প্রশ্নঃ আম্বিয়ায়ে কেরাম ও আউলিয়ায়ে কেরামকে উছিলা ধরার কোন দলিল প্রমাণ আছে কি ?

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search

উত্তরঃ হাঁ আছে । অসংখ্য হাদিস দ্বারা এর প্রমাণ পাওয়া যায় । যথাঃ-

১) ইমাম তিরমিজি, ইমাম নাছাই, ইমাম বায়হাকী ও ইমাম তাবরানী সহীহ সনদের মাধ্যমে সাহাবী হযরত উসমান ইবনে হানীফ (রাঃ) থেকে বর্ননা করেনঃ

ওসমান ইবনে হানীফ (রাঃ) বলেনঃ এক অন্ধ সাহাবী নবী করিম (দঃ) এর খেদমতে এসে আরজ করলো- ইয়া রাসুলুল্লাহ ! আপনি আল্লাহর কাছে দোয়া করুণ যেন তিনি আমার অন্ধত্ব দূর করে দেন । হুজুর আকরাম (দঃ) তাঁকে বললেন- যদি তুমি চাও, তাহলে আমি দোয়া করবো । আর যদি ইচ্ছা করো, তাহলে সবর করতে পারো । এটা তোমার জন্য মঙ্গলজনক হবে । উক্ত সাহাবী বললেন- বরং আপনি আল্লাহর কাছে আমার জন্য দোয়া করুণ । তার অনুরোধে নবী করিম (দঃ) তাঁকে উত্তমরূপে ওজু করে এই দোয়া পড়তে শিখিয়ে দিলেন- “হে আল্লাহ ! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করি এবং তোমার নবী যিনি রহমতের নবী সে নবী মুহাম্মদ (সঃ) কে উছিলা করে তোমার দিকে আমি মুতাওয়াজ্জাহ (মনোযোগী) হলাম । হে প্রিয় মুহাম্মদ (দঃ), আমি আমার এই মাকসুদ পূরণের জন্য আপনার মাধ্যমে (উছিলায়) আল্লাহর দিকে মুতাওয়াজ্জহ হলাম । হে আল্লাহ ! তুমি আমার মাকসুদ পূরণের ব্যাপারে হুজুর (দঃ) এর সুপারিশ কবুল করো । ” এই দোয়া করে ঐ সাহাবী চলে গেলেন । তারপর পুনরায় ফিরে আসলেন । ইত্যবসরে আল্লাহ্‌ তার চক্ষু ভাল করে দিয়েছেন । বায়হাকীর বর্ননায় আছে উক্ত সাহাবী উঠে দাঁড়াতেই তার চক্ষু ভাল হয়ে গেলো ।”

— তিরমিজি, নাছায়ী, বায়হাকী, তাবরানী

পর্যালোচনা

এই হাদিসের মধ্যে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে- অন্ধত্ব দূর করার জন্য সাহাবী একবার আল্লাহকে সম্বোধন করেছেন । আর একবার রাসুলুল্লাহ (দঃ) কে সম্বোধন করেছেন । এইভাবে সম্বোধন করা জায়েজ । হাদিস বিশারদগণ বলেছেনঃ এই হাদিসে নবী করিম (দঃ) কে উছিলা করে দোয়া করা এবং নবী করিম (দঃ) কে সম্বোধন করে ডাক দেয়ার প্রমাণ পাওয়া যায় । এই দোয়া এস্তেমাল করেছেন সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন, সলফে সালেহীন ও পরবর্তী বুযুর্গানে দ্বীন- তাঁদের মকসুদ পূরণের জন্য ।

উক্ত হাদিসে আরও প্রমাণিত হয় যে, নবীজির জীবদ্দশায় এবং ইন্তিকালের পরবর্তী সময়ে যাদের চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে গিয়েছিল, সেসব বুযুর্গানে দ্বীন উপরোক্ত আমল করে সকলেই দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেয়েছেন । এতে প্রমাণিত হল হুজুর (দঃ) এর ইন্তিকালের পরেও তাঁকে উছিলা ধরা যায় । সত্যি কথা এই হুজুর (দঃ) আগমনের পূর্বেও সকল নবী ও সকল উম্মত তার পবিত্র নামের উছিলা ধরেই বিপদ থেকে মুক্ত হয়েছিলেন । যেমনঃ হযরত আদম (আঃ) এর তওবা কবুল, নূহ (আঃ) এর কিস্তি ঝড় তুফান থেকে রক্ষা পাওয়া, হযরত ইব্রাহীম (আঃ) এর নমরুদের অগ্নিকুণ্ড থেকে নিষ্কৃতি লাভ ইত্যাদি । এগুলো নবীযুগের হাজার হাজার বৎসর পূর্বের ঘটনা । সুতরাং উছিলা ধরা শুধু জায়েজই নয় বরং নবীগনেরই ছুন্নাত ।

২) কোন সাহাবী বা ওলীর উছিলা ধরার প্রমাণ নিম্ন বর্নিত হাদীস খান যা বুখারী শরীফে উদ্ধৃত হয়েছেঃ

হযরত আনাস (রাঃ) হতে বর্নিত - তিনি বলেনঃ হযরত ওমর (রাঃ) এর খেলাফত কালে যখন অনাবৃষ্টির কারনে দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দিত, তখন তিনি হযরত আব্বাস ইবনে আব্দুল মোত্তালিব (রাঃ) কে উছিলা করে খোদার কাছে বৃষ্টি কামনা করতেন এবং ইস্‌তিস্‌কার নামাজ পড়তেন । হযরত ওমর (রাঃ) এভাবে দোয়া করতেনঃ “হে আল্লাহ, এতদিন আমরা নবী করিম (দঃ) এর উছিলা দিয়ে বৃষ্টি কামনা করতাম । বর্তমানে নবীজীর চাচা হযরত আব্বাস (রাঃ)কেও উছিলা করে তোমার কাছে বৃষ্টি কামনা করছি । তুমি আমাদেরকে বৃষ্টি দাও” । হযরত আনাছ (রাঃ) বলেনঃ এভাবেই লোকেরা বৃষ্টি পেতো

— বুখারী

হাদীস বিশারদ উলামা ও ইমামগণ বলেছেনঃ এই হাদীস স্পষ্টভাবে প্রমাণ করছে যে, বুযুর্গানে দ্বীনের উছিলা করে দোয়া করা হযরত ওমরের (রাঃ) সুন্নাত । কেননা, হযরত আব্বাস (রাঃ) ছিলেন রাসুল (দঃ) এর চাচা এবং বিশিষ্ট সাহাবী । লোকেরা তাঁকে উছিলা করে বৃষ্টি প্রার্থনা করার সাথে সাথে বৃষ্টিপাত হতো । নবীজীর বংশের গুন এবং বুযুর্গীর মর্যাদা আল্লাহর নিকট অতি উচ্চ ।

  • বিপথগামীদের জন্য সতর্কবানী

বিপথগামী লোকেরা বলে থাকে- হযরত ওমর (রাঃ) নবীজীর উছিলা না ধরে তাঁর যুগে জীবিত হযরত আব্বাস (রাঃ) কে উছিলা ধরেছেন । এতে বুঝা যায়- মৃত কাউকে উছিলা ধরা জায়েয নেই (নাউযুবিল্লাহ)

জবাবঃ হাদিস বিশারদ ওলামাগণ বলেছেন- বিপথগামীরা হাদীসের ভুল ব্যাখ্যা ও অপব্যাখ্যা করেছে । বরং উক্ত হাদীসের প্রকৃত ব্যাখ্যা হচ্ছে এইঃ হযরত ওমর (রাঃ) হযরত আব্বাস (রাঃ) কে উছিলা ধরে একথাই বুঝিয়েছেন যে, নবীজী ছাড়াও ঐসব লোককে উছিলা ধরা যায়- যারা নবীজীর অতি নিকটের এবং আত্নীয়জন । সুতরাং পাক পাঞ্জাতন ও আউলিয়া কেরামের উছিলা ধরার প্রকৃষ্ট প্রমান হলো - হযরত ওমর (রাঃ) এর উক্ত আমল । অন্যান্য সাহাবীগনকে উছিলা না ধরার মধ্যে কারন হলো- নবীজী ও তাঁর পরিবারের সদস্যগনের বুযুর্গী ও মর্তবা আল্লাহর কাছে কত বেশী তা প্রকাশ করা । ওহাবীদের প্রতারনামূলক ব্যাখ্যা যে সম্পূর্ন মিথ্যা- তা অন্যান্য হাদিস দ্বারাও প্রমানিত হয়েছে ।