এই সুন্নিপিডিয়া ওয়েবসাইট পরিচালনা ও উন্নয়নে আল্লাহর ওয়াস্তে দান করুন
বিকাশ নম্বর ০১৯৬০০৮৮২৩৪

ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) * কারবালার ইতিহাস * পিস টিভি * মিলাদ * মাযহাব * ইলমে গায়েব * প্রশ্ন করুন

বই ডাউনলোড

নামাজী কোন নামাজে জান্নাতে যাবে

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search

আল্লাহ তাআ’লা কোরআন মাজীদে এরশাদ করেছেন-

মুমিনগণ সফলকাম হয়েছে, যারা তাদের নামাজে খুশু করেছে।

— ছুরা মু’মিনুন-১১)

এ আয়াতে আল্লাহ তাআ’লা ‘নামাজে খুশুকারীগণ সফলকাম হয়েছে’ বলে উল্লেখ করেছেন।

খুশু কি ?

রছূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি অছাল্লাম বিভিন্ন সময়ে ছাহাবাগণের সামনে খুশু সম্পর্কে যে সব কথা বর্ণনা করেছেন । নিচে তা উল্লেখ করা হলো-

  • হযরত আমর ইবনে দীনার থেকে বর্ণিত- খুশু হলো আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর কল্পনা মনের মধ্যে হাজির না করা এবং অঙ্গ প্রতঙ্গও স্থির রাখা অর্থাৎ এমন নড়াচড়া করা যা রছূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি অছাল্লাম নামাজে নিষেধ করেছেন।
  • হযরত মুজাহিদ হতে বর্ণিত আছে- দৃষ্টি অবনত ও আওয়াজ ক্ষীন রাখার নাম খুশু।
  • হযরত আলী রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে, ডানে বামে না তাকানোর নাম খুশু।
  • হযরত আতা থেকে বর্ণিত আছে- শরীরের কোন অংশ নিয়ে খেলা না করা খুশু।
  • হযরত আবু যর রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে-নামাজের সময় আল্লাহ তাআ’লা নামাজীর প্রতি সর্বক্ষন দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখেন যতক্ষন নামাজী অন্য দিকে খেয়াল না করে। যখন নামাজী অন্য দিকে খেয়াল করে তখন আল্লাহ তাআ’লা তার দিক থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নেন। (আহমদ, আবু দাউদ, নাছায়ী, মাজহারী ৬ষ্ঠ খন্ড -৩৬১ পৃঃ)

রছূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি অছাল্লাম এক ব্যক্তিকে নামাজের মধ্যে দাড়িতে হাত বুলাতে দেখে বললেন- এ ব্যক্তির ক্বলব অর্থাৎ মনে খুশু থাকলে তার শরীরেও তা থাকতো। (মাজহারী-৬ষ্ঠ-৩৬২)

হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে- রছূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি অছাল্লাম বলেছেন- আমি আল্লাহর নিকট নেফাকের খুশু থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। ছাহাবাগণ বললেন- হে আল্লাহর রাছুল ! নেফাকের খুশু কি ? রছূলু ল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি অছাল্লাম বললেন - শরীরে নম্র ও বিনয় ভাব থাকে কিন্তু ক্বলব নেফাকী করে অর্থাৎ মন আল্লাহর প্রতি বিনয়ী হয়না।

— মাজহারী ৬ষ্ঠ ৩৬৩ পৃঃ

হযরত ওবাদা ইবনে ছামেত রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে, আমি রছূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি অছাল্লামকে বলতে শুনেছি যে-

আল্লাহ তাআ’লা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন। এরপর যে ব্যক্তি উত্তমরূপে অজু করলো, সময় মত নামাজ পড়লো, রুকু ও সিজদা পুরাপুরি আদায় করলো এবং নামাজের মধ্যে খুশু পুরা করলো ঐ ব্যক্তির উপর আল্লাহর ওয়াদা যে, তাকে মাফ করে দেবেন।

— ইমাম মালেক, আবু দাউদ, নাছায়ী ও ইবনে হাব্বান -আততারগীব ১ম - ২৫৭ পৃঃ

রছূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি অছাল্লাম বলেন -

যে ব্যক্তি অজু করলো- যেভাবে হুকুম করা হয়েছে এবং নামাজও আদায় করলো যেভাবে হুকুম করা হয়েছে তার পূর্বের সকল গোনাহ মাফ করা হবে

— নাছায়ী, ইবনো মাজা, আততারগীব ১ম -২৫৩ পৃঃ

রছূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি অছাল্লাম বলেন-

‘যে ব্যক্তি যেভাবে অজু করতে বলা হয়েছে সেভাবে অজু করলো এবং যেভাবে নামাজ পড়ার হুকুম করা হয়েছে সেভাবে নামাজ পড়লো। যখন সে দাঁড়ায় এবং নামাজ পড়ে এবং আল্লাহর প্রশংসা করে, তার প্রতি ছানা পাঠ করে এবং তার মর্যাদা বর্ণনা করে যে মর্যাদার তিনি অধিকারী এবং তার ক্বলব বা মনকে আল্লাহর জন্য খালি করে দেয় অর্থাৎ আল্লাহর চিন্তা ব্যতীত অন্য কোন চিন্তা না করে তখন আল্লাহ তার গোনাহগুলো মুছে দেন। যেমন সে ভুমিষ্ট হওয়ার দিনে গোনাহশূন্য ছিল।

— মুছলিম এ হাদীছ রেওয়ায়েত করেছেন। আততারগীব ১ম - ২৫৩ ও ১৫৪ পৃঃ

রছূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি অছাল্লাম বলেন-

যে ব্যক্তি অজু করলো সে তার অজুকে উত্তমভাবে আদায় করলো এরপর সে এমনভাবে দু’রাকাত নামাজ আদায় করলো যার কোন রাকাতে কোন ভুল ভ্রান্তি নেই তার পূর্বের সকল গোনাহ মাফ করে দেয়া হবে।

— আবু দাউদ, আততারগীব ১ম -২৫২ পৃঃ

রছূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি অছাল্লাম বলেন-

তোমাদের মধ্যে যে কেউ অজু করলো এমনকি তার অজুকে উত্তমরূপে আদায় করলো এরপর এমন দু’রাকাত নামাজ আদায় করলো যার দু’রাকাতেই তার ক্বলব ও চেহারাকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে রাখলো তার জন্য জান্নাত ওয়াজেব করে দেবেন।

— আবু দাউদ,আততারগীব ১ম-২৫২

রছূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি অছাল্লাম বলেন-

যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের হেফাজাত করলো, তার রুকু ছেজদা সকল পুরাপুরি আদায় করলো, ওয়াক্তের প্রতি লক্ষ্য রাখলো এবং এও জানলো যে, এ সকল আল্লাহ তাআ’লার নিকট থেকে সত্যভাবে এসেছে, সে জান্নাতে যাবে ।

— আহমদ, আততারগীব ১ম - ২৪৭ পৃঃ


তথ্যসূত্র

  • নামাজ প্রশিক্ষণ