোযা রাখিবে তাহার বিগত এক বৎসরের (ছগীরা) গোনাহ্‌ মা’ফ হইয়া যাইবে।(কিন্তু শুধু ১০ই তারিখে একটি রো্যা মাকরুহ্‌। কাজেই তাহার সঙ্গে ৯ই তারিখ অথবা ১১ই তারিখ রোযা রাখিবে।)

  • মাসআলাঃ

এইরূপ হজ্জের চাঁদের ৯ই তারিখে রোযা রাখাও বড় সওয়াব।(হাদীস শরীফে আছে) যে ব্যক্তি হজ্জের চাঁদের ৯ই তারিখে এই রোযা রাখিবে তাহার বিগত এবং আগামী বৎসরের (ছগীরা) গোনাহ্‌ মা’ফ হইয়া যাইবে।(মহর্‌রমের আশুরার তারিখে একটি রো্যা মাকরুহ্‌, কিন্তু এখানে একটি রো্যা রাখা মাকরুহ্‌ নহে।) তবে শুরু চাঁদ হইতে ৯ই যিলহজ্জ পর্যন্ত রোযা রাখা উত্তম।(এইরুপে মহর্‌রমের চাঁদের শুরু হইতে ১০টি রোযা রাখা অতি উত্তম।)

  • মাসআলাঃ

শা’বানের চাঁদের ১৫ই তারিখে রোযা রাখা এবং শাওয়ালের চাঁদের ঈদের দিন বাদ দিয়া ছয়টি রোযা রাখা অন্যান্য নফল রোযা অপেক্ষ্ম অধিক সওয়াব(রজবের চাঁদের ২৭শে তারিখ রোযা রাখাও মুস্তাহাব।)

  • মাসআলাঃ

যে ব্যক্তি প্রত্যক চাঁদের ১৩ই, ১৪ই এবং ১৫ই তারিখে আইয়ামে বীযের তিনটি রোযা রাখিল, সে যেন সারা বৎসর রোযা রাখিল। হযরত নবী আলাইহিস্‌সালাম এই তিনটি রোযা রাখিতেন এবং প্রত্যেক সোমবার এবং বৃহস্পতিবার রোযা রাখিতেন। যদি কেহ এইসব রোযা রাখে, তবে তাহাতে অনেক সওয়াব আছে। (না রাখিলে কোন গোনাহ্‌ নাই।)

তথ্যসূত্র

  • বেহেস্তী জেওর (লেখকঃ মাওলানা আশরাফ আলী থানবী (রহঃ))