এই সুন্নিপিডিয়া ওয়েবসাইট পরিচালনা ও উন্নয়নে আল্লাহর ওয়াস্তে দান করুন
বিকাশ নম্বর ০১৯৬০০৮৮২৩৪

ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) * কারবালার ইতিহাস * পিস টিভি * মিলাদ * মাযহাব * ইলমে গায়েব * প্রশ্ন করুন

বই ডাউনলোড

নেকটাই পরিধান

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
নেকটাই
* নেকটাই পরিধান
* নেকটাই ক্রুশের প্রতীক

নেকটাই এর গিরাবাঁধা খৃষ্টানদের প্রতীক । মুসলমানগণকে দৈনিক পাঁচবার আল্লাহ্‌পাকের দরবারে সিজদা করিতে হয়, তাই নেকটাই এর গিরা বাঁধিয়া আল্লাহ্‌র দরবারে যাওয়া নিষিদ্ধ । অহংকারী ও শারীয়াত বিরোধী নেকটাই এর গিরা বাঁধাকে গোনাহ্‌ মনে করুক বা না করুক উভয়ই সমান । এই নেকটাই খৃষ্টানদের জঘন্য মিথ্যা প্রতীক এবং নেকটাইকে ক্রুশটাই বলা হয় । আল্লাহ্‌ পাক ঘোষনা দিয়াছেনঃ

ওয়ামা ক্বাতালুহু ওয়াদা ছালাবুহু
-অর্থাৎ ইহুদীরা ঈসা (আঃ) কে বধও করিতে পারে নাই শূলীতেও চরাইতে পারে নাই ।

— সূরা নেছা, রুকু – ৩

সুতরাং যাহারা নেকটাই পরিধান করে এবং নেকটাই এর গিরী বাঁধিয়া নামাজও পড়ে তাহারা যেন কোরআন শরীফকে মিথ্যা বলিতেছে (তাহাদের অন্তঃকরণ যতই ভাল পরিষ্কার হোক না কেন ) এবং এই জঘন্য মিথ্যা ইতিহাসকে সত্য বলিতেছে (নাউজুবিল্লাহ্‌ মিন জালিক) – বেহেশ্তী জেওর ৬ষ্ঠ খন্ড ২২৭ পৃঃ

হাদিছ শরীফে বর্নিত আছেঃ

হযরত রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলিয়াছে “নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ পাক আমাকে প্রেরণ করিয়াছেন সমস্ত জাহানের জন্য রহমত স্বরূপ এবং হেদায়েত স্বরূপ । আর আদেশ করিয়াছেন বাদ্যযন্ত্রও, মুর্তি, ক্রুশটাই (গলায় গিরা বাঁধা নেকটাই) ও জাহেলীকাজ সমূহ ধ্বংস করিবার জন্য

— বেহেস্তী জেওর ৬ষ্ঠ খন্ড, মসনদে আহ্‌মদ


হযরত ইবনে ওমর (রাঃ) হতে বর্নিতঃ হযরত রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলিয়াছেন “মান তাসাব্বাহা বে কাওমেন ফাহুয়া মিনহুম” । অর্থাৎ যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সাথে (পোশাক পরিচ্ছদে, খাওয়া দাওয়ায়, কথা বার্তায় ইত্যাদিতে) অনুকরণ ও অনুসরণ করিবে সে সেই জাতির দলভুক্ত বলিয়া গণ্য হবে এবং হাশর-নাশর তাহাদের সাথেই হইবে-

— আবু দাউদ শরীফ, মাজাহেরে হক ৫৩৬ পৃঃ

আল্লাহ্‌ পাক কুরআন শরীফে বলিয়াছেন

লা তারকানু ইলাল্লাজিনা জলাম ফাতামাচ্ছা কুমুন্নার।
অর্থাৎ হে মুসলমানগণ! যাহারা জালেম, কাফের তাহাদের দিকে ঝুঁকিও না । (অর্থাৎ যাবতীয় লেবাছ পোশাক ছুরত সীরাতের ব্যাপারে, খাদ্য খোরাক ও বিলাস ব্যাসনের ব্যাপারে তোমরা কাফের মোশ্রেক খৃষ্টানদের অনুসরণ করিও না । যদি কর তবে তোমাদিগকেও আগুন স্পর্শ করিবে )

— সূরা হুদ ১১৩ আয়াত, বেহেস্তী জেওর ৬ষ্ঠ খন্ড ২২৫ পৃঃ

এ আয়াতে লা-তারকানু শব্দের অর্থে তাবেয়ী হযরত কাযী বাইজেবী (রহঃ) বলিয়াছেন বাহ্যিক আকৃতি প্রকৃতিতে লেবাস পোশাকে চালচলনে পাপিষ্ঠ এবং ইহুদী নাসারাদের, মুশরিক বিদআতিদের অনুকরণ করিও না ।[1]

হাদিস শরিফে বর্নিত আছেঃ হযরত রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলিয়াছেন “তাছাব্বাহু বিল কুফফার” । অর্থাৎ কাফেরদের অনুসরণ-অনুকরণ করা হারাম । এই হাদীস দ্বারা তাছাব্বুহ বিল কুফফার হারাম বলে প্রমাণিত । [2] । সুতরাং টাই পরিধান করা হারাম । ইহা খৃষ্টানী ও কাদিয়ানীদের আকিদা । ইহা কোরআন হাদিসের পরিপন্থী । অতএব টাই পরিধান হতে বেঁচে থাকা প্রত্যকে নামাজী মুসলমানদের জন্য ওয়াজিব । [3]

হযরত আব্দুল হক্ক হক্কানী (রহঃ) (যিনি তাফসীরে হক্কানির লেখক) বলিয়াছেঃ হারাম (নাজায়েজ) কে হালাল (জায়েজ) মনে করা কুফুরী । যাহা গুনাহ বলিয়া অকাট্য বলিয়া প্রমাণিত আছে (কবিরা বা ছগিরা হোক) তাহাকে হালাল বলিয়া জানিলে সে কাফের হইবে । [4] । নেকটাই পরিধান করা এহেতু ইসলামী শরীয়ত মতে হারাম বলিয়া প্রমাণিত সুতরাং তাহাকে হালাল (জায়েজ) মনে করা কুফুরী হবে ।

যাহারা হেদায়েতের পথের অনুসারী, আল্লাহ্‌ ও রাসুলের (সঃ) প্রতি মোহাব্বাত রাখে এবং নেকটাই এর মত জঘন্য বিদায়াত পোশাক পরিধান করা থেকে তওবা করে এবং তাহা হইতে বাঁচিয়া থাকে- হে আল্লাহ্‌ তাদের এবং আমাদেরকে এই ফিতনা হইতে হেফাজত করুন (আল্লাহুম্মা আমিন ) [5]

তথ্যসূত্র

  1. মারেফুল কোরআন ৮৩৮ পৃঃ
  2. ইসলামের রুছুম ৩৫ পৃঃ
  3. মাসিক আল বাইয়্যিনাত ১৯৯২/জুলাই/আগষ্ট
  4. ইসলামী আকিদা-১০০ পৃঃ
  5. লেখকঃ মাওলানা মুহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম