বিবি আমেনার গর্ভে নূরে মোহাম্মদীর সরাসরি গমন

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
মুহাম্মাদ (সঃ) এর বিস্তারিত জীবনী







  • বিবি আমেনার গর্ভে নূরে মোহাম্মদীর সরাসরি গমন











পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হযরত আদম (আঃ)-এর সৃষ্টির চৌদ্দ হাজার বছর পূর্বে (পৃথিবীর হিসেবে পাঁচশত এগার কোটি বছর পূর্বে) নবী করিম (দঃ) নূর হিসেবে আল্লাহর সান্নিধ্যে বিদ্যমান ছিলেন। এরপর হযরত আদম (আঃ)-এর সাথে সেই নূর পৃথিবীতে আগমন করেন এবং হযরত শিষ, হযরত ইদ্রিস, হযরত নূহ, হযরত ইব্রাহীম ও হযরত ইসমাইল (আঃ) প্রমুখ পয়গাম্বর ও নেককারগণের মাধ্যমে স্থানান্তরিত হতে হতে অবশেষে হযরত আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর ললাটে স্থানলাভ করেন। হযরত ইসমাইল ও হযরত আবদুল্লাহ ছিলেন যবিহউল্লাহ। নবী করিম (দঃ) স্বয়ং শুকরিয়া আদায় করে বলতেন-

আমি দুই যবিহউল্লাহর সন্তান।

হযরত আবদুল্লাহর (রাঃ) বয়স যখন চব্বিশ বছর, তখন পিতা তাঁকে বিবাহ করানোর উদ্দেশ্যে পাত্রীর অনুসন্ধানে বের হন। পথিমধ্যে ওয়ারাকা ইবনে নওফেল-এর বোন ফাতেমা-ওরফে উম্মে কিতাল হযরত আবদুল্লাহর ললাটে নূর লক্ষ্য করে স্বেচ্ছায় বিবাহের প্রস্তাব দেন। কিন্তু হযরত আবদুল্লাহ পিতার সম্মানে ঐ প্রস্তাব নাকচ করে দেন।

ঐ দিনই মদিনাবাসী এবং মক্কায় প্রবাসী ওহাব ইবনে আবদে মুনাফ-এর ভাগ্যবতী কন্যা বিবি আমেনার সাথে হযরত আবদুল্লাহর বিবাহ সম্পন্ন হয়। উল্লেখ্য যে, মদিনার বনী আদি বংশের জাহরা গোত্রে আবদুল মোত্তালেবও বিবাহ করেছিলেন এবং সেই ঘরে আবু তালেব, হযরত হামজা, হযরত আব্বাছ ও নবী করিম (দঃ)-এর পিতা হযরত আবদুল্লাহ জন্মগ্রহণ করেন। সেই গোত্রেরই কন্যা ছিলেন বিবি আমেনা (রাঃ)। সুতরাং হযরত আবদুল্লাহ ও নবী করিম (দঃ)-উভয়েরই মাতুলালয় ছিল মদিনা।

রজব মাসের প্রারম্ভে এই শুভ বিবাহ সম্পন্ন হয় এবং ঐ দিনেই মিনার নিকটে শিয়াবে আবি তালেব নামক স্থানে স্বামী-স্ত্রীর সাক্ষাৎ হয়। ঐ দিনেই হযরত আবদুল্লাহর (রাঃ)-এর ললাট হতে নবুয়তের পবিত্র নূর মা আমেনার (রাঃ) গর্ভে সরাসরি স্থানান্তরিত হয় (মাওয়াহেব ও বেদায়া নেহায়া)। পহেলা রজব শুক্রবার রাতে নবী করিম (দঃ)-এর পবিত্র নূর (মাটি নয়) মায়ের রেহেমে স্থানলাভ করেন বলে মাওয়াহেবে লাদুন্নিয়া ও আনওয়ারে মোহাম্মদীয়া গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে। ইবনে ইসহাক কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে বিবি আমেনার (রাঃ) সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঐ রাত্রেই বিবি আমেনাকে স্বপ্নযোগে জানিয়ে দেয়া হয়-

তুমি এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ মানবকে ধারণ করেছ। সন্তান ভূমিষ্ট হলে তাঁর নাম রাখবে মোহাম্মদ (দঃ) বা বারংবার প্রশংসিত।

হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) রেওয়ায়াত করেন যে, | ঐ রাত্রেই কোরেশদের গৃহপালিত পশুগুলো নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছিল যে, আজ সমগ্র পৃথিবীর চেরাগ, আল্লাহর প্রিয় রাসুল (দঃ) মাতৃগর্ভে এসেছেন। আল্লাহর কুদরতে সমগ্র পৃথিবীর প্রাণীকুলের মধ্যে একটি নৈসর্গিক আনন্দের ঢেউ খেলে গিয়েছিল। কিন্তু খুশী হতে পারেনি সেদিন অভিশপ্ত শয়তান | আনওয়ারে মোহাম্মদিয়া}}

আজও মানবরূপী কিছু শয়তান মিলাদুন্নবীর শুভদিনে খুশী হতে পারেনা। তারা এই আনন্দময় দিবসে মিলাদুন্নবীর বিরুদ্ধে নানা কথা বলে মিলাদুন্নবীর তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনাবলির সমালোচনা করে এবং মিলাদুন্নবী (দঃ) মাহফিল ও অনুষ্ঠানকে বেদাত বলে অপপ্রচার চালাতে থাকে। অথচ মিলাদুন্নবীর প্রথা সুন্নাতসম্মত একটি প্রথা।

বিবি আমেনা (রাঃ)-এর সাথে পরিণয়ের পরদিন হযরত আবদুল্লাহ (রাঃ) নিজ গৃহে প্রত্যাবর্তনকালে পথে ফাতেমা-ওরফে উম্মে কিতালের সাথে সাক্ষাৎ হয়। এবার মহিলা হযরত আবদুল্লাহকে দেখে মুখ ফিরিয়ে নেন। কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জবাবে বলেন-

গতকাল তোমার ললাটে যে নূর ছিল- আজ সে নূর তোমার থেকে বিদায় নিয়েছে। সুতরাং আজ তোমাতে আমার আর কোনো প্রয়োজন নেই। আমার একান্ত ইচ্ছা ছিল- সেই নূর আমার মধ্যে স্থানান্তরিত হোক। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছা ছিল না- তাই তিনি অন্যত্র স্থানান্তরিত করেছেন।

— মাওয়াহেবে লাদুন্নিয়া

একজন সাধারণ মহিলা হয়েও উম্মে কিতাল নবী করিম (দঃ)কে নূর হিসেবে প্রত্যক্ষ করতে সক্ষম হলো। কিন্তু হতভাগা ওহাবীরা তাঁকে প্রত্যক্ষ করলো মাটির মানুষ হিসেবে। জনৈক পীর তার অসিয়ত ও নছিহতনামায় নবী করিম (দঃ) কে সাধারণ মানুষ প্রমাণ করার জন্য লিখেছে- “নবী পাক (দঃ) পিতার নাপাকী থেকে মায়ের নাপাকীর সাথে মিশে আবার নাপাক জায়গার ভেতর দিয়েই পৃথিবীতে এসেছেন”। নাউযুবিল্লাহ !

এমন অশালীন ও অসভ্য উক্তি একজন কাফেরও কোনদিন করেনি। আল্লাহ এসব দুশমনে রাসুল-এর সংশ্রব থেকে মুসলমানকে রক্ষা করুন।

তথসূত্র

  • নূরনবী (লেখকঃ অধ্যক্ষ মাওলানা এম এ জলিল (রহঃ), এম এম, প্রাক্তন ডাইরেক্তর, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ)