মা’জুর ব্যক্তির পবিত্রতা

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
  • যদি কোন ব্যক্তির সব সময় পেশাব বের হয়, রক্ত পড়ে, ক্ষতস্থান থেকে পুঁজ বা রস ঝরে, অবিরত দাস্ত বমি হয়, মলদ্বার থেকে বায়ু নির্গত হয় অথবা মেয়েদের এস্তেহাজার রক্তস্রাব বা শ্বেত প্রদরস্রাব হতে থাকলে যদি একবার অজু করলে সে অজু দিয়ে ফরজ নামাজ আদায় করতে না পারে, তাকে মাজুর বলে গন্য করা হবে।
  • মাজুর ব্যক্তি একবার অজু করলে এক ওয়াক্ত পর্যন্ত অজু থাকবে। এক ব্যক্তির সব সময় পেশাব হয়। তার পেশাব ভিন্ন অন্য কোন কারণে যেমন- পায়খানা, বায়ু, পুজ, রস বের হলে কিংবা অন্য কোন অজু ভঙ্গের কারণ ঘটলে অজু ভঙ্গ হবে। পেশাব ভিন্ন অন্য কোন কারণ না হলে অজু ভঙ্গ হবে না। অন্যান্য ওজরের বেলায়ও ঐ একই নিয়ম।
  • মাজুর ব্যক্তি প্রতি ওয়াক্তে নতুন অজু করে সে অজু দিয়ে ঐ ওয়াক্তের ফরজ, ছুন্নাত ও নফল নামাজ পড়তে পারবে। এমনকি কোরআন তেলাওয়াত, দুরুদ বা জেকের আজকারও করতে পারবে। ওয়াক্ত শেষ হওয়ার সাথে সাথে তার অজু ভেঙ্গে যাবে। সে আগের অজুতে অন্য ওয়াক্তের কোন নামাজ পড়বে না। পড়লে নামাজ আদায় হবে না।
  • কোন ওয়াক্তের প্রথম হতে শেষ পর্যন্ত পুরা সময় ওজরের অবস্থা প্রকাশ পেলে মাজুর হিসেবে গন্য হবে। যদি সম্পুর্ণ ওয়াক্ত ওজর প্রকাশ না পায় তবে মাজুর হিসেবে গণ্য হবে না। কোন ব্যক্তির জোহর ওয়াক্তের কিছু সময় চলে যাওয়ার পর ওজর প্রকাশ পেলে সে মাজুর হিসেবে অজু করে ঐ ওয়াক্তের নামাজ আদায় করবে। এরপর সম্পুর্ণ আছর ওয়াক্তের মধ্যে তার ওজর প্রকাশ না পেলে সে মাজুর হিসেবে গন্য হবে না। ফলে তার আগের জোহরের নামাজ যা সে মাজুর হিসেবে পড়েছিল, শরীয়তের হুকুম অনুযায়ী তা আদায় হবে না। এ কারণে পুনরায় জোহরের নামাজ কাজা আদায় করে নেবে। অন্য ওয়াক্তের বেলায়ও একই হুকুম।
  • ওজর না থাকা অবস্থায় অজু করার পর পুনরায় ওজর প্রকাশ পেলে ঐ অজুতে নামাজ হবে না। নামাজের জন্য পুনরায় অজু করতে হবে।
  • যদি কাপড়ে ওজরের নাপাকী যেমনঃ এস্তেহাজার রক্ত বা পুঁজ ইত্যাদী লাগে, তবে-
ক) যদি তা এক দেরহাম অর্থাৎ হাতের তালু সোজা রাখলে যে পরিমাণ পানি থাকে এর চেয়ে বেশী হয় তা ধোয়া ফরজ।
খ) যদি এক দেরহাম পরিমাণ হয় তা ধোয়া ওয়াজেব।
গ) এক দেরহামের কম হলে ধোয়া মোস্তাহাব।
  • এস্তেহাজা অর্থাৎ প্রদর বা ধাতুভাঙ্গা রোগ বন্ধ হলে অজু করার পর এক ওয়াক্তের নামাজ পড়লো। যদি পরবর্তী ওয়াক্ত পর্যন্ত এস্তেহাজা বন্ধ থাকে তবে ঐ অজুতে পরের ওয়াক্তের নামাজ পড়তে পারবে।
ক) দাড়িয়ে নামাজ পড়লে যদি ওজর প্রকাশ পায় কিন্তু বসে পড়লে তা বন্ধ থাকে তবে বসে নামাজ পড়বে।
খ) যদি বসে ইশারায় নামাজ পড়লে ওজর বন্ধ থাকে তবে বসে ইশারায় নামাজ পড়বে।
গ) যদি শুয়ে নামাজ পড়লে ওজর বন্ধ না হয় তবে না শুয়ে দাড়িয়ে রুকু ছেজদা করে নামাজ আদায় করবে।
  • যদি ওজর বন্ধ করে নামাজ পড়া যায় তবে তা বন্ধ করে নামাজ পড়া ওয়াজেব। যেমনঃ যখম পট্টি দিয়ে বন্ধ করা, এস্তেহাজা কাপড় দিয়ে বন্ধ করা। যদি বন্ধ না করে নামাজ পড়ে তাহলে সে নামাজ আদায় হবে না।
মনে রাখুনঃ
নামাজের মধ্যে পট্টি শুকিয়ে পড়ে গেলে। অথবা
মাজুর অবস্থায় নামাজ শুরু করার পর ওজর দূর হয়ে গেলে নামাজ ফাছেদ হবে। এ কারণে পুনরায় অজু করে নামাজ আদায় করতে হবে।

তথ্যসূত্র

  • নামাজ প্রশিক্ষণ (লেখকঃ মাহবুবুর রহমান, প্রাক্তন উপাধ্যক্ষ, প্রতাপনগর আবূবকর সিদ্দিক ফাজিল মাদ্রাসা, সাতক্ষীরা)