নবী করিম (দঃ) এর পিতা-মাতার নতুন করে ইসলাম গ্রহণ

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
মুহাম্মাদ (সঃ) এর বিস্তারিত জীবনী






  • নবী করিম (দঃ) এর পিতা-মাতার নতুন করে ইসলাম গ্রহণ












নবী করিম (দঃ)-এর পিতা-মাতা হুযুরের নবুয়তের যুগ পাননি। কিন্তু তাঁরা ছিলেন মিল্লাতে ইব্রাহীমীর উপর প্রতিষ্ঠিত একেশ্বরবাদী হানিফ সম্প্রদায়ভুক্ত মোমেন। তাঁদের মতো আরবে আরও কিছু লোক হানিফ সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন। যেমন-আবদুল মোত্তালেব, ওয়ারাকা ইবনে নওফেল, হযরত খাদিজা ও হযরত আবু বকর প্রমুখ। যাঁরা নবুয়ত যুগের পূর্বে ইনতিকাল করেছেন, তাঁদেরকে আসহাবে ফাৎরাত বলা হয়। তাঁরা ছিলেন তৌহিদবাদী হানিফ। নবী করিম (দঃ)-এর পিতা হযরত আবদুল্লাহ এবং মাতা বিবি আমেনাও ছিলেন অনুরূপ তৌহিদপন্থী মোমেন।

যখন নবী করিম (দঃ)-জীবনের শেষ প্রান্তে এসে ১০ম হিজরীতে এক লাখ চব্বিশ হাজার সাহাবায়ে কেরামকে নিয়ে মক্কা শরীফে হজ্ব করতে আসেন, তখন একদিন বিবি আয়েশা (রাঃ) কে সাথে নিয়ে জান্নাতুল মায়াল্লাতে বিবি খাদিজা (রাঃ)-এর মাযার যিয়ারত করতে গেলেন (তখন নাম ছিল হাজুন)। হযরত আয়েশা (রাঃ)-গাধার লাগাম ধরে বাইরে দাঁড়িয়ে রইলেন। নবী করিম (দঃ) যিয়ারতকালে প্রথমে খুব কাঁদলেন-পরে হাসলেন। হযরত আয়েশা (রাঃ) কারণ জানতে চাইলে হুযুর আকরাম (দঃ) বললেন-

আমার পিতা-মাতাকে আল্লাহ্ পাক পুনঃজীবিত করে আমার সামনে হাযির করেছেন। তাঁরা নতুন করে ইসলাম গ্রহণ করে পুনরায় মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি পিতা-মাতাকে দেখে খুশী হয়ে হেসেছি

— বেদায়া ও নেহায়া

ইমাম সোহায়লীর বরাত দিয়ে ইবনে কাছির এই ঘটনা বর্ণনা করেছেন। ফতোয়া শামীতে হাফেয নাসিরুদ্দীন বাগ্দাদীর বরাতে হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে একখানা হাদীস উদ্ধৃত করে আল্লামা শামী লিখেছেন-

হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন-

আল্লাহ্তায়ালা নবী করিম (দঃ)-এর সম্মানে তাঁর পিতা-মাতাকে পুনর্জীবিত করেন। তাঁরা উত্তয়ে নূতন করে ইসলাম গ্রহণ করেন। তারপরে তাঁরা পুনরায় পূর্বের ন্যায় মৃত্যুবরণ করেন। যেমন আল্লাহ্পাক হযরত ঈসা (আঃ)-এর মাধ্যমে মৃতকে জীবিত করতেন-তদ্রুপ নবীজীর খাতিরেও করেছেন

— শামী

সুতরাং আমরা এখন থেকে মুক্তকণ্ঠে বলবো-হযরত আবদুল্লাহ ও হযরত আমেনা রাদিয়াল্লাহু আন্হুমা। কেননা, তাঁরা সাহাবী হিসেবে গণ্য।

বিঃ দ্রঃ

হযরত ইবরাহীম (আঃ) ও হযরত ইসমাইল (আঃ) আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলেন-যেনো তাঁদের বংশধরদের (আরব) মধ্যে প্রত্যেক যুগেই কিছু না কিছু মুসলিম বিদ্যমান থাকে (সুরা বাকারাহ, ১২৮ আয়াত)।

রাব্বানা ওয়াজ আলনা মুসলিমাইনে লাকা ওয়া মিন জুররিয়্যাতিনা উম্মাতাম মুসলিমাতাল লাকা।

হে প্রভু! আমাদের উভয়কে তুমি তোমার অনুগত মুসলিম হিসেবে কবুল করো এবং আমাদের পরবর্তী বংশধরদের মধ্যেও (আরব দেশে) কিছু সংখ্যক লোককে অনুগত মুসলিম বানিয়ে রেখো।

এই দোয়ার বরকতেই পরবর্তী প্রত্যেক যুগেই আরবে কিছু সংখ্যক সত্যপন্থী হানিফ সম্প্রদায় বিদ্যমান ছিলেন। নবী করিম (দঃ)-এর পিতা-মাতা ও মূল পূর্বপুরুষগণ এই হানিফ সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন। তাঁদেরকে কাফের মনে করা বেদ্বীনী কাজ। ইতিহাসেও হানিফ সম্প্রদায়ের উল্লেখ রয়েছে। বাতিলপন্থীরা ইসলামের ইতিহাস সম্পর্কে বে-খবর।

তথসূত্র

  • নূরনবী (লেখকঃ অধ্যক্ষ মাওলানা এম এ জলিল (রহঃ), এম এম, প্রাক্তন ডাইরেক্তর, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ)