এই সুন্নিপিডিয়া ওয়েবসাইট পরিচালনা ও উন্নয়নে আল্লাহর ওয়াস্তে দান করুন
বিকাশ নম্বর ০১৯৬০০৮৮২৩৪

ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) * কারবালার ইতিহাস * পিস টিভি * মিলাদ * মাযহাব * ইলমে গায়েব * প্রশ্ন করুন

বই ডাউনলোড

ফিদিয়া

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search

[(নামায বা) রোযার পরিবর্তে যে ছদ্‌কা দেওয়া হয়, তাহাকে “ফিদ্‌য়া” বলে এবং রমযান শরীফের বরকত, রহ্‌মত ও হুকুম পালনে সক্ষম হওয়ার খুশিতে বান্দা ঈদের দিন নিজের তরফ হইতে এবং নিজের পরিবারবর্গের তরফ হইতে যাহা কিছু ছদ্‌কা করে, তাহাকে “ফেৎরা” বলে । ফেৎরার কথা পরে বর্ণিত হইবে । এখানে ফিদ্‌য়া সম্বন্ধে বর্ণিত হইতেছে ।]

  • মাসাআলাঃ

যে ব্যক্তি এত বৃদ্ধ হইয়া গিয়াছে যে, তাহার আর রোযা রাখার শক্তি নাই, বা এত রোগা ও দুর্বল হইয়াছে যে, তাহার আর ভাল হইবার আশা নাই । এইরূপ লোকের জন্য শরীঅতে এই ব্যবস্থা করা হইয়াছে, যে, সে প্রত্যেক রোযার পরিবর্তে একজন মিসকিনকে দুই ওয়াক্ত পেট ভরিয়া খাওয়াইয়া দিবে, না হয় একটি রোযার পরিবর্তে একজন মিসকিনকে ছদ্‌কায়ে ফেৎরা পরিমান () গম বা থার মূল্যের চাউল বা পয়সা দান করিবে । ইহাকেই শরীঅতের ভাষায় ফিদ্‌য়া বলে ।

  • মাসাআলাঃ

একটি ফিদ্‌য়া একজন মিস্‌কীনকে দেওয়াই উত্তম । কিন্তু যদি একটি ফিদ্‌য়া কয়েকজন মিস্‌কীনকে কিছু কিছু করিয়া দেওয়া হয়, তাহা হইলেও দুরুস্থ আছে ।

  • মাসাআলাঃ

বৃদ্ধ যদি পুনরায় রোযা রাখার শক্তি পায়, অথবা চিররোগী নিরাশ ব্যক্তি পুনরায় আরোগ্য লাভ করে এবং রোযা রাখার শক্তি পায় , তবে যে সব রোযার তাহার ফিদ্‌য়া দিয়াছে সে সব রোযার ক্বাযা করিতে হইবে এবং যাহা ফিদ্‌য়া দান করিয়াছে তাহার সওয়াব পৃথক পাইবে ।

  • মাসাআলাঃ

যাহার যিম্মায় ক্বাযা থাকে , তাহার মৃত্যুর পূর্বে অছিয়ত করিয়া যাইতে হইবে যে, আমার এতগুলি রোযা ক্বাযা আছে, তোমারা ইহার ফিদ্‌য়া আদায় করিয়া দিও । এইরূপ অছিয়ত করিয়া গেলে তাহার স্থাবর–অস্থাবর ষোল আনা সম্পত্তি হইতে –

(১) আগে তাহার কাফনের বন্দোবস্ত করিতে হইবে ।
(২) তারপর তাহার ঋণ পরিশোধ করিতে হইবে ( যদি স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় করিয়াও ঋণ পরিশোধ করার দরকার পড়ে। তাহাও করিতে হইবে । ঋণ পরিশোধের পূর্বে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে ওয়ারিশগনের কোন অধিকার থাকে না ।
(৩) তারপর যাহা কিছু অবশিষ্ট থাকে তাহার তাহার তিন ভাগের এক ভাগ দ্বারা অছিয়ত পূর্ণ করিতে ওয়ারিশগণ শরীঅতের আইন মতে বাধ্য । যতি অবশিষ্ট সম্পত্তির তিন ভাগের এক ভাগ দ্বারা সম্পূর্ণ অছিয়ত পূর্ণ না হয়, তবে যে পরিমান আদায়, সেই পরিমান আদায় করা ওয়াজিব এবং যাহা অবশিষ্ট থাকে , তাহা যদি ওয়ারিশগন নিজ খুশিতে আদায় করিয়া দেয়, তবে তাহাদের পক্ষে ইহা অতি উত্তম হইবে এবং মৃত ব্যক্তির পক্ষে নাজাতের উপায় হইবে ।
  • মাসাআলাঃ

মৃত ব্যক্তি যদি অছিয়ত না করে এবং যাহারা ওলী – ওয়ারিশ থাকে তাহারা নিজের তরফ হইতে তাহার রযা – নামাযের ফিদ্‌য়া দেয়। তবুও আশা করা যায় যে, আল্লাহ্‌ ত’আলা নিজ দয়াগুনে তাহা কবুল করিয়া নিবেন এবং মৃত ব্যক্তির অপরাধ ক্ষমা করিয়া দিবেন । যদি অছিয়ত না করিয়া থাকে , তবে মৃত ব্যক্তির মাল হইতে ফিদ্‌য়া দেয়া জায়েয নাই । এইরূপে যদি ফিদ্‌য়া এক তৃতীয়াংশ হইতে বেশী হয়, তবে অছিয়ত করা স্বত্বেও সকল ওয়ারিশের অনুমতি ছাড়া বেশী দেওয়া জায়েয নাই । অবশ্য যদি সকলে খুশী হইয়া অনুমতি দেয় , তবে উভয় অবস্থায় ফিদ্‌য়া দেওয়া দুরুস্ত আছে । কিন্তু শরীঅতে না-বালেগ ওয়ারিশের অনুমতির কোন মুল্য নাই । বালেগ ওয়ারিশগণ নিজ নিজ অংশ পৃথক করিয়া যদি উহাতে দেয় , তবে দুরুস্ত আছে।

  • মাসাআলাঃ

যদি কাহারও নাময ক্বাযা হইয়া থাকে এবং অছিয়ত করিয়া মারা যায় যে, আমার নামাযের বদলে ফিদ্‌য়া দিয়া দিও, তাহারও এই হুকুম।

  • মাসাআলাঃ

প্রত্যেক ওয়াক্ত নামাযের ফিদ্‌য়া একটি রোযার ফিদ্‌য়ার পরিমান । এই হিসাবে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত ফরয এবং বেৎর এই ছয় নামাযের ফিদ্‌য়া ৮০ তোলা সেরের এক ছটাক কম পৌনে এগার সের (দশ সের বার ছটাক) গম দিবে । কিন্তু সতর্কতার জন্য পুরা বার সের দিবে।

  • মাসাআলাঃ

যদি কাহারও যিম্মায় যাকাত থাকিয়া যায়, ( অর্থাৎ, যাকাত ফরয হইয়াছিল, না দিতেই মৃত্যু হইয়া গিয়াছে ) কিন্তু মৃত্যুর পূর্বে যদি অছিয়ত করিয়া যায় যে, আমার যিম্মায় এত টাকা যাকাত ফরয হইয়া রহিয়াছে , তোমরা আদায় করিয়া দিও, তবে ওই পরিমান যাকাত আদায় করা ওয়ারিশগণের উপর ওয়াজিব হইবে । যদি অছিয়ত না করিয়া থাকে এবং ওয়ারিশগণ নিজ খুশিতে দেয়, তবে যাকাত আদায় হইবে না , ( তবে দেওয়া ভাল ।) আল্লামা শামী ছেরাজুল ওয়াহ্‌হাজ হইতে উদ্ধৃত করিয়াছেন যে, যদি ওয়ারিশগণ অছিয়ত ব্যতীত আদায় করে, তবে আদায় হইয়া যাইবে । ( খোদা তা’লার দরবারে আশা করা যায় যে, মৃত ব্যক্তি তদ্দ্বারাও নাজাত পাইয়া যাইতে পারে ।)

  • মাসাআলাঃ

যদি ওলী মৃত ব্যক্তির পক্ষে ক্বাযা রযা রাখে বা ক্বাযা নামায পড়ে, তবে দুরুস্ত নহে । অর্থাৎ তাহার যিম্মায় ক্বাযা আদায় হইবে না ।

  • মাসাআলাঃ

অকারনে রমযানের রোযা না রাখা দুরুস্ত নাই । ইহা অতি বড় গোনাহ্‌ । এরুপ মনে করিবে না যে, ইহার বদলে রোযা ক্বাযা করিয়া লইবে । কেননা, হাদীসে আছে – রমযানের এক রোযার বদলে যদি পূর্ণ বৎসর একাধারে রোযা রাখে, তবু এতটুকু সওয়াব পাইবে না, যতটুকু রমযানের একটি রোযার সওয়াব পাওয়া যায় ।

  • মাসাআলাঃ

দুর্ভাগ্যবশতঃ যদি কেহ রোযা না রাখে, তবে অন্যান্য লোকের সম্মুখে পানাহার করিবে না । ইহাও প্রকাশ করিবে না যে, আমি রোযা রাখি নাই । কেননা, গোনাহ্‌ করিয়া উহাও প্রকাশ করাও গোনাহ্‌। যদি প্রকাশ্যে বলিয়া বেড়ায়, তবে গোনাহ্‌ দ্বিগুণ হইবে । একটি রোযা না রাখার এবং অপরটি প্রকাশ করার । বলিয়া থাকে – যখন খোদার কাছে গোপন নাই , তবে মানুষের কাছে গোপন করিয়া কি লাভ ? ইহা ভুল । বরং কোন কারনে রোযা রাখিতে না পারিলে লোকের সামনে খাওয়া উচিত নহে ।

  • মাসাআলাঃ

ছেলে মেয়েরা যখন ৮/৯ বৎসর বয়সের হইয়া রোযা রাখার মত শক্তিসম্পন্ন হয় , তখনই তাহাদিহকে রোযা রাখার অভ্যাস করান উচিত । যদি নাও রাখিতে পারে , তবুও কিছু অভ্যাস করান উচিত । ছেলে মেয়ে যখন দশ বৎসর হইয়া যায়, তখন শাস্তি দিয়া হইলেও তাহাদের দ্বারা রোযা রাখান, নামায পড়ান উচিত ।

  • মাসাআলাঃ

না-বালেগ ছেলেমেয়েরা যদি রোযা শুরু করিয়া শক্তিতে না কুলানোর কারনে রোযা ভাঙ্গিয়া ফেলিতে চায়, তবে ভাঙ্গিতে দেওয়া ভাল নয় বটে ; কিন্তু যদি ভাঙ্গিয়া ফেলে তবে রোযা আর দোহ্‌রাইয়া রাখার দরকার নাই ; কিন্তু যদি নামায শুরু করিয়া নিয়ত ছাড়িয়া দেয়, তবে নামায দোহ্‌রাইয়া পড়ান উচিত ।

তথ্যসূত্র

  • বেহেস্তী জেওর (লেখকঃ মাওলানা আশরাফ আলী থানবী (রহঃ))