মাছবুক নামাজ চলাকালীন এলান দেয়া জায়েজ কিনা ?

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
উত্তরঃ

ফরজ নামাযের পর সুন্নাত নামাজ থাকলে যেখানে মুনাযাত সংক্ষেপ করা শরীয়তে বিধান আছে। সেখানে কোন এলান বা ঘোষণা দেয়া মাকরুহ হবে । যেখানে মুনাযাত লম্বা করা মাকরুহ, সংক্ষেপ করা বিধেয়, সেখানে উক্ত ফরজ নামাযের পরে সুন্নাত নামাজ থাকলে কোন এলান বা ঘোষণা দেওয়া আরও মাকরুহ কাজ । ইমান আমলের বয়ান হবে বাকি নামাজ শেষে বসি, ইনশাআল্লাহ বহুত ফায়দা হবে । এই বলে এলান দেওয়া বা কোন ঘোষণা দেওয়া অথবা যে কোন ব্যাপারে চাঁদা তোলা শক্ত বেদাত ও মাকরুহ কাজ । উল্লেখ্য যে, নামাযির পার্শে বা নিকটে যেখানে সজোরে কোরআন তেলাওয়াত, জিকির, নিষেধ সেখানে উক্ত রূপ এলান্ বা ঘোষণা দান কালে মাছবুক নামাজীরও কানে এলানের আওয়াজ পৌঁছায় । ফলে মনোযোগ ভঙ্গ হয়ে যায় । অথচ প্রত্যহ ফরজ নামাযের পর এলান্ দেয়া ফরজ সুন্নাত, মোস্তাহাব কিছুই নয় । বরং নামাযির নামাজ মনোনিবেশ সহকারে আদায় করা ফরয। নবী কারীম (সাঃ) বলেছেন লা ছলাতা ইল্লা বি হুজুরিল ক্বালবে অর্থাৎ মনের উপস্থিতি ছাড়া নামাজ হয় না

সুতরাং নামাযির নামাজরত অবস্থায় মনোযোগ ভঙ্গকারী এমন ঘোষণা বা এলান্ দাতা গুনাহগার হয়ে যাবে । অপর দিকে মুসাল্লিরও নামাযে ছুরা কেরায়াত পাঠ করায় বিঘ্ন ঘটে যাবে এরুপে অপরের নামায বা এবাদতে বাধা বিঘ্ন ঘটিয়ে এলান্ দেওয়ার বিধান বা বয়ান করার বিধান, তেলাওয়াত ও জিকিরের বিধান ইসলামী শরিয়তে কোথাও নেই বরং এটাও বেদাত ও শক্ত মাকরুহ কাজ। এ বিষয়ে আল্লাহপাক সুরা বাকারার ১১৪ নং আয়াতে উল্লেখ করেন-

যে ব্যক্তি আল্লাহর মসজিদ সমূহে তাঁর নাম উচ্চারণ করতে (সালাত আদায় করতে) বাধা প্রদান করে তার চাইতে বড় জালেম আর কে হতে পারে ?

— সুরা বাকারার, আয়াত ১১৪

এর দ্বারা প্রমানিত যে, মসজিদে নামাজির নামাজে ও জিকিরে বাধা দেওয়ার যত পন্থা আছে তা সবগুলোই হারাম ।-(মাআরিফুল কুরআন)


অন্য আমলকারীর নিকট উচ্চ স্বরে তেলওয়াত, সজোরে জিকির নিষিদ্ধ । বয়ান এবং এলান করা আরও নিষিদ্ধ । এ কারণে খফি (গোপন) জিকিরকারীর নিকট সজোরে তেলাওয়াত ও জিকির করা নিষেধ। বয়ান করা, এলান দেওয়া আরও শক্ত নিষেধ এবং গুনাহ ।

— ফতোয়ায়ে আলমগিরি, ফতোয়ায়ে এমদাদিয়া ৪র্থ খন্ড ৫৮ পৃঃ

[1]

তথ্যসূত্র

  1. প্রশ্নোত্তরে দোয়ার আহ্‌কাম (লেখকঃ মাওলানা মুহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম, এম, এম) (ক্রয় ০১১৯৯৪৩৫৭৩৮)