এই সুন্নিপিডিয়া ওয়েবসাইট পরিচালনা ও উন্নয়নে আল্লাহর ওয়াস্তে দান করুন
বিকাশ নম্বর ০১৯৬০০৮৮২৩৪

ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) * কারবালার ইতিহাস * পিস টিভি * মিলাদ * মাযহাব * ইলমে গায়েব * প্রশ্ন করুন

বই ডাউনলোড

বিচারের দিবস

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
আখিরাত সম্পর্কিত আক্বীদা

  • বিচারের দিবস




রোজে কিয়ামত বা বিচারের দিবস সত্য। সেদিন আকাশ, নক্ষত্রপুঞ্জ, ভূমন্ডল,পর্বত, সমুদ্র, প্রাণীকুল, উদ্ভিদকুল- সবই ধ্বংস ও বিলীন হয়ে যাবে। আকাশ ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে, নক্ষত্রমন্ডলী হয়ে পড়বে বিক্ষিপ্ত ও বিশৃংখল। পৃথিবী, পর্বতরাজি উড়তে থাকবে ধূলিকণার মতো। ইস্রাফিল আ. এর শিঙ্গার প্রথম ফুৎকারের সাথে সাথে শুরু হবে ওই ভয়াবহ ধ্বংসলীলা। দ্বিতীয় ফুৎকারের সঙ্গে সঙ্গে সবাই নিজ নিজ কবর থেকে উত্থিত হয়ে হাশরের ময়দানে সমবেত হতে থাকবে। দার্শনিকেরা এবং পদার্থবিদেরা আকাশ, ভূমন্ডল এবং নক্ষত্রমন্ডল ধ্বংস হবে না বলে থাকে। তারা সৃষ্টিকে অনাদি, অনন্ত বলে জানে (‘বস্তুর অবিনাশিতাবাদ এরকমেরই মতবাদ)। এই মতে আস্থা স্থাপনকারীরা কোরআনের নিশ্চিত বাণী এবং প্রকাশ্য হুকুম অস্বীকারকারী এবং পয়গম্বর আ.গণের এজমা (ঐকমত্য) অমান্যকারী। আল্লাহ্তায়ালা এরশাদ করেছেন

যখন সূর্য চাদর বেষ্টিত হবে অর্থাৎ আলোকশূন্য হবে এবং যখন নক্ষত্ররাজি হবে কৃষ্ণকায়

— সূরা তাকভীর

যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে এবং আপন প্রতিপালকের আদেশ মেনে নিবে এবং তার কর্তব্যকর্ম সেটাই

— সূরা ইনশিকাক

এবং

আসমানসমূহ উন্মুক্ত হয়ে অসংখ্য দরোজায় পরিণত হবে’ অর্থাৎ বিচূর্ণ হবে

— সূরা নাবা

। কোরআন মজীদে এরকম অনেক আয়াত রয়েছে। ইমাম আহমদ র. এবং ইমাম মুসলিম র. বর্ণিত হাদিসে এসেছে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ্তায়ালার সৃষ্টিকুল একে অপরের প্রতি প্রতিশোধ নিবে। শিঙবিহীন ছাগল ওই ছাগল থেকে প্রতিশোধ নিবে, যে তাকে পৃথিবীতে শিঙ দিয়ে অযথা আঘাত করেছিলো। এভাবে প্রতিটি প্রাণী-পিপীলিকাও তাদের প্রতিশোধের পাওনা আদায় করে নিবে। প্রতিশোধের পালা শেষে প্রাণীজগতকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া।হবে। যে সকল প্রাণী মানুষের খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছিলো, সেগুলোকে পরিণত করে দেয়া হবে উর্বর মৃত্তিকায়।শায়েখ আবদুল হক মোহাদ্দেছে দেহলভী র. বলেন ‘কেবল শিঙ্গার ফুৎকারকেও কিয়ামত বলা হয়। কেউ কেউ বলেছেন, মৃত্যুর পর থেকে বেহেশত বা দোজখে প্রবেশের পূর্ব পর্যন্ত সমস্ত সময়টাই কিয়ামত। গভীর দৃষ্টি দিয়ে দেখলে অনুধাবন করা যাবে, প্রতিদিনই মানুষের জীবনে এরকম অবস্থা অতিবাহিত হয়। হাদিস শরীফে আছে, প্রদোষকালে মানুষের অন্তর বিষন্ন ও সন্ত্রস্ত হয়। পাখিও প্রাণীকুল নিজ আশ্রয়ে ফিরে গিয়ে নিদ্রায় অচেতন হয়ে পড়ে। এটা এক ধরনের মৃত্যুই। এটা প্রথম শিঙ্গা ফুৎকারের একটা অতি দূরবর্তী নিদর্শন। ঘুম থেকে জেগে প্রাণীকুল আবার ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন দিকে। এটা দ্বিতীয় ফুৎকারের ন্যূনতম নমুনা’।