নূর

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search

নূর শব্দের আভিধানিক অর্থ আলো, চাকচিক্য ও উজ্জ্বল । তবে কোন কোন সময় উহাকেও নূর বলা হয় যদ্বারা আলোকিত করা হয় । এ অর্থে সূর্যকেও নূর বলা যায় । বিদ্যুৎ, চেরাগ ও লাইটকেও নূর বলা হয়ে থাকে ।

প্রকারভেদ

নূর দু’ধরনের হতে পারে ।

  1. ইন্দ্রিয় গ্রাহ্য (হিচ্ছি) এবং
  2. ইন্দ্র অগ্রাহ্য বা বিবেক গ্রাহ্য (আকলী) ।

ইন্দ্রিয় গ্রাহ্য

‘ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য’ হল যা চোখে দেখা যায় । যেমন- সূর্যের কিরণ, চেরাগ, বিদ্যুৎ ইত্যাদির আলো ।

বিবেকগ্রাহ্য

‘বিবেকগ্রাহ্য’ হল যাকে চক্ষু বা দৃষ্টিশক্তি অনুভব করতে পারে না । তবে বিবেক বলে দিতে পারে যে ইহা ‘নূর’ বা ‘আলো’ । এ অর্থেই ইসলাম, কোরআন এবং জ্ঞানকে আলো বলা হয় । এক্ষেত্রে নিমোক্ত আয়াতসমূহ উল্লেখযোগ্য-

(১) আল্লাহ্‌ মুমিনদের সাহায্যকারী, তিনি তাঁদেরকে অন্ধকার হতে আলোর দিকে নিয়ে যান ।

এ আয়াতে পথভ্রষ্টতাকে অন্ধকার এবং হেদায়তকে আলো এবং নূর বলা হয়েছে ।

(২) এবং আমি তোমাদের নিকট স্পষ্ট ‘নূর’ অবতীর্ন করেছি ।

(৩) আল্লাহ্‌র ‘নূর’ এর উদাহরণ ঐ চেরাগদানের মতো যার মধ্যে চেরাগ রয়েছে ।

এ আয়াতে রাব্বুল আলামীন স্বীয় স্বত্বাকে অথবা বিশ্বনবী (সঃ) কে ‘নূর’ আখ্যা দিয়েছেন ।

(৪) আর যে ব্যক্তি মৃত ছিল আমি তাঁকে জীবন দান করেছি এবং তার জন্য ‘নূর’ বানিয়েছি যাতে সে মানুষের মধ্যে চলতে পারে ।

(৫) অতঃপর যার বক্ষকে আল্লাহ্‌ ইসলামের জন্য খুলে দিয়েছেন সে তার প্রভুর পক্ষ থেকে আলোর মধ্যে রয়েছে ।

(৬) হে আমাদের প্রভু ! আমাদের ‘নূর’ পূর্ন করে দাও । এবং আমাদের গুনাহ মাফ করে দাও ।

(৭) আর আমি তাওরাত অবতীর্ন করেছি, এতে রয়েছ হেদায়াত এবং ‘নূর’।

ইমাম শাফেয়ী (রহঃ) বলেন-

নিশ্চয়ই ‘জ্ঞান’ আল্লাহ্‌র নূর । আর উক্ত নূর কোন পাপীকে দেয়া হয় না ।