নারীর জন্য আযান-ইকামত নেই

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search

সালাতের কার্যাদি শুরু করার প্রাথমিক ধাপ আযান দেওয়া । এ প্রসঙ্গে অসংখ্য হাদীস শরীফ বর্নিত হয়েছে । তন্মধ্যে দু-একটি উল্লেখ করছি । ইমাম বুখারী (রহঃ) বর্ননা করেন, নবী করিম (সঃ) বলেন

যখন সালাতের সময় উপস্থিত হবে তখন তোমাদের একজন আযান দিবে এবং তোমাদের মাঝের বড়জন ইমামতি করবে ।

— সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬২৮

ইমাম আহমাদ (রহঃ) বর্ননা করেন- নবীজি (সঃ) বলেন

কোন গ্রামে তিনজন থাকাকালে আযান ও জামা’আত অনুষ্ঠিত না হলে শয়তান তাঁদের উপর বিজয়ী হয় ।

— আহমদ ,হাদিস নং ২১৭১০, সকল ইমামের মতে হাদিসখানা গ্রহনযোগ্য । লা-মাযহাবীদের মান্যবর মুহাদ্দিস শুয়াইব আল আরনাউত এ হাদীসকে হাসান(উত্তম) বলেছেন

অনুরুপভাবে যুদ্ধের সময় কোন গ্রামে যদি আযান শুনা না যায় তবে তাঁদের উপর আক্রমন করারা নির্দেশ নবীজি (সঃ) করেছেন । এক কথায় আযানের ব্যাপারে এত কঠোরতা আরোপ করা হয়েছে যে, ইমাম মাওয়ারদী (রহঃ) প্রমুখ তাবেঈ হযরত মুজাহিদ (রহঃ) হতে বর্ননা করেন, আযান ও ইকামত উভয়ই ওয়াজিব । একটি অপরটির স্থলাভিসিক্ত হতে পারে না । তাই আযান ইকামতের কোন একটি বাদ দিলে তার সালাত নষ্ট হয়ে যাবে ।[1]

সালাতের জন্য আযানের ব্যাপারে এ কঠোর নির্দেশ কি মহিলা পুরুষ সকলের জন্য ? যে সকল সালাফী দাবীদার ভাইয়েরা মহিলা পুরুষের সালাতকে অভিন্ন বলে ফতোয়া দিচ্ছেন তারা কি মহিলাদেরকে আযান দেওয়ার নির্দেশ দিবেন ? নাকি নবীজি (সঃ) কোন মহিলাকে মুয়াযযিন বানিয়ে ছিলেন ? দুনিয়ার ইতিহাসে এরকম দৃষ্টান্ত রয়েছে ? বরং ইমাম বায়হাকী (রহঃ) সহীহ্‌ সনদে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ননা করেন নবীজী (সঃ) বলেছেন

মহিলাদের উপর আযান ও ইকামত কোনটিই নেই ।

— সুনানে কুবরা, হাদীস নং ১৯২০, কাজী শাওকানী হাদীসখানাকে সহিহ বলেছেন [2]

আরো সহিহ হাদীসে রয়েছে

মহিলাগন অষ্পষ্টভাষী ও আচ্ছাদিত থাকার বস্ত । সুতরাং তোমরা তাঁদের অস্পষ্টতাকে চুপ থাকার দ্বারা এবং ঘরে থাকার দ্বারা তাদের গোপনীয়তাকে রক্ষা কর ।

— তারতীবুল আমালী , হাদিস নং ২০১

তথ্যসূত্র

  1. লা-মাযহাবী ইমাম কাজী শাওকানী কৃত নাইলুল আওতার -২/৩৮৭
  2. নাইলুল আওতার ২/৩৯