মহিলাদের চেহারা না ঢাকলেও পর্দা হয়ে যাবে - ভুল ফতোয়া

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
সারাবিশ্বে প্রতিক্রিয়া
প্রশ্নঃ আমার নাম বিমলা । আমি একজন এডভোকেট । আমার প্রশ্ন হল, ইসলামে নারী পুরুষের সমান অধিকার থাকা সত্ত্বেও মহিলাদেরকে পর্দার বিধান কেন দেয়া হয়েছে ? এটা কি তাঁদের মধ্যে বৈষম্য নয় ?
জাকির নায়েকের উত্তরঃ

বোন খুব ভাল একটা প্রশ্ন করেছেন যে, ইসলাম নারী পুরুষের সমান অধিকারের প্রবক্তা হওয়া সত্ত্বেও নারীদের জন্য পর্দা প্রথায় কেন বিশ্বাস করে ?... জওয়াবের ধারাবাহিকতার এক পর্যায়ে ডাঃ জাকির নায়েক বলেন, নারীদের হিজাব পালনের জন্য ছয়টি শর্ত আছে যা কুরআন-হাদিস থেকে জানা যায় । প্রথম শর্ত হলঃ মহিলারা নিজেদের চেহারা এবং হাত ছাড়া তাঁদের পুরা শরীর ঢেকে রাখবে । তবে তারা যদি এই দুটি অঙ্গকেও ঢাকতে চায় তাহলে ওয়েলকাম কিন্তু তাঁদের জন্য জরুরী নয় যে, এই দুই অঙ্গ অবশ্যই ঢাকতে হবে । বরং হাত কব্জি পর্যন্ত আর মুখন্ডল দেখার অনুমতি আছে । (খুতবাতে জাকির নায়েক, ফরীদ বুক ডিপো, দিল্লি, ১/৩২৬)

পর্যালোচনাঃ

ডাঃ জাকির নায়েকের সাথে এখানেই আমাদের মতবিরোধ । পর্দা সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তর দিতে যেয়ে তিনি বললেন, চেহারা না ঢাকলেও কোন অসুবিধা নেই । এবার আসুন আমরা চিন্তা করে দেখি পর্দার উদ্দেশ্য কি ? পর্দার উদ্দেশ্য হচ্ছে নারীর উন্মুক্ত সৌন্দর্যে আসক্ত হয়ে কোন পুরুষ যেন তাঁর প্রতি লোলুপ দৃষ্টি নিক্ষেপ না করে । আর এভাবে যেন সমাজ কলুষিত না হয় । একথা সর্বজনবিদিত যে, চেহারাই হচ্ছে নারীর সৌন্দর্যের মূল । চেহারা দেখেই তাঁর প্রতি পুরুষ আকৃষ্ট হয় । এখন সমস্ত শরীর ঢেকে সেই চেহারাই যদি খোলা রাখা হল তাহলে শরীর আবৃত করার জন্য তো তাঁর সাধারণ পরিধেয় কাপড়ই যথেষ্ট ছিল । আলাদা করে পর্দা করার কথা বলার কি প্রয়োজন ছিল ? আর তর্কের খাতিরে যদি মেনেও নেয়া হয় যে, কোন কোন সাহাবী থেকে তো চেহারা খোলা রাখার কথা বর্নিত আছে, তাহলে আমাদেরকে দেখতে হবে সমস্ত সাহাবায়ে কেরামের আমল কিরূপ ছিল । পর্দার বিধান নাযিল হওয়ার পর থেকে কোন মহিলা সাহাবীর কি এমন একটা ঘটনাও খুঁজে পাওয়া যাবে যার দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, তাঁর চেহারা খোলা ছিল ? কুরআন হাদীস সাহাবায়ে কেরামের সামনে নাযিল হয়েছিল, তারা যে ব্যাখ্যা বুঝেছেন এবং আমল করেছেন আমাদেরকেও সেটা অনুসরণ করতে হবে । এবার আমরা পর্যালোচনা করে দেখি চেহারা ঢাকা সম্পর্কে কুরআন হাদিস কি বলেঃ

পর্দার ব্যাপারে কুরআনের বিধান

(১)আল্লাহ্‌ তা'আলা ইরশাদ করেন

وَإِذَا سَأَلْتُمُوهُنَّ مَتَاعًا فَاسْأَلُوهُنَّ مِن وَرَاءِ حِجَابٍ
তোমরা তাঁর পত্নীগণের কাছে কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাইবে।

— সূরা আহযাব, আয়াত ৫৩

এ আয়াতের শানে নুযূলের বর্ননায় বিশেষভাবে নবী-পত্নীগণের উল্লেখ থাকলেও এ বিধান সমগ্র উম্মতের জন্য নাযিল হয়েছে । (মা’আরিফুল কুরআন-৭/১৩১)
উক্ত আয়াতের বিধানের সারমর্ম এই যে, বেগানা মহিলাদের নিকট থেকে পরপুরুষদের কোন ব্যবহারিক বস্তু, পাত্র ইত্যাদি নেয়া জরুরী হলে পুরুষগণ সামনে এসে নিবে না; বরং আড়াল থেকে চাইবে । আরও বলা হয়েছে যে, পর্দার এই বিধান পুরুষ ও নারী উভয়ের অন্তরকে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে পবিত্র রাখার উদ্দেশ্যে দেয়া হয়েছে । (সূরা আহযাব, আয়াত ৫৩)
এখানে প্রানিধানযোগ্য বিষয় এই যে, উক্ত আয়াতে রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর পুণ্যাত্মা পত্নীগণকে পর্দার বিধান দেয়া হয়েছে, যাদের অন্তরকে পাক-সাফ রাখার দায়িত্ব আল্লাহ্‌ তা’আলা স্বয়ং গ্রহণ করেছেন, যেমন ইরশাদ হয়েছে-

তিনি কেবল তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে পূর্নরুপে পূত-পবিত্র রাখতে চান ।

— সূরা আহযাব-৩৩

অপরদিকে যেসব পুরুষকে সম্বোধন করে এই বিধান দেয়া হয়েছে, তারা হলেন রাসূলে করীম (সঃ)এর সাহাবায়ে কেরাম, যাদের মর্যাদা নবীগণের (আঃ) পরে সকলের উর্ধে । সকল মুসলমান, গওস, কুতুব ও আবদালের মর্তবা একজন সর্বনিম্ন মর্যাদার সাহাবীর সমান হতে পারে না, এ কথার উপর উম্মতের ইজমা হয়ে গেছে; কিন্তু এতদসত্তেও তাঁদের আন্তরিক পবিত্রতা রক্ষা এবং শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচার জন্য পুরুষ ও নারী সাহাব (রাঃ)গনের মধ্যে পর্দার ব্যবস্থা করা জরুরী ঘোষনা করা হয়েছে ।

(২) আরো ইরশাদ হয়েছেঃ

(হে মু’মিন মহিলাগন!) তোমরা নিজ গৃহে অবস্থান করবে এবং পূর্বের জাহেলী যুগের ন্যায় নিজেদেরকে প্রদর্শন করে বের হবে না ।

— সূরা আহযাব-৩৩

উক্ত আয়াতে পর্দা সম্পর্কিত আসল হুকুম এই যে, নারীগন গৃহেই অবস্থান করবে অর্থাৎ, জরুরী প্রয়োজন ব্যতীত তারা বাইরে বের হবে না । সাথে সাথে একথাও বলা হয়েছে যে, যেভাবে ইসলামপূর্ব অজ্ঞ ও অন্ধ যুগে নারীরা প্রকাশ্যভাবে বেপর্দায় চলাফেরা করত, তোমরা কখনো সে রকম চলাফেরা কর না। বর্নিত আয়াতে পর্দা সম্পৃক্ত দু’টি বিষয় জানা গেল-
প্রথমতঃ প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ্‌ তা’আলার নিকট নারীদের বাড়ী থেকে বের না হওয়াই কাম্য । গৃহকর্ম তথা গৃহের আভ্যন্তরিন কর্ম সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যেই তাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে । এতেই তারা পুরোপুরি আত্মনিয়োগ করবে । যেমন স্বামীর সেবা যত্ন, সন্তানদের দ্বীনী ও কুরআনী তা’লীম এবং নিজের ইবাদত বন্দেগীই তার জীবনের মূল লক্ষ্য ।
দিতীয়তঃ শর’য়ী প্রয়োজনের তাকীদে যদি নারীকে বাড়ী থেকে বের হতেই হয়, তাহলে তার বের হওয়া জায়েয আছে বটে, তবে শর্ত হল যেন সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে বের হয় বরং চেহারাসহ গোটা শরীর আবৃত করে ফেলে এমন বোরকা অথবা চাদর ব্যবহার করে বের হবে । (মা’আরিফুল কুরআন, ৭/১৩৩)

(৩) কুরআন শরীফে আরো ইরশাদ হয়েছ-

হে নবী পত্নীগন ! (উদ্দেশ্য উম্মতের সকল মহিলা) তোমরা অন্য নারীদের মত নও, যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, তাহলে পরপুরুষের সাথে এমন কোমল ও আকর্ষনীয় ভঙ্গীতে কথা বলো না, যার ফলে যে ব্যক্তির অন্তরে ব্যধি রয়েছে সে কু-বাসনা করবে । আর তোমরা সঙ্গত কথাবার্তা বলন ।

— সূরা আহযাব, আয়াত ৩২

উক্ত আয়াতটিও নারীদের পর্দা সম্পর্কিত, তাঁদের কন্ঠ ও বাক্যালাপ নিয়ন্ত্রন সংক্রান্ত । আয়াতে فَلَا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ এর ব্যাখ্যা হচ্ছে যদি পরপরুষের সাথে পর্দার অন্তরাল থেকে কথা বলা প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়, তাহলে বাক্যালাপের সময় নারী কন্ঠের স্বভাবসুলভ কোমলতা ও লাজুকতা কৃত্রিমভাবে পরিহার করবে । অর্থাৎ, এমন কোমলতা বা শ্রোতার মনে অবাঞ্ছিত কামনা সঞ্চার করে, তার কোন সুযোগ দিবে না । যেমন এর পরে এরশাদ হয়েছে فَيَطْمَعَ الَّذِي فِي قَلْبِهِ مَرَضٌ অর্থাৎ এরুপ কোমল কন্ঠে বাক্যালাপ করো না, যা ব্যধিগ্রস্থ অন্তর বিশিষ্ট লোকের মনে কু-লালসা ও আকর্ষন সৃষ্টি করে ।
মোদ্দাকথা, নারীদেরকে পরপুরুষের থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করে পর্দার এমন উন্নত স্তর অর্জন করা উচিত, যাতে কোন অপরিচিত দূর্বল ঈমান বিশিষ্ট লোকের অন্তরে কোন কামনা ও লালসা সৃষ্টি করা তো দূরের কথা, তার নিকটেও ঘেষবা না । বরং তার বিরুদ্ধে অবস্থা ও পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে । (মা’আরিফুল কোরআন-৭/১৩২)
স্বর্ণযুগের সোনার মানুষ পুন্যাত্মা নবী-পত্নীগনকে যদি স্বর্ণযুগের স্বর্ণমানব সাহাবায়ে কেরামের সাথে পর্দার আড়াল করা সত্ত্বেও কথা বলার ক্ষেত্রে এমন কড়া নির্দেশ দেয়া হয়ে থাকে যে, তাঁদের কন্ঠ ও বাক্যালাপও নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে । তাহলে আধুনিক যুগের নারী-পুরুষদের কি পর্দার প্রয়োজন নেই ? অথবা পর্দার প্রয়োজন থাকলেও তাঁদের কন্ঠ ও বাক্যালাপ নিয়ন্ত্রন রাখার প্রয়োজন নেই ? অবশ্যই প্রয়োজন রয়েছে, যা বলার অপেক্ষা রাখে না; বরং বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষনের পর সে প্রয়োজন আরো তীব্রভাবে অনুভূত হয় ।

পর্দার হুকুম হাদীসের আলোকে

(১)

রাসুলুল্লাহ (সঃ) ইরশাদ ফরমান-খবরদার ! তোমরা বেগানা স্ত্রীলোকের ঘরে প্রবেশ করো না । তখন জনৈক সাহাবী জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ ! স্ত্রী লোকদের জন্য স্বামীর ভাই বেরাদারদের (যেমন- দেবর, ভাসুর, বেয়াই) সম্পর্কে কি নির্দেশ ? নবী করীম (সঃ) ইরশাদ করলেন, তারা তো স্ত্রীর জন্য মৃত্যু তুল্য । অর্থাৎ মহাবিপদ তুল্য ।

— তিরমিযি শরীফ - ১/২২০

উল্লেখিত হাদীসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন বিষয় হল, রাসুলুল্লাহ (সঃ) স্ত্রীর শ্বশুরালয়ে আত্মীয়দেরকে মৃত্যুর সাথে তুলনা করেছেন । মৃত্যুকে মানুষ যেভাবে ভয় পায়, বেপর্দার গুনাহ থেকে বাঁচার জন্য এ সমস্ত আত্মীয়দেরকে তেমন ভয় করতে বলা হয়েছে । তাই মহিলাদের জন্য দেবর, ভাশুর, বেয়াই প্রমুখ শ্বশুরালয়ের সকল গায়রে মাহরাম আত্মীয়দের সাথে কঠোরভাবে পর্দা করা একান্ত অপরিহার্য ।

পর্দা তো সকল পরপুরুষের সাথেই করা অপরিহার্য, কিন্তু শ্বশুরালয়ের আত্মীয়দেরকে মৃত্যুর সাথে তুলনা করা হয়েছে এই কারনে যে, এ সকল আত্মীয়কে আপন মনে করে গৃহের ভিতর প্রশ্রয় দেয়া হয় এবং নিঃসঙ্কোচে খোলামেলাভাবে দেখা-সাক্ষাৎ ও হাসি-তামাশা করা হয় । যার পরিনাম হয় ভয়াবহ ।

বলাবাহুল্য, একজন অপরিচিত পুরুষের পক্ষে কোন বেগানা স্ত্রীলোকের উপর লোলুপ দৃষ্টি নিক্ষেপ করা ততটুকু সহজ হয় না, যতটুকু সহজ হয় এ সকল আত্মীয়ের পক্ষে ।

তাই সকল স্ত্রী লোকদের জন্য জরুরী সর্বপ্রকার পরপুরুষের সাথে পর্দা করার পাশাপাশি এ ধরনের গায়রে মাহরাম পুরুষ আত্মীয়দের থেকে নিজেকে সম্পূর্নরুপে আড়াল করে রাখা । আর এ সমস্ত পুরুষেরও কর্তব্য নিকট আত্মীয়ের বিবিদের থেকে কঠোরভাবে পর্দা করা ।

(২)

উম্মুল মু’মিনীন হযরত সালামা (রাঃ) বর্ননা করেন, আমি এবং মাইমূনা (রাঃ) রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর নিকট উপস্থিত ছিলাম । ইতিমধ্যে অন্ধ সাহাবী হযরত ইবনে উম্মে মাকতুম (রাঃ) সেখানে আসতে লাগলেন । তখন রাসুলুল্লাহ (সঃ) আমাদেরকে বললেন, তোমরা তার থেকে পর্দা কর, আড়ালে চলে যাও । আমি বললাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ ! তিনি তো অন্ধ, আমাদেরকে দেখতে পাচ্ছেন না । রাসূল (সঃ) ইরশাদ করলেন, তোমরাও কি অন্ধ ? তোমরা কি তাকে দেখতে পাচ্ছ না ?

— আবু দাউদ শরীফ - ২/৫৬৮

উক্ত হাদীস দ্বারা এটাই প্রমানিত হয় যে, পর্দা নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই । কোন পুরুষ যেমন কোন পর নারীর প্রতি তাকাতে পারবে না, কোন নারীও তেমনি কোন পর পুরুষের দিকে তাকাতে পারবে না । এখানে সু-দৃষ্টি আর কু-দৃষ্টিরও কোন পার্থক্য নেই । কারন, বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম যেমন একজন পূত পবিত্র স্বভাবের অধিকারী, পূন্যবান মহান বুযুর্গ সাহাবী; অপরদিকে হযরত উম্মে সালামা (রাঃ) (রাঃ) ও মাইমূনা (রাঃ) উভয়ই হলেন উম্মত-জননী এবং প্রিয়তম নবী (সঃ) এর জীবন সঙ্গিনী । সুতরাং, এ ক্ষেত্রে কু-দৃষ্টির কথা চিন্তাই করা যায় না । তারপরও পর্দা করতে আদেশ করা হয়েছে । কাজেই সহজেই অনুমেয় যে, পর্দা কত গুরুত্বপূর্ন বিষয় এবং তা পালন করা কত জরুরী ।

(৩)

রাসুলুল্লাহ (সঃ) আরো ইরশাদ ফরমান

নারী হলো গোপনীয় সত্ত্বা । যখন সে ঘর থেকে বের হয়, তখন শয়তান তার দিকে দৃষ্টি উঁচু করে তাকাতে থাকে ।

— তিরমিযি শরীফ, ১/২২২

অর্থাৎ, পরপুরুষদের নজরে তাকে আকর্ষনীয় করে উপস্থাপন করে । উক্ত হাদিসের ষ্পষ্ট ভাষ্য হলোঃ পর্দার ভিতর থাকাটাই নারীর জন্য শোভনীয় । যদি কোণ নারী ঘর থেকে বের হয়, তখন শয়তান পুরুষদের মনে কু-মন্ত্রনা দেয় এবং মহিলার দ্বারা পুরুষদেরকে ফিতনায় ফেলতে চেষ্টা করে । যেমন এক হাদিসে বর্নিত হয়েছে যে, “মহিলারা শয়তানের জাল ।” (রাযীন)

(৪)

আরো ইরশাদ হয়েছে

হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্নিত যে, হযরত আস্‌মা (রাঃ) একবার পাতলা কাপড় পরিহিতা অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (সঃ) এর নিকট আগমন করলে তিনি তাঁর দিক থেকে চেহারা ফিরিয়ে নেন এবং বলেন, হে আস্‌মা ! কোন মেয়ে যখন সাবালিকা হয় তখন তার মুখমন্ডল ও হাতের কব্‌জি ব্যতীত অন্য কোন অংগ খোলা রাখা জায়েয নাই ।

— আবু দাউদ শরীফ-২/২৬৭

এখানে বেগানা পরপুরুষের কথা উল্লেখ নাই । সুতরাং গৃহে অবস্থানকালে যদি পরপুরুষ না থাকে তাহলে সেখানে মুখমন্ডল ও হাতের কব্জি খোলা রাখায় সমস্যা নেই ।

কিন্তু অন্য বর্ননায় বেগানা পরপুরুষের সামনে মেয়েদের মুখমন্ডল ও হাতের কব্জি খোলা রাখতে নিষেধ করা হয়েছে । (ফাতাওয়ায়ে রাহীমিয়া - ৪/১০৬, কিফায়াতুল মুফতী - ৫/৩৮৮)

যেমন হাদিসে ইরশাদ হয়েছে-

হযরত কায়স ইবনে শামমাস (রাঃ) বর্ননা করেন, এক মহিলা রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর দরবারে এল । তাকে উম্মে খাল্লাদ বলে ডাকা হত । তার মুখ ছিল নেকাবে ঢাকা । সে আল্লাহর পথে তার শহীদ পুত্র সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর নিকট জানতে এসেছিল । তখন তাকে এক সাহাবী জিজ্ঞেস করলেন, তুমি তোমার পুত্র সম্পর্কে জানতে এসেছ, আর মুখে নেকাব । হযরত উম্মে খাল্লাদ (রাঃ) তাকে উত্তরে বললেন, আমি আমার ছেলেকে হারিয়ে এক বিপদে পড়েছি, এখন লজ্জা হারিয়ে তথা মুখমন্ডলসহ গোটা শরীর পর্দা না করে কি আরেক বিপদে পড়ব ?

— আবু দাউদ - ১/৩৩৭

উপরোক্ত হাদীস থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, মেয়েদের পর্দা তথা মোটা ও ঢিলাঢালা কাপড় দ্বারা চেহারাসহ সমস্ত শরীর ঢেকে রাখা জরুরী । পরপুরুষকে শরীরের কোন অংশ তারা দেখাতে পারবে না ।

(৫) অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে

অর্থঃ হযরত বুরাইদা (রাঃ) থেকে বর্নিত, রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেন, হে আলী ! তুমি হঠাত্‌ কোন মহিলার উপর দৃষ্টি পড়ার পর দ্বিতীয়বার ইচ্ছা করে তাকাবে না । কারন প্রথমবার অনিচ্ছাকৃত তাকানো তোমার জন্য মাফ হলেও দ্বিতীয়বার ইচ্ছাকৃত তাকানো মাফ নয় । (আবু দাউদ শরীফ-১/২৯২) চিন্তা করুন ৪র্থ খলিফা এবং চার তরিকা তথা চিশ্‌তিয়া, কাদেরিয়া, নকশাবন্দিয়া ও সোহরাওয়ার্দিয়া সকল পীরের পীর হযরত আলী (রাঃ) । তার জন্য হাদীসে পাকে এ নির্দেশ, তাহলে উম্মতের অন্যান্য পুরুষের জন্য পর্দার হুকুমে যে কত কঠিন হবে, তা তো সহজেই অনুমেয় ।

(৬)

হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন, হজের সফরে আমরা রাসুলুল্লাহ (সঃ)এর সাথে ছিলাম পথিমধ্যে কোন কাফেলার মুখোমুখি হলে আমরা আমাদের চেহারার উপর নেকাব ফেলে দিতাম । অতঃপর তারা অতিক্রম করে গেলে আবার নেকাব তুলে দিতাম । (আবু দাউদ শরীফ)

পর্দা সঙ্ক্রান্ত জরুরী মাসায়েল

মেয়েরা যখন কারীবুল বুলুগ বা বালেগা হওয়ার কাছাকাছি পর্যায়ে পৌছে; অর্থাৎ তারা নিজেরা কামভাব অনুধাবন করতে পারে এবং তাঁদের দিকে তাকালে অন্য পুরুষের মনে কামভাব সৃষ্টি হয়, তখন থেকেই তাঁদের জন পর্দা করা জরুরী হয়ে পড়ে । (আহসানুল ফাতাওয়া, ৮/৩৭)

হাকীমুল উম্মাত মুজাদ্দিলুল মিল্লাত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রঃ) বলেন যে, গায়ের মাহরাম অনাত্মীয় হলে তাঁদের থেকে সাত বছরের আগে থেকেই পর্দা করা উচিত এবং গায়ের মাহরাম আত্মীয় হলে সাত বৎসর থেকেই পর্দা করা উচিত । কারন অনেক ক্ষেত্রে সাবালিকা মহিলা সামনে আসা-যাওয়া করাতে এ পরিমান ফিতনার আশঙ্কা নেই, যে পরিমান আশঙ্কা থাকে কারীবুল বুলুগ মেয়েদের সামনে আসা যাওয়া করাতে । (ইসলাহে খাওয়াতীন-৩৭২)

তথ্যসূত্র

  • ডাঃ জাকির নায়েকের ভ্রান্ত মতবাদ (লেখকঃ মুফতী মীযানুর রহমান কাসেমী)