নামাজের পর দোয়া বর্জন কঠোর শাস্তিযোগ্য অন্যায় কি না ?

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
উত্তরঃ

কওকাবুদ্দুররী গ্রন্থকার মওলানা মুহাম্মদ ইয়াহ্‌ইয়া কান্দলবী (রঃ)তার উক্ত গ্রন্থে লিখেন কুরআন মজীদের ‘উদউনি আস্‌তাজীব লাকুম’ (সুরা মোমেন) আয়াত দ্বারা শরীয়াতের সমস্ত বিধানকে শামিল করা হয়েছে। তাই প্রকাশ্য কোন দোয়া বা কোন এবাদতের দোয়া হলেও তাও এ ঘোষণার মধ্যে শামিল। সুতরাং দোয়ার অর্থই কাকুতি, মিনতি, দীনতা, হীনতা ও বিনয়ের সাথে রবকে ডাকা, প্রার্থনা করা। নামজের বা ছালাতের মধ্যে আল্লাহর স্মরণ করা ও তাঁকে ডাকা প্রার্থনা করা । নামাজের পরে বা বাহিরেও যে সব দোয়া হয় তাতে হাত উঠানো ও দোয়া শেষে মুখমন্ডলে হাত মুছা হচ্ছে দোয়ার আদব, বিনয় নম্রতার সাথে প্রার্থনা করা। ফরজ নামাজে যেমন বান্দা তেলাওয়াত করে, দরুদপড়ে জিকির করে, তাছবীহ্‌ পড়ে দোয়া করে তেমনি নামাজের পরে বা নামাজের বাইরে বা ফরজ নামাজের পরে আরো বেশী তেলাওয়াত দরুদ শরীফ, জিকির, তাছবীহ, দোয়া-প্রার্থনা মুনাজাত করবে। ইহাই নামাজের শিক্ষা, শুধু নির্দিষ্ট সময় নয় অথবা বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে সীমাবন্ধ নয়।

তাই দোয়া প্রার্থনা করার নির্দেশটি পালন করা একান্ত অপরিহার্য্য। তাই দোয়া করা হতে বিরত থাকার অর্থ হচ্ছে ইসলামের ঐতিহ্যময় নিয়ম ও প্রথাকে অস্বীকার করা। সুতরাং এরূপ করা নিসন্দেহে অহংকারীদের শাস্তিযোগ্য অপরাধ, তবে যে সব সমপ্রদায় গাফলাতি ও উদাসীনতার ও মুর্খতার জালে আবদ্দ এবং যাদের কলব(অন্তর)কঠিন হয়েছে তাদের কেউ-ই কুরআনের উক্ত আয়াতের নির্দেশমাফিক বিধান পালন করছেনা।

আয়াতে যে দোয়া করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে তা করার ক্ষমতা থাকা স্বত্বেও নিজের রিয়া অহংকারের কারণে এবং নিজেকে বহুত জাননেওয়ালা হিসাবে সমাজে প্রকাশ করার জন্য নামাজের পর সবিনয় দোয়াকে পরিত্যাগ করে। অতএব এ সময় আমাদের কর্তব্য হচ্ছে আদব রক্ষা সহ বিনয় নম্রতার সাথে কাকুতি মিনতি সহ দোয়া করা প্রয়োজন।

এজন্যই যারা নামাজের পর রিয়া অহংকারের সাথে দোয়াকে বর্জন করে চলে তাদেরকে কঠোর শাস্তি প্রদান করা উচিত। দোয়া না করাই বেয়াদবী, দোয়া বর্জনে কোন প্রকার মাজুর (শরীয়াতে দোয়া করা গোনাহ্‌ এমন কারণ) ভাবাউচিত নয়।(কাওকাবুদ্দুররী ২য় খন্ড, পৃ- ২৯১)[1]

তথ্যসূত্র

  1. প্রশ্নোত্তরে দোয়ার আহ্‌কাম (লেখকঃ মাওলানা মুহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম, এম, এম) (ক্রয় ০১১৯৯৪৩৫৭৩৮)