প্রশ্নঃ উছিলা ধরার অর্থ কি ? কিভাবে উছিলা ধরা হয় ?

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search

উত্তরঃ আল্লাহর প্রিয় বান্দাগণকে স্মরণ করে তাদেরকে মাধ্যম বানিয়ে বরকত লাভ করার নাম উছিলা । আল্লাহ তা’আলা তাদের কারনেই আপন বান্দাদেরকে রহম করেন । অতএব- ঐসব নেক বান্দাগণকে উছিলা ধরার সরল অর্থ হচ্ছে- তাঁদেরকে মাধ্যম বা চ্যানেল ধরে মনোবাঞ্ছা পূরণের জন্য এবং মাকসুদ হাসিলের জন্য আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রার্থনা করা । কেননা, তারা আমাদের তুলনায় আল্লাহর অতি নিকটে । আল্লাহ তা’আলা তাদের দোয়া ও সুপারিশ কবুল করে থাকেন । এ প্রসঙ্গে একখানা হাদিস শরীফ উল্লেখযোগ্য । যথাঃ
বোখারী শরীফে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ হতে একখানা হাদিসে কুদ্‌সী উল্লেখ করে নবী করিম (দঃ) এরশাদ করেছেনঃ

আল্লাহ তা’আলা ঘোষণা করেছেনঃ যে কেউ আমার কারনে আমার কোন ওলীর সাথে শত্রুতা পোষণ করে, আমি তাঁকে যুদ্ধের জন্য আহবার জানাই । আমার বান্দা আমার নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্য আমার সর্বাধিক প্রিয় যে ইবাদত করে- তা হচ্ছে আমার নির্ধারনকৃত ফরজ ইবাদত । আর তার ইচ্ছাকৃত নফল ইবাদতের মাধ্যমেও ক্রমশঃ বান্দা আমার নৈকট্য লাভ করতে থাকে । শেষ পর্যন্ত সে আমার প্রিয় বন্ধু হয়ে যায় । আর যখন সে আমার বন্ধু হয়ে যায়- তখন আমি তার শ্রবণশক্তি (কান) হয়ে যাই- যার মাধ্যমে সে শুনতে পায় । আমি তার দৃষ্টিশক্তি (চোখ) হয়ে যাই- যার মাধ্যমে সে দেখতে পায় । আমি তার ধারণ শক্তি (হাত ) হয়ে যাই- যার মাধ্যমে সে ধরে । আমি তার চলনশক্তি (পা) হয়ে যাই- যার মধ্যমে সে চলাচল করে । আর যদি সে আমার কাছে কিছু যায়- তবে অবশ্য অবশ্যই আমি তাঁকে তা দেই । আর যদি সে আমার কাছে আশ্রয় চায় তবে অবশ্যই আমি আশ্রয় দেই” ।

— বোখারী শরীফ

এতে প্রমাণিত হল- আল্লাহর প্রিয় বান্দার ডাক আল্লাহ শুনেন । তারা আল্লাহতে মসে যান (ফানা হয়ে যান) । তাঁদের মধ্যে খোদা প্রদত্ত (কুদরতি) শ্রবণ শক্তি, দৃষ্টিশক্তি, ধারণ শক্তি ও চলশক্তি এসে যায় । এগুলোকে কারামত বলে । অতএব- তাঁদের সুপারিশ আল্লাহ কবুল করেন । যেমন- লোহা আগুনের ন্যায় সংস্পর্শে এলে সে আগুনের শক্তি লাভ করে । তখন সেও আগুনের ন্যায় জালাতে পারে । তদ্রূপ- আল্লাহর ওলীগন আল্লাহ নহেন । কিন্তু ফানা ফিল্লাহ হয়ে গেলে খোদায়ই কুদরতি শক্তি লাভ করেন । তারা খোদার নিকট যা চান- তা পান । সেজন্যই লোকেরা মাজারে যান ।