ভাগিনাদ্বয়ের শাহাদাত

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
কারবালার ইতিহাস


















  • ভাগিনাদ্বয়ের শাহাদাত













চার ভাতিজার শাহাদাতের পর তাঁর আপন বোন হযরত যয়নাব (রাঃ) তাঁর দুই অবুঝ সন্তান হযরত মুহম্মদ এবং হযরত আউনকে নিয়ে তাঁর সামনে উপস্থিত হয়ে বললেন, ভাইজান! আপনার এ ভাগিনাদ্বয়ও আপনার জন্য জান কুরবান করতে প্রস্তুত। হযরত ইমাম হুসাইন (রাঃ) বললেন, বোন! এদেরকে তীরের আঘাত খাওয়ার জন্য সাথে আনা হয়নি। আমার সামনে তাঁদেরকে বর্শার অগ্রভাগে ঝুলানো হবে, তা আমার সহ্য হবে না। তুমি তাঁদেরকে নিয়ে যাও এবং আশ্রয় শিবিরে গিয়ে অবস্থান করো।’ বোন বললেন, ভাইজান! কক্ষনো তা হতে পারে না, আমি চাই আমার সন্তানদ্বয় আপনার জন্য কুরবান হোক। আমি যেন জান্নাতুল ফিরদাউসে গিয়ে আমার আব্বাজানকে বলতে পারি, আমার দু’টি ছেলেকেও আপনার সন্তানের জন্য কুরবানী দিয়েছি। তাই আপনি এদেরকে বুকে জড়িয়ে ধরুন এবং বিদায় দিন।

বোনের বার বার আকুতি-মিনতির কারণে তিনি তাঁদেরকেও যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠালেন। হযরত যয়নাব (রাঃ) তাঁর নয়নমণি ও জানের জান সন্তানদের প্রতি নিজের অগাধ মায়া-মমতাকে ধামাচাপা দিয়ে সন্তানদ্বয়কে বিদায় দিলেন। এ কঁচি ছেলেদ্বয় বেশি দূর অগ্রসর হতে পারল না। ইয়াযীদী বাহিনীর যালিমেরা এসে তাঁদেরকে বর্শার অগ্রভাগে উঠিয়ে নিল।

হযরত ইমাম হুসাইন (রাঃ) এ দৃশ্য দেখে দৌঁড়ে গেলেন এবং ভাগিনাদ্বয়ের লাশ কাঁধে নিয়ে আশ্রয় শিবিরের কাছে এনে রাখলেন এবং বোনকে ডাক দিয়ে বললেন, ওহে জয়নাব! তোমার আরজু পূরণ হলো। তোমার সন্তানদ্বয় জান্নাতুল ফিরদাউসে পৌঁছে তৃষ্ণা নিবারণ করছে। মা শহীদ ছেলেদ্বয়ের পাশে দাঁড়িয়ে নীরবে চোখের পানি ফেললেন এবং ছেলেদের মাথার চুলে আঙ্গুল বুলিয়ে বুলিয়ে বললেন, বাবারা! তোমাদের প্রতি তোমাদের মা খুবই সন্তুষ্ট। তোমরা তোমাদের মামার জন্য জান-কুরবান করেছ এবং জান্নাতুল ফিরদাউসে পৌঁছে গেছ। [1]

তথ্যসূত্র

  1. কারবালা প্রান্তরে(লেখকঃ খতিবে পাকিস্তান হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ শফী উকাড়বী(রহঃ))