এই সুন্নিপিডিয়া ওয়েবসাইট পরিচালনা ও উন্নয়নে আল্লাহর ওয়াস্তে দান করুন
বিকাশ নম্বর ০১৯৬০০৮৮২৩৪

ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) * কারবালার ইতিহাস * পিস টিভি * মিলাদ * মাযহাব * ইলমে গায়েব * প্রশ্ন করুন

বই ডাউনলোড

ফিকাহ্‌

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
ফিকাহ্‌
  • ফিকাহ্‌

'ফিক্‌হ' শব্দটি আরবি । তা বাবে سَمِعَ এবং বাবে كَرِمُ উভয় বাব থেকেই ব্যবহৃত হয় । বাবে سَمِعَ থেকে ব্যবহৃত হলে এর অর্থ হবে জ্ঞাত হওয়া, জানা, অবহিত হওয়া ইত্যাদি । আর বাবে كَرِمُ থেকে ব্যবহৃত হলে এর অর্থ হবে ফকীহ্‌ হওয়া ।
আল্লামা হাস্‌কাফী (রঃ) ‘দুররুল মুখ্‌তার’ কিতাবে বলেন,

ফিকাহ্‌ শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো - কোন বস্তু সম্বন্ধে জ্ঞাত হওয়া । পরে তা শরঈ বিষয়াদি জানার আথে খাস হয়ে যায় । এ শব্দটি বাবে سَمِعَ থেকে ব্যবহৃত হলে এর মাসদার হবে فقه, অর্থ হবে ‘জানা’ । আর বাবে كَرِمُ থেকে ব্যবহৃত হলে মাসদার হবে অর্থ فقاهة, অর্থ হবে ফকীহ্‌ হওয়া ।

আল্লামা ফখরুদ্দীন রামালী (রঃ) স্বীয় গ্রন্থ ‘মিনহাতুল খালিক আলাল বাহ্‌রির রাইক’ কিতাবে উল্লেখ করেন

فَقِهَ সে জ্ঞাত হয়েছে । فَقِهَ অবগত হওয়ার ক্ষেত্রে সে অন্যের তুলনায় অগ্রগামী হয়েছে । فَقُهَ তাঁর স্বভাবজাত বিষয়ে পরিণত হয়েছে ।

আল্লামা রশীদ রিযা মিশরী (রহঃ) তাঁর প্রণীত তাফসীর গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, এ শব্দটি আল-কুরআনের বিশ স্থানে ব্যবহৃত হয়েছে । তন্মধ্যে উনিশ জায়গায় তা গভীর জ্ঞান ও সূক্ষ্ম ইল্‌মের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে ।
পরিভাষার এর একাধিক অর্থ বর্ননা করা হয়েছে । ‘মিফ্‌তাহুস সা’আদা’ গ্রন্থের লেখক ফিক্‌হ এর সংজ্ঞা বর্ননা প্রসঙ্গে বলেন,

যে ইল্‌মে শরীয়াতের বিধি-বিধান সম্বন্ধে আলোচনা করা হয় এ হিসাবে যে, তা উদ্ভাবন করা হয় বিস্তারিত প্রমাণাদি থেকে । এ ধরনের ইল্‌মকে ‘ইলমে ফিক্‌হ’ বলা হয় ।

এ সংজ্ঞা اصول فقه এর জন্য ঠিক । কিন্তু عام ف এর জন্য ঠিক নয় । সর্বোপরি এ সংজ্ঞা মুজতাহিদ ফকীহ্‌ এর বেলায় প্রযোজ্য । কিন্তু حافظ للفروع (শাখা-প্রশাখা সম্পর্কিত হুকুমের সংরক্ষক ব্যক্তি) এর ক্ষেত্রে এ সংজ্ঞা প্রযোজ্য নয় । কারো কারো মতে,

শরীয়াতের বিস্তারিত প্রমাণাদি থেকে আমলী শরীয়াতের বিধি-বিধান সম্বন্ধে জ্ঞাত হওয়াকে ফিক্‌হ বলে ।

উপরোক্ত সংজ্ঞায় বিস্তারিত প্রমাণাদি বলে কুরআন, হাদীস, ইজমা ও ক্বীয়াস তথা দলিল চতুষ্টয়কে বোঝানো হয়েছে । শায়খ্‌ ইবন হুমাম (রঃ) বলেন,

শরীয়াতের অকাট্য বিধি-বিধান যথাযথ অনুধাবন করাকে শরীয়াতের পরিভাষায় ফিক্‌হ বলা হয় ।

আল্লামা ইব্‌ন নুজায়ম (রঃ) এ মতটিকে সমর্থন করেছেন । ‘ইরশাদুল কাসিদীন’ গ্রন্থে ফিক্‌হ এর সংজ্ঞা এভাবে বর্ননা করা হয়েছেঃ

আমলী শরীয়াতের বিধি-বিধান সম্বন্ধে জ্ঞাত হওয়াকে ‘ইল্‌মে ফিক্‌হ’ বলে ।

‘ইত্‌মামুদ দিরায়া’ এবং ‘নিকায়া’ গ্রন্থে আল্লামা সুয়ুতী (রঃ) বর্ননা করেছেন যে,

শরীয়াতের যেসব বিধি-বিধান ইজতিহাদের মাধ্যমে উদ্ভাবন করা হয়েছে সে সম্বন্ধে জ্ঞাত হওয়াকে ‘ইল্‌মে ফিক্‌হ’ বলা হয় ।

ইমাম আযম আবূ হানীফা (রহঃ) এর মতে,

নফস্‌ ও আত্মার জন্য যেসব কাজ কল্যাণকর এবং যেসব কাজ কল্যাণকর নয় তা সহ নাফ্‌স সম্বন্ধে যথাযথ অবহিত হওয়াকে ফিক্‌হ বলে ।

এ সংজ্ঞায় اعتقادات তথা আক্বীদা-বিশ্বাস وجدانيات তথা বাতিনী আখ্‌লাক এবং عمليات তথা সালাত, সাওম, বেচা-কেনা ইত্যাদি সব কিছুই অন্তর্ভূক্ত রয়েছে । কিন্তু পরবর্তীকালে যখন জ্ঞানের প্রতিটি শাখা স্বতন্ত্র রূপ পরিগ্রহ করে তখন আক্বাইদ সম্পর্কিত জ্ঞানের নাম হয় ‘ইল্‌মে কালাম’ । আধ্যাত্মিক জ্ঞানের নাম হয় ‘ইল্‌মে তাসাউফ’ এবং আমলী জীবনের সাথে সম্পর্কিত বিধি-বিধানের নাম হয় ‘ইল্‌মে ফিক্‌হ’ ।
সূফী সাধকদের মতে ইল্‌ম ও আমলের সমষ্টির নামে ফিক্‌হ । এ কারনেই হযরত হাসান বসরী (রহঃ) বলেন-

পরকালমুখী ইহকাল বিমুখ, স্বীয় দ্বীণের প্রতি সতর্ক দ্রষ্টা, স্বীয় প্রতিপালকের ইবাদতে সদা নিয়োজিত এবং মুসলমানদের ইজ্জত ভূলুণ্ঠিতকরণ থেকে বিরত ও সতর্কতা অবলম্বনকারী ব্যক্তিকে ‘ফকিহ্‌’ বলা হয়ে ।

— قواعد الفقه

ইমাম গাজ্জালী (রঃ) এর মতে

শরীয়াতের শাখা-প্রশাখাজনিত জ্ঞান লাভ করা এবং সূক্ষ্ম علت সম্বন্ধে জ্ঞাত হওয়াকে ফিক্‌হ বলা হয় ।

— مباديات فقه

[1]

তথ্যসূত্র

  1. ফাতাওয়া ওয়া মাসাইল (ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ)