এই সুন্নিপিডিয়া ওয়েবসাইট পরিচালনা ও উন্নয়নে আল্লাহর ওয়াস্তে দান করুন
বিকাশ নম্বর ০১৯৬০০৮৮২৩৪

ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) * কারবালার ইতিহাস * পিস টিভি * মিলাদ * মাযহাব * ইলমে গায়েব * প্রশ্ন করুন

বই ডাউনলোড

নূরের দেহ মোবারকের সমর্থনে দলিল

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
মুহাম্মাদ (সঃ) এর বিস্তারিত জীবনী


  • নূরের দেহ মোবারকের সমর্থনে দলিল
















এবার আমরা নূরের দেহের পক্ষের কিছু রেওয়ায়াত পেশ করে প্রমাণ করবো নবী করিম (দঃ)-এর দেহ মোবারকও নূরের তৈরি ছিল। যথা-

(১) যারকানী শরীফ ৪র্থ খণ্ড ২২০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে 

সূর্য চন্দ্রের আলোতে নবী করিম (দঃ)-এর দেহ মোবারকের ছায়া পড়তোনা। কেননা, তিনি ছিলেন আপাদমস্তক নূর

— যারকানী

(২) ইমাম কাযী আয়ায (রহঃ) শিফা শরীফের ১ম খণ্ড ২৪২ পৃষ্ঠায় লিখেনঃ

নূরের দলীল হিসেবে ছায়াহীন দেহের যে রেওয়ায়াতটি পেশ করা হয়, তা হচ্ছে-

দিনের সূর্যের আলো কিংবা রাতের চাঁদের আলো- কোনটিতেই হুযুরের (দঃ) দেহ মোবারকের ছায়া পড়তোনা। কারণ তিনি ছিলেন আপাদমস্তক নূর ।

— শিফা শরীফ

(৩) আশ্রাফ আলী থানবী সাহেব তার 'শুকরুন্ নে'মাতি বিযিক্রি রাহমাতি' গ্রন্থের ৩৯ পৃষ্ঠায় স্বীকার করেছেন-

একথা সর্বজন স্বীকৃত ও প্রসিদ্ধ যে, আমাদের হুযুর (দঃ)-এর দেহের ছায়া ছিল না। কেননা আমাদের হুযুর (দঃ) মাথা মোবারক হতে পা মোবারক পর্যন্ত শুধু নূর আর নূর ছিলেন।

— শোকরে নে'মত

(৪) ইমাম ইবনে হাজর হায়তামী (রহঃ) আন-নে'মাতুল কোবরা গ্রন্থের ৪১ পৃষ্ঠায় হাদীস লিখেন 

হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত- তিনি বলেন, আমি রাত্রে বাতির আলোতে বসে নবী করিম (দঃ)-এর কাপড় মোবারক সেলাই করছিলাম। এমন সময় প্রদীপটি (কোন কারণে) নিভে গেল এবং আমি সুঁচটি হারিয়ে ফেললাম। এর পরপরই নবী করিম (দঃ) অন্ধকারে আমার ঘরে প্রবেশ করলেন। তাঁর চেহারা মোবারকের নূরের জ্যোতিতে আমার অন্ধকার ঘর আলোময় হয়ে গেল এবং আমি (ঐ আলোতেই) আমার হারানো সুঁচটি খুঁজে পেলাম।

সোবহানাল্লাহ। মা আয়েশা (রাঃ) বলেন, নূরের চেহারা-আর তারা বলে মাটির চেহারা। নাউযুবিল্লাহ!

(৫) মাওলানা আবদুল আউয়াল জৌনপুরী সাহেব তাঁর গ্রন্থে লিখেছেন-

নবী করিম (দঃ) মায়ের গর্ভেই যে নূর ছিলেন- এর দলীল হচ্ছে যাকারিয়ার বর্ণিত হাদীস-নবী করিম (দঃ) নয় মাস মাতৃগর্ভে ছিলেন, এ সময়ে বিবি আমেনা (রাঃ) কোনো ব্যথা বেদনা অনুভব করেননি বা বায়ু আক্রান্ত হননি এবং গর্ভবতী অন্যান্য মহিলার মতো কোনো আলামতও তাঁর ছিলনা। হুযুর (দঃ)-এর দেহ যে মাতৃগর্ভে নূর ছিল-ইহাই তার প্রমাণ।

(৬) মিশকাত শরীফে নবী করিম (দঃ) এরশাদ করেছেন-

আমার জন্মের প্রাক্কালে তন্দ্রাবস্থায় আম্মাজান দেখেছিলেন- একটি নূর তাঁর গর্ভ হতে বের হয়ে সিরিয়ার প্রাসাদসমূহ পর্যন্ত আলোকিত করেছে। আমি আমার মায়ের দেখা সেই নূর।

— মিশকাত শরীফ

(৭) ইমামে আহলে সুন্নাত শাহ আহমদ রেযা খান বেরলভী (রহঃ) হাদায়েকে বখশিশ গ্রন্থের ২য় খণ্ড ৭ পৃষ্ঠায় ছন্দে লিখেন 

হে প্রিয় রাসুল! আপনিতো আল্লাহর নূরের প্রতিচ্ছবি বা ছায়া। আপনার প্রতিটি অঙ্গই এক একটি নূরের টুকরা। নূরের যেমন ছায়া হয় না, তদ্রুপ ছায়ারও প্রতিচ্ছায়া হয় না ।

কাজেই আপনারও প্রতিচ্ছায়া নেই-কেননা আপনি নূর এবং আল্লাহর নূরের ছায়া।

(৮) মকতুবাতে ইমামে রাব্বানী ৩য় জিলদ মকতুব নং ১০০তে হযরত মোজাদ্দেদ আলফেসানী (রহঃ) লিখেছেন-

হযরত রাসূল করিম (দঃ)-এর সৃষ্টি কোনো মানুষের সৃষ্টির মতো নয়। বরং নশ্বর জগতের কোনো বস্তুই হযরত নবী করিম (দঃ)-এর সাথে সামঞ্জস্যশীল নয়। কারণ, আল্লাহ তায়ালা তাঁকে স্বীয় নূর দ্বারা সৃষ্টি করেছেন।

(৯) আশ্রাফ আলী থানবী তার নশরুতত্বীব গ্রন্থের ৫ম পৃষ্ঠায় হাদীস লিখেছেন-

হে জাবের! আল্লাহ তায়ালা আপন নূরের ফয়েয বা জ্যোতি হতে তোমার নবীর নূর সৃষ্টি করেছেন।

— নশরুত ত্বীব ৫ম পৃষ্ঠা

(১০) তাফসীরে সাভী ছুরায়ে মায়েদার 'ক্বাদ জাআকুম মিনাল্লাহি নূর' আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেছেন-

আল্লাহপাক তাঁকে নূর বলে আখ্যায়িত করার কারণ হচ্ছে- তিনি সকল দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান নূর সমূহের মূল উৎস।

এছাড়াও দেহ মোবারকের প্রতিটি অঙ্গ নূর হওয়ার বহু দলীল কিতাবে উল্লেখ আছে। সুতরাং সৃষ্টির আদিতেও তিনি নূর, মায়ের গর্ভেও নূর এবং দুনিয়াতেও দেহধারী নূর- এতে কোনো সন্দেহ নেই। সে নূরকে বশরী সুরতে ও কভারে আবৃত করে রাখা হয়েছে মাত্র। যেমন, তারের কভারে বিদ্যুৎকে আবৃত করে রাখা হয়। এতসব প্রমাণ সত্ত্বেও যারা নবী করিম (দঃ)কে মাটির সৃষ্টি বলে- তাদেরকে বেদ্বীন ছাড়া আর কি-ই বলা যাবে?

তথসূত্র

  • নূরনবী (লেখকঃ অধ্যক্ষ মাওলানা এম এ জলিল (রহঃ), এম এম, প্রাক্তন ডাইরেক্তর, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ)