এই সুন্নিপিডিয়া ওয়েবসাইট পরিচালনা ও উন্নয়নে আল্লাহর ওয়াস্তে দান করুন
বিকাশ নম্বর ০১৯৬০০৮৮২৩৪

ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) * কারবালার ইতিহাস * পিস টিভি * মিলাদ * মাযহাব * ইলমে গায়েব * প্রশ্ন করুন

বই ডাউনলোড

বিবি হালিমার কোলে

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
মুহাম্মাদ (সঃ) এর বিস্তারিত জীবনী

















  • বিবি হালিমার কোলে

মক্কার শরীফ খান্দানের প্রথা অনুযায়ী প্রত্যেক শিশুকেই ধাত্রী মায়ের ঘরে দুধপান ও লালন পালন করানো হতো' পারিশ্রমিকের বিনিময়ে। উদ্দেশ্য ছিল' শহরের কোলাহল এবং বহু লোকের সংমিশ্রণ থেকে দূরে রেখে একক বিশুদ্ধ আরবি ভাষায় শিশুর প্রথম ভিত্তি স্থাপন করা। মক্কার অদূরে তায়েফের বনী ছকিফ ও বনি হাওয়াযেন গোত্র ছিল বিশুদ্ধ আরবি ভাষার অঞ্চল- যেমন আমাদের দেশের বিশুদ্ধ বাংলা ভাষার অঞ্চল হলো নদীয়া-শান্তিপুর। নবী করিম (দঃ)-এর বয়স যখন ১৬-১৭ দিন, তখন তায়েফের বনী ছকিফ গোত্রের হালিমা সা'দিয়া নাম্নী এক দরিদ্র মহিলা তাঁর দুধ মা হবার সৌভাগ্য লাভ করেন। কবিলার অন্যান্য মহিলার সাথে বিবি হালিমা পালক শিশু সংগ্রহের উদ্দেশ্যে মক্কায় আগমন করেন। কিন্তু গরিব বলে কেউ তাকে সন্তান প্রতিপালনের দায়িত্ব দিতে ইচ্ছুক ছিল না। ইত্যবসরে অপেক্ষাকৃত সামর্থ্যবান অন্যান্য সাথী মহিলা ধনী ঘরের সন্তান সংগ্রহ করে ফেলেছে। ইয়াতিম ও গরিব বলে কেউ শিশু নবীকে গ্রহণ করল না।

এমতাবস্থায় স্বামীর সাথে পরামর্শ করে বিবি হালিমা ইয়াতীম শিশুনবী হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা (দঃ)কে পালিত পুত্র হিসেবে গ্রহণ করতে রাজী হলেন। বিবি হালিমা রেশমী বিছানায় ঘুমন্ত শিশু নবীর বুকে হাত স্থাপন করতেই মুচকি হাসির ঝলক ছড়িয়ে শিশু নবী জেগে উঠলেন এবং বিবি হালিমার দিকে আকর্ষণীয় দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন। বিবি হালিমা বলেন, 'আমি শিশু নবীর চোখ হতে একটি নূর বের হয়ে আকাশের মহাশূন্যে মিশে যেতে প্রত্যক্ষ করলাম। আমি তাঁর কপালে চুমু খেয়ে তাঁকে কোলে তুলে নিয়ে ডান স্তনের দুধ পান করতে দিলাম। শিশু নবী তৃপ্তি সহকারে দুধ পান করলেন। অতঃপর বাম স্তন থেকে দুধ পান করানোর চেষ্টা করলে তিনি মুখ ফিরিয়ে নেন। দুধ পানকালীন পূর্ণ সময়ই শিশুনবীর এই নিয়মের কোনো ব্যতিক্রম হয়নি। কেননা, আমার কোলে আমার আপন শিশু আবদুল্লাহ তাঁর দুধ শরীক ভাই ছিল। নবী করিম (দঃ)-এর এই ইনসাফপূর্ণ ব্যবস্থা দেখে আমি অভিভূত হয়ে যেতাম'।

অন্যদের ন্যায্য হক প্রদানের নির্দেশসহ ৪০ বছর পর কোরআন নাযিল হয়। কিন্তু শিশু নবী (দঃ) কোরআন নাযিলের বহু পূর্বেই কোরআনের ইনসাফপূর্ণ সম্পদ বন্টনের নীতি বাস্তবায়িত করে বিশ্বজগতকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। নবীগণ আরেফ বিল্লাহ হয়েই জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শিশুকাল থেকেই সকলের জন্য ইনসাফের আদর্শ স্থাপন করেছেন। তাঁর পূর্ণ জীবনই আমাদের জন্য আদর্শ। কিন্তু মওদুদী পন্থী জনৈক অধ্যাপক তার রচিত 'সিরাতুন্নবী' সংকলনে (!) মন্তব্য করেছেন যে, 'নবুয়তের ২৩ বছরের জিন্দেগীই কেবল আমাদের জন্য আদর্শ'। এটা তার নিজস্ব আবিষ্কার ও ইসলামের অপব্যাখ্যা এবং ইসলামী আকিদার পরিপন্থী মতবাদ। পূর্ব পৃষ্ঠায় প্রমাণিত হয়েছে যে, নবী করিম (দঃ) ভূমিষ্ঠ হয়েই আল্লাহর তৌহিদ ও আপন রিসালাতের সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। বুঝা গেলো- নিজের নবুয়ত সম্পর্কে তিনি পূর্ণ অবগত ছিলেন এবং তাঁর পূর্ণ জীবনই আমাদের জন্য আদর্শ।

বিবি হালেমা বলেন, 'আমাদের অঞ্চলে তখন দুর্ভিক্ষাবস্থা বিরাজ করছিল। কিন্তু আল্লাহর অসীম কুদরতে আমার পালিত পুত্রের বরকতে আমাদের কোনো অভাব ছিলনা। অন্যান্য পরিবারের মেষ ও ছাগপালের দুধ শুকিয়ে গিয়েছিল খাদ্যের অভাবে। কিন্তু আমাদের ছাগ ও মেষপাল দিনের শেষে ঘরে ফিরে আসতো দুধভরা স্তন নিয়ে। আমরা ঐ দুধে সকলেই তৃপ্ত হতাম। এভাবেই আমাদের অভাব দূর হয়ে গেল। প্রতিবেশীরা অধিক খাদ্যের আশায় তাদের মেষরাশি আমাদের মেষপালের সাথে একইস্থানে পাঠাতো। কিন্তু তাদের মেষপালগুলো ফিরে আসতো খালিপেটে; আর আমাদের মেষপাল আসতো ভরাপেটে স্তনভর্তি দুধ নিয়ে। আমার স্বামী এ অবস্থা দেখে বলতেন, হালিমা! 'আমাদের এ সন্তান ভবিষ্যতে অতি উঁচুদরের মানুষ হবে'।

বিবি হালিমার চেয়ে শায়মা নবী করিম (দঃ)কে কোলে কাঁখে করে রাখতেন। সেজন্য নবী করিম (দঃ) তাঁকে আপন বোনের চেয়েও বেশি শ্রদ্ধা করতেন। ৮ম হিজরী সনে নবী করিম (দঃ) হুনায়ুনের যুদ্ধে বনী ছকিফ ও বনী হাওয়াযেন গোত্রের প্রায় ছয় হাজার লোককে বন্দী করেন। এমতাবস্থায় শায়মা লাঠিতে ভর করে নিজের বংশের বন্দীদের জন্য সুপারিশ করতে নবীজীর খেদমতে হাযির হলে তাঁকে দেখেই নবী করিম (দঃ) সসম্মানে দাঁড়িয়ে যান এবং নিজের মাথা মোবারক হতে চাদর নামিয়ে তাঁর বসার জন্য বিছিয়ে দেন। শায়মা আপন গোত্রের লোকজনের মুক্তির জন্য আবেদন জানালে নবী করিম (দঃ) নিজ অংশের বন্দীদের মুক্তি দিয়ে দেন। সাথে সাথে সাহাবীগণও তাঁদের অংশের সকল বন্দীকে মুক্ত করে দেন। এ ছিল গুরুজনদের প্রতি নবীজীর ব্যবহারের উত্তম আদর্শ। এ আদর্শ মেনে চললে শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠিত হতে বাধ্য।

তথসূত্র

  • নূরনবী (লেখকঃ অধ্যক্ষ মাওলানা এম এ জলিল (রহঃ), এম এম, প্রাক্তন ডাইরেক্তর, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ)